বন্দরে কন্টেনার উঠা-নামা বাড়লেও আয় কমেছে সা’পোর্টের

0
63
Summit Aliance port

Summit Aliance portদেশে আমদানি ও রপ্তানি পণ্যবাহী কন্টেনারের আসা-যাওয়া বাড়লেও আয় বাড়ছে না এ খাতের সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান সামিট অ্যালায়েন্স পোর্টের। উল্টো কোম্পানিটির আয় দিন দিন কমছে। মুনাফা বাড়ানোর আশ্বাস দিয়ে একই মালিকের অপর প্রতিষ্ঠান ওশেন কন্টেনারকে অধিগ্রহণ করা হলেও বিনিয়োগকারীদের ভাগ্য পরিবর্তন হয় নি। কোম্পানিটি এবার আগের বছরের চেয়েও কম মুনাফা দেখিয়েছে। লভ্যাংশও দিয়েছে কম।

২০১২ সালেও কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস ছিল ১ টাকার উপর। গত বছর দুটি কোম্পানি একীভূত হওয়ার পর ইপিএস বাড়ার পরিবর্তে আরও কমে ১ টাকার নিচে নেমে এসেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে প্রাপ্ত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১২ সালে সামিট পোর্টের ইপিএস ছিল ১ টাকা ৩৫ পয়সা। আর ২০১৩ সালে ইপিএস হয়েছে ৮৮ পয়সা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির ইপিএস কমেছে ৪৭ পয়সা বা প্রায় ৩৫ শতাংশ। অথচ ওই বছর চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে কন্টেনার আসা-যাওয়ার পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। ২০১২ সালে এ বন্দর ১৪ লাখ ইউনিট কন্টেনার হ্যান্ডলিং করে। পরের বছর (২০১৩) তা বেড়ে হয় ১৫ লাখ ৪০ হাজার। মোট কন্টেনার হ্যান্ডলিংয়ের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় কোম্পানিটির আয়ও বেড়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু কোম্পানিটির আয় না বেড়ে উল্টো কমেছে।

চার বছর আগে সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে বাজারে আসার পর থেকেই কোম্পানিটির ইপিএস ধারাবাহিকভাবে কমছে। বাজার আসার পর প্রথম দিকে এ কোম্পানির ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ার ৩০০ টাকার বেশি দরে কেনা-বেচা হয়েছে। এভাবে নিজেদের অংশের শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে কয়েকশ কোটি টাকা তুলে নিয়ে যায় সামিট গ্রুপ। সাবেক বাণিজ্য মন্ত্রী ফারুক খান ও তার ভাই আজিজ খানের পারিবারিক এ কোম্পানির ইপিএস তালিকাভুক্তির পর থেকেই কমতে থাকে।

২০০৯ সালে কোম্পানিটি ইপিএস দেখিয়েছিল ৪ টাকা ২ পয়সা। পরের বছর তা কমে হয় ২ টাকা ১২ পয়সা। ২০১১ সালে ইপিএস আরও কমে প্রতিষ্ঠানটির; দাঁড়ায় ১ টাকা ৪৪ পয়সা। এর পরের বছর এটি ১ টাকা ৩৫ পয়সায় নামে। আর গত বছর (২০১৩) এটি কমে হয় ৮৮ পয়সা। সরাসরি তালিকাভুক্তির সময় ৪ টাকা ইপিএস দেখিয়ে ৩০০ টাকা দরে শেয়ার বিক্রির পর আয়ের পাশাপাশি বাজার দরও কমেছে। রোববার এর শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে ২৮ টাকা দরে।