কমিটি গঠন ছাড়া অগ্রগতি নেই আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে

সরকারি কোম্পানির শেয়ার বিক্রি

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
55
Share-Taka
শেয়ার ও টাকা-প্রতীকী ছবি

সরকারি কোম্পানির শেয়ার বিক্রি সংক্রান্ত এবারের বৈঠকেও তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। পাওয়া যায়নি ন্যুনতম একটি কোম্পানির শেয়ার বিক্রির নিশ্চয়তা। বরং বৈঠকে উপস্থিত বেশিরভাগ কোম্পানির প্রতিনিধি বাজারে না আসার ব্যাপারে নানা অজুহাত দেখিয়েছেন। বৈঠক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

সরকারি ২৬ কোম্পানির শেয়ার বিক্রি নিয়ে আলোচনা করতে আজ বুধবার আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক আহ্বান করেছিল অর্থমন্ত্রণালয়। অর্থমন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। বৈঠকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ও রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবির প্রতিনিধিও বৈঠকে অংশ নেন।

আলোচিত কোম্পানিগুলোর সামগ্রিক অবস্থা, বাজারে আসার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি ও বাধা পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় কৌশল সম্পর্কে সুপারিশ করতে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। কমিটিকে আগামী এক বছরের মধ্যে রিপোর্ট দিতে হবে।

Share-Taka
শেয়ার ও টাকা-প্রতীকী ছবি

অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরীকে প্রধান করে এ কমিটি গঠিত হবে। এতে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও দপ্তরের প্রতিনিধিরা সদস্য থাকবেন।

অন্যদিকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ তার মন্ত্রণালয়ের অধীন কোম্পানিগুলোকে আগামী এক বছরের মধ্যে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ঢেলে সাজানোর নির্দেশ দেন।

বুধবারের বৈঠকে উপস্থিত বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধি তাদের কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করার ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। বেশিরভাগ কোম্পানির প্রতিনিধি যুক্তি দেখান, তাদের কোম্পানি লোকসানে আছে। তাই তাদের পক্ষে বাজারে আসা সম্ভব হচ্ছে না।

তাদের যুক্তির প্রেক্ষিতে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী প্রশ্ন করেন, বেসরকারি কোম্পানিগুলো মুনাফা করতে পারছে, কিন্তু তারা (সরকারি কোম্পানি) পারছেন না কেনো। তিনি কোম্পানিগুলোকে মুনাফা নিয়ে আসার লক্ষ্যে এক বছরের মধ্যে নতুন ব্যবসায়িক পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দেন।

উল্লেখ, বিভিন্ন সরকারি কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে নিয়ে আসার ব্যাপারে প্রথম উদ্যোগটি নেন প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমান। তার সভাপতিত্বে ২০০৫ সালের ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠকটির পর ‘পুঁজিবাজারে ভালো সিকিউরিটিজের সরবরাহ বৃদ্ধির উদ্দেশে সরকারি কোম্পানির শেয়ার ছাড়া কার্যক্রমের বাস্তবায়ন অগ্রগতি’ নিয়ে প্রতি বছর এক থেকে দুটি করে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হয়ে আসছে। এ সময়ে প্রায় ২০টি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হয়েছে। তাতে নিদেনপক্ষে ১০ বার সময় বাড়ানো হয়েছে।

গত ১২ বছরে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের অধীন ৫ টি কোম্পানি ছাড়া সরকারি কোম্পানির শেয়ার ছাড়ার বিষয়ে আর কোনো অগ্রগতি হয়নি। আলোচিত কোম্পানিগুলো আবার প্রথম পাঁচ বছরের মধ্যেই বাজারে এসেছিল। পরবর্তী ৭ বছরে একটি কোম্পানিও নতুন করে পুঁজিবাজারের পথ মাড়ায়নি।

দীর্ঘদিন ধরেই স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ, পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদরা বিভিন্ন সরকারি কোম্পানির শেয়ার ছেড়ে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। তারা মনে করেন, সরকারি কোম্পানিগুলো তালিকাভুক্ত হলে একদিকে বাজারে ভালো শেয়ারের সরবরাহ বাড়বে, অন্যদিকে কোম্পানিগুলোর পরিচালনার মান বাড়বে। আরও বেশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতা নিশ্চিত হবে।

বার বার তাগিদের প্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ২০১০ সালের ১৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ২৬ সরকারি কোম্পানিকে পরবর্তী ৬ মাসের মধ্যে শেয়ার ছাড়ার প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে তাতে ন্যুনতম সাড়া দেয়নি কোম্পানিগুলো।

 

আলোচিত কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে- লিক্যুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস লিমিটেড, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি, বাখরাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন,গ্যাস ট্রান্সমিশন, জালালাবাদ গ্যাস টিঅ্যান্ডটি সিস্টেম লিমিটেড, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি, সিলেট গ্যাস ফিল্ডস এবং রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি, নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি, ইলেকট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি অব বাংলাদেশ ও আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি, প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ।