সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীকে ‘ওষুধ কোম্পানির’ হত্যার হুমকি

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
70

সম্প্রতি দেশের ২৮টি ওষুধ কোম্পানির অ্যান্টিবায়োটিক (পেনিসিলিন ও সেফালোস্পোরিন) স্টেরয়েড ও ক্যান্সার প্রতিরোধক ওষুধের উৎপাদন ও বিপণন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা ‘গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিস’ অনুসরণ না করেই কোম্পানিগুলো নিম্নমানের অ্যান্টিবায়োটিক, স্টেরয়েড ও ক্যান্সার প্রতিরোধক ওষুধ উৎপাদন ও বিপণন করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সেগুনবাগিচায় টেকনো ড্রাগসের প্রধান কার্যালয়

অভিযোগের তালিকায় থাকা কোম্পানিগুলোর একটি টেকনো ড্রাগস লিমিটেড। ওষুধ তৈরিতে নীতিমালা ভঙ্গের অভিযোগের পরে এবার কোম্পানিটির বিরুদ্ধে এক আইনজীবীকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এই ঘটনায় রাজধানীর শাহাবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন হুমকি পাওয়া সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরশেদ।

শাহাবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (অপারেশন) আবুল কালাম আজাদ জানান, এই বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। ডায়েরি নম্বর-১৫২৩।

তিনি জানান, জিডিতে টেকনোড্রাগ নামের ক্যান্সার প্রতিষেধক উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা হত্যার হুমকি দিয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন ওই আইনজীবী।

জিডিতে বুধবার সকালে আদালত থেকে বের হওয়ার সময় তাকে টেকনোড্রাগের কয়েকজন কর্মকর্তা এ হুমকি দেয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

জিডির বিষয়ে মনজিল মোরশেদ অর্থসূচককে বলেন, নিয়মনীতির বাইরে টেকনোড্রাগসহ ২৮ কোম্পানি কোম্পানি এন্টি ক্যান্সার ওষুধ উৎপাদন করছে অভিযোগ এনে সম্প্রতি হাইকোর্টে একটি রিট করেছিলাম। রিটের প্রেক্ষিতে আদালত আদেশ দিয়েছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিসহ একটি কমিটি করে তাদের পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রতিবেদন দিতে। বুধবার এ প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ছিল।

তিনি বলেন, তারা আজ আদালতে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। কিন্তু সেখানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কোনো প্রতিনিধি ছিলেন না। এটাতে আমরা বিরোধিতা করেছি। তাদের আবেদন মঞ্জুর হয়নি।

মনজিল মোরশেদ জানান, এরপর ৪ থেকে ৫ জন আদালতের ভেতরে এসে তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যার হুমকি দেয়। জিডিসহ এ বিষয়টি আদালতকে অবগত করার পর আদালত তাদের বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টার মধ্যে হাজির করতে শাহবাগ থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমার নিরাপত্তার জন্য যারা আমাকে হুমকি দিয়েছে তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছি আদালতকে।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে টেকনো ড্রাগস লিমিটেডের পক্ষ থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া হয়েছে।  প্রথমে কোম্পানিটি সেগুনবাগিচার প্রধান কার্যালয়ে গেলে সেখানে কেউ নেই বলে অভ্যর্থনা থেকে জানানো হয়।

পরে কোম্পানিটির প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের কাছে মুঠোফোনে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানান।

তবে তার কাছে কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ফোন নম্বর চাইলে তিনি বলেন, এমডি বিষয়টি নিয়ে চাপে আছেন, তিনি এখন কথা বলতে পারবেন না।

উল্লেখ, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি ২৮টি ওষুধ কোম্পানির অ্যান্টিবায়োটিক (পেনিসিলিন ও সেফালোস্পোরিন) স্টেরয়েড ও ক্যান্সার প্রতিরোধক ওষুধের উৎপাদন ও বিপণন ৩ দিনের মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট।

পাশাপাশি ওই ২৮ কোম্পানির অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টি ক্যান্সার ও হরমোন-জাতীয় ওষুধ উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা ‘কেন বেআইনি হবে না’ এবং এসব কোম্পানিকে ওষুধ উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছিল হাইকোর্ট।

এই রিট নিয়ে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে আদালতে লড়ছেন আইনজীবী মনজিল মোরশেদ।

মুন্নাফ/টি