কৃষি ঋণে খেলাপি ৫২৪১ কোটি টাকা

মেহেদী হাসান

0
52
টাকা-

বড় ঋণের পাশাপাশি ক্ষুদ্র মাঝারি এমনকি কৃষি ঋণেও খেলাপির ছোয়া। সদ্য সমাপ্ত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে কৃষি খাতে ২০ হাজার ৯৯৯ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকগুলো। যার মধ্যে খেলাপি হয়েছে ৫ হাজার ২৪১ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এর আগের অর্থবছর শেষে কৃষি খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ১২৪ কোটি টাকা। এ হিসেবে একবছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ১ হাজার ১১৬ কোটি টাকা।

টাকা-

খেলাপি হওয়া ৫ হাজার ২৪১ কোটি টাকা কৃষি ঋণের রাষ্ট্রায়ত্ত ৮ ব্যাংকেরই ৫ হাজার ১০১ কোটি টাকা। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে কৃষি ঋণ বিতরণে সবচেয়ে বেশি খেলাপি সোনালী ব্যাংকের। বিদায়ী অর্থবছরে ব্যাংকটি নতুন ঋণ বিতরণ করেছে ১ হাজার ১৮৭ কোটি টাকা। কিন্তু সোনালীর (আউটস্ট্যান্ডিং) চলমান খেলাপির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৩১৯ কোটি টাকায়। যা মোট ঋণের ২৪ দশমিক ২৮ শতাংশ।

একইভাবে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ঋণ বিতরণ ১ হাজার ৬৭২ কোটি টাকা। চলমান খেলাপি প্রায় ৮৩৯ কোটি টাকা। যা মোট ঋণের ২০ দশমিক ৫১ শতাংশ। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ঋণ প্রায় ৪ হাজার ৯৩২ কোটি টাকা। চলমান খেলাপি প্রায় ২ হাজার ৪৩৭ কোটি টাকা। যা মোট ঋণের ১৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

এছাড়া অগ্রণী ব্যাংকের ৬৩১ কোটি টাকা কৃষি ঋণের বিপরীতে খেলাপি প্রায় ১৮৬ কোটি টাকা। যা মোট ঋণের ১৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ। বেসিকের প্রায় ২২৪ কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে প্রায় খেলাপি ৩৩ কোটি টাকা। যা মোট ঋণের ১১ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং রূপালীর প্রায় ২৯৬ কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে প্রায় খেলাপি ২৯ কোটি টাকা। যা মোট ঋণের ৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এছাড়া বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলোর খেলাপির পরিমাণ প্রায় ১৪০ কোটি টাকা। এসব ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিতরণের পরিমাণ ছিল ১১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। বিতরণকৃত ঋণের মধ্যে খেলাপি ১ দশমিক ৩০ শতাংশ।

এদিকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে কৃষি খাতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এ অর্থবছরে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৭ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। ৫৭টি ব্যাংক এসময়ে বিতরণ করেছে ২০ হাজার ৯৯৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। এর আগের অর্থবছরেও কৃষি খাতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭ দশমিক ৬০ শতাংশ ঋণ বিতরণ বেশি ছিল।

গত অর্থবছরে কৃষি খাতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রাষ্ট্রীয় ৮টি ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ হাজার ২৯০ কোটি টাকা। বছর শেষে রাষ্ট্রীয় মালিকানার এসব ব্যাংক ৯ হাজার ৬৯৮ কোটি টাকা বিতরণ কয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার ১০৪ দশমিক ৪০ শতাংশ। আর বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলোর জন্য ৮ হাজার ২৬০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা ছিল। এর মধ্যে বেসরকারি ব্যাংকগুলো নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ হাজার ৮২৭ কোটি টাকা ও বিদেশি ব্যাংকগুলোর জন্য ৪৩৩ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলো উল্লিখিত সময়ে ১১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা কৃষিঋণ বিতরণ করেছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৬ দশমিক ৮১ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে,  কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জোর তৎপরতা এবং ব্যাংকগুলোর উদ্যোগের কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। অগ্রাধিকার খাত হিসেবে এ খাতে ঋণ বিতরণ বাড়াতে বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকগুলোর প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। আর ব্যাংকগুলোর দেয়া লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ঋণ বিতরণ না হলে জরিমানারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব কারণেই কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ বেড়েছে।

তবে এ ঋণে খেলাপী বেড়ে যাওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ অর্থসূচককে বলেন, কৃষি ঋণে খেলাপিতে প্রকৃত কৃষকের দোষ নেই। তারা অনিয়ম-দুর্নীতি করে না। বরং কিছু অসাধু ব্যাংক কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী যোগসাজশ করে কৃষকদের ফাঁসায়।

তিনি বলেন, কৃষি ঋণের নামে বড় বড় কোল্ড স্টোরেজে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। এসব বন্ধ করতে হবে। এ জন্য আবার প্রকৃত কৃষকদের বঞ্চিত করা যাবে না। তাদেরকে ঋণ দিতে হবে।

অর্থসূচক/মেহেদী/এস