টুথপেস্ট এর বিকল্প রান্নাঘরেই

অর্থসূচক ডেস্ক

0
159

দাঁত ব্রাশ ছাড়া একদিনও থাকা সম্ভব, দাঁত বাঁচাতে রোজ ২ বার ব্রাশ করতেই হবে। কিন্তু এদিকে গবেষণায় যে দেখা গেছে টুথপেস্টে রয়েছে মাত্রাতিরিক্ত ক্ষতিকর পদার্থ।

বিশ্বজুড়ে শরীরের উপর টুথপেস্টের খারাপ প্রভাব সম্পর্কে একাধিক গবেষণা হয়েছে। আর সবকটিতেই একটি বিষয় লক্ষ করা গেছে, টুথপেস্ট বানাতে বহুজাতিক কেম্পানিগুলি সোডিয়াম লরেল সালফেট, ফ্লরাইড, ট্রিকোলসাম এবং আর্টিপিসিয়াল সুইটনার-এর মতো উপাদান ব্যবহার করছে, যা শরীরের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকারক। যেমন সোডিয়াম লরেল সালফেটের কথাই ধরুন না। ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত একটি আন্তর্জাতিক স্টাডি অনুসারে এই উপাদানটি আমাদের স্বাদ গ্রন্থিদের নষ্ট করে দেয়। সেই সঙ্গে স্কিন ইরিটেশন, এমনকী ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়।

কাজেই টুথপেস্টের বিকল্প হিসেবে একাধিক ঘরোয়া উপাদানকে ব্যবহার করা যেতে পারে। বোল্ডস্কাই ডটকম অবলম্বনে তেমন কিছু পরামর্শ দেওয়া হলো…

১. বেকিং সোডা
দাঁতকে ভেতর এবং বাইরে থেকে সুস্থ রাখতে এই উপাদানটির কোনো বিকল্প হয় না বললেই চলে। ২০০৮ সালে জার্নাল অব ক্লিনিকাল ডেন্টিস্ট্রিতে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট অনুসারে দাঁতকে মজবুদ করার পাশাপাশি হলুদ ভাব কাটাতে বেকিং সোডা দারুনভাবে কাজে আসে। এক্ষেত্রে ব্রাশটা অল্প করে ভিজিয়ে নিয়ে বেকিং সোডার মধ্যে একটু ঘষে নিয়ে সেই ব্রাশ দিয়ে দাঁত মাজতে শুরু করে দিন। তবে খেয়াল রাখবেন বেকিং সোডা দিয়ে দাঁত মাজার পর ৩০ মিনিট কোনো খাবার খাওয়া চলবে না।২.হলুদ
দাঁতের স্বাস্থ্যকে ভাল রাখতে শতাব্দী প্রচীন এই ভারতীয় মশলাটি দারুন উপকারে লাগে। আর সবথেকে ভালো দিক হল হলুদ শরীরের পক্ষে খুবই উপকারি, তাই দাঁত মাজতে মাজতে যদি একটু হলুদ যদি পেটেও চলে যা, তাহলেও কোনো চিন্তা নেই। একটা বাটিতে অল্প করে হলুদ নিয়ে তাতে কয়েক ফোঁটা সরষের তেল মিশিয়ে ভালো করে মেখে নিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে ফলুন। তারপর সেটি ব্রাশে লাগিয়ে দাঁত মাজুন। আরেকভাবেও দাঁতের সুরক্ষায় হলুদকে কাজে লাগানো যেতে পারে যেমন- এক গ্লাস পানিতে পরিমাণ মতো হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে নিন ভালো করে। তারপর সেই পানি দিয়ে মুখ কুলকুচি করুন। কম করে ৩০ সেকেন্ড পানি মুখে রেখে ফেলে দিন।

৩. নারকেল তেল
অ্যান্টিফাঙ্গাল এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদানে সমৃদ্ধ এই প্রকৃতিক উপাদানটি দাঁতকে পোকা লাগার হাত থেকে যেমন রক্ষা করে, তেমনি মাড়ির স্বাস্থ্যের উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই বহুদিন পর্যন্ত দাঁতকে সুন্দর রাখতে পেস্টের পরিবর্তে নারকেল তেল ব্যবহার করতেই পারেন। এক্ষেত্রে এক চামচ নারকেল তেল মুখে ফেলে কম করে ১৫ মিনিট কুলকুচি করুন। সময় হয়ে গেলে ফেলে দিয়ে পরিষ্কার জল দিয়ে আরেকবার কুলকুচি করে নিন। ব্যাস তাহলেই চলবে। ৪. লবণ
একেবারেই ঠিক শুনেছেন। আপনি চাইলে লবণকে কাজে লাগিয়েও দাঁতকে সুস্থ-সুন্দর রাখতে পারেন। এক্ষেত্রে ব্রাশটা একটু পানিতে ভিজিয়ে নিয়ে লবণের মধ্যে ঘষে নিন। তারপর সেই ব্রাশটা দিয়ে দাঁত মাজুন। এই পদ্ধতিকে কাজে লাগিয়ে দিনে একবার ব্রাশ করলেই দেখবেন দাঁত নিয়ে আর কিছু ভাবতে হবে না। প্রসঙ্গত, লবণে সঙ্গে সম পরিমাণে বেকিং সোডা মিশিয়েও দাঁত মাজতে পারেন। এমনটা করলে দারুন উপকার পাওয়া যায়।

৫. কমলা লেবুর খোসা
২০১০ সালে আমেরিকান জার্নাল অব ডেন্টিস্ট্রিতে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট অনুসারে কমলা লেবুর খোসায় উপস্থিত ভিটামিন সি সহ একাধিক পুষ্টিকর উপাদান দাঁতকে পোকা লাগার হাত থেকে রক্ষা করে। সেই সঙ্গে হলুদ ভাব কমাতেও সাহায্য করে। এক্ষেত্রে লেবুর খোসা সরাসরি দাঁতে ঘষতে পারেন। আর যদি এমনটা করতে ইচ্ছা না করে তাহলে খোসাটা শুকিয়ে নিয়ে গুঁড়ো করে নিতে পারেন। তারপর সেই গুঁড়ো ব্রাশে লাগিয়েও দাঁত মাজতে পারেন।

অর্থসূচক/ টি এম/টি