‘চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমতে শুরু করেছে’

বাসস

0
47

রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। প্রাদুর্ভাবের কয়েকদিন পরই পুরো শক্তি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মাঠে নামায় এই রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় চিকুনগুনিয়া রোগের ধরণ ও গতিবিধি বুঝতে সময় লেগেছে। তবে প্রাদুর্ভাবের কয়েকদিন পরই পুরো শক্তি নিয়ে মাঠে নামায় এই রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা মে ও জুন মাসের তুলনায় জুলাই মাসে অনেক কম সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হয়েছে।

মহাখালীর রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের আইইডিসিআর পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টারের উপদেষ্টা ডা. মোশতাক হোসেন বলেন, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হবে। ওই সময় পর্যন্ত চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যাবে। বর্তমানে চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তের সংখ্যা গত কয়েকদিনের তুলনায় কম।

আইইডিসিআর এর পক্ষ্য থেকে চিকুনগুনিয়া কন্ট্রোল সেন্টার খোলা হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চিকুনগুনিয়া সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। টেলিফোন করে রোগী বা রোগীর স্বজনরা এই সেবা নিতে পারবেন। ৯ এপ্রিল থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত সেবা নিয়েছেন ১৭৯৯ জন। এছাড়াও সিটি করপোরেশনের মেডিক্যাল টিম বাসায় পৌঁছে সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করছে।

সরকারি হিসাবে রাজধানীতে তিন মাসে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ১০০ জন। তবে সরকারি বেসরকারি হসপাতালের কোন হিসাব না থাকায় এর সংখ্যা আরও বেশি হবে বলে ধারনা করছেন বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা।

আইইডিসিআর ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত মোট রোগীর দুই-তৃতীয়াংশ পুরুষ এবং এক-তৃতীয়াংশ হলেন নারী। মোট ৬৯০ রোগীর মধ্যে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে দেখা গেছে, ৬৪৩ জনের গিঁটে ব্যথা ছিল। শরীরে র‌্যাশ উঠেছে এমন রোগীর সংখ্যা ৪৬৩। তবে মোট রোগীর মধ্যে কাশি ছিল এমন রোগীর সংখ্যা মাত্র ৬৫।

গত ১৭ এপ্রিল থেকে আইইডিসিআর ল্যাবরেটরিতে রক্তের নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে চিকুনগুনিয়া শনাক্তের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রাপ্ত পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এপ্রিলে ১০ জন, মে মাসে ২৮৫, জুনে ২২৬ এবং ১৭ জুলাই পর্যন্ত ১৬৯ জন চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ঢাকা মেডিকেলে চিকুনগুনিয়া রোগীর আগমন কমতে শুরু করেছে। হাসপাতালের বহির্বিভাগে জুনে ১ হাজার ২৪২ জন এবং ২২ জুলাইয়ে ৮০৫ জন চিকুনগুনিয়া রোগী চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া জানান, চিকুনগুনিয়া রোগী হাসপাতালে আসার পরিমাণ কমতে শুরু করেছে। জুলাই মাসের ২৩ তারিখ পর্যন্ত সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে ৯০৭ জন চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগী সেবা নিয়েছে। এর আগে জুন মাসে ১১৮৭ জন চিকিৎসা নিয়েছিলেন। চিকুনগুনিয়া রোগীদের সেবা প্রদানের জন্য আলাদা করে কর্ণার খোলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় চিকুনগুনিয়া রোগের ধরণ ও গতিবিধি বুঝতে সময় লেগেছে। তবে নতুন নতুন চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহনের কারনেই এই রোগ নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব হয়েছে। চিকুনগুনিয়ায় আগামী বছর যাতে এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় সেজন্য আগে থেকেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

এসএম