বৃষ্টি থামলেও জল নামেনি চট্টগ্রামের

প্রতিনিধি

0
72

গত চার দিনের টানা বর্ষণে পানিতে কার্যত তলিয়ে গিয়েছিল বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। নগরবাসীরা আশা করেছিলেন, বৃষ্টিপাত কমলে এ জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি মিলবে। কিন্তু তাদের এ আশার গুড়ে বালি পড়েছে।গত রাত থেকে বৃষ্টি কমলেও শহরের অনেক অঞ্চল এখনও রয়েছে জলমগ্ন।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের দায়িত্বরত কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ অর্থসূচককে জানান, চট্টগ্রামে আগামী কয়েক দিনে ভারী বর্ষণের কোনো শঙ্কা নেই। তবে দেশের দক্ষিণাঞ্চল বিশেষ করে বরিশাল, পিরোজপুর, বাগেরহাট, খুলনা, যশোর, নড়াইল, মাগুরা, মেহেরপুরে, কুষ্টিয়া ইত্যাদি অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

তিনি জানান, গতকাল মঙ্গলবার রাত ৩ টা ৩৯ মিনিটে প্রথম ভাটা শুরু হয়ে সকাল ৯ টা ৫৮ মিনিটে আবার জোয়ার শুরু হয়। ২য় ধাপে দুপুর ৩ টা ৪০ মিনিটে আবার ভাটা শুরু হয়ে এখনো চলছে। তবে রাত ১০ টা ১৪ মিনিটে আবার জোয়ার শুরু হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চট্টগ্রামে বৃষ্টিপাত না থাকলেও জোয়ারের জলাবদ্ধতা থেকে সহসা মুক্তি পাচ্ছেন না নগরবাসীরা।

জানা গেছে, সমুদ্র পৃষ্ঠের পানি বেড়ে যাওয়া, নগরের অভ্যন্তরে পানি নিষ্কাশন ব্যাবস্থা ভালো না থাকা, খাল দখল করে স্থাপনা তৈরি, নতুন খাল না কাটা, নগরীর ড্রেনগুলোতে ময়লা ফেলে জ্যাম সৃষ্টি করে, সময়মত খাল পরিস্কার না করা, জোয়ারে অতিরিক্ত পরিমানে পানি ঢোকা ইত্যাদি কারণে জলাবদ্ধতা বাড়ছে চট্টগ্রাম নগরীতে।

এদিকে নগরীর আগ্রাবাদ, সিডিএ, এক্সেস রোড, শান্তিবাগ, বেপারিপাড়া, ছোটপুল, হালিশহর, ষোলশহর, প্রবর্তক, বাকলিয়া, চকবাজার, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, চান্দগাঁও সব জায়গাতেই হাঁটু থেকে কোমর পানি দেখা গেছে। তবে গত কয়েকদিনে সড়কের উপরে যে পানি ছিল সেটি আজ কম দেখা গেছে।নগরের আগ্রাবাদ, আগ্রাবাদ এক্সেস রোড এবং আগ্রাবাদ সিডিএ এলাকায় জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি ভয়াবহ।

এদিকে দেওয়ানহাট এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা জাফর আলমগীর জানান, আমাদের দেওয়ানহাটের ফ্লাইওভারের নিচে আমি কখনও পানি উঠতে দেখিনি। কিন্তু আজ সকালে দেখলাম এখানে পানি উঠেছে। তার মানে সামনে জোয়ার কিংবা ভারী বর্ষণ আসলে এই উঁচু এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা যাবে।

আগ্রাবাদ সিডিএ ২ নং রোডের বাসিন্দা আমিনুল হক জানান, গত ৪ দিনের থেকে আজ সকাল থেকে পানি কম উঠতে দেখা গেছে। তবে কবে যে এখানকার পানি একেবারে নেমে যাবে সেটা কেউ বলতে পারে না। রাতে জোয়ার আসলে ফের ডুবে যেতে পারে এই এলাকা।

এদিকে এই মাসের টানা বৃষ্টিতে সবথেকে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মহাসড়কগুলো।

দেওয়ানহাঁটে দাড়িয়ে থাকা ১০ নং রুটের বাস চালক সোবহান মিয়া অর্থসূচককে বলেন, আমার রুট কালুরঘাট থেকে কাটগড় পর্যন্ত। কিন্তু এই রাস্তা এত পরিমানে ভেঙ্গে গেছে যে- গাড়ি চালানোই দায় হয়ে গেছে। আমরা গাড়ি দিন চুক্তিতে ভাড়া চালাই। কিন্তু রাস্তার কারণে গাড়ির কোন ক্ষতি হলে মেরামতের টাকা আমাদের বহন করতে হচ্ছে। এতে করে গাড়ি না চালানোই ভালো।

এদিকে দেশের বৃহত্তম ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ-আসাদগঞ্জে অবস্থার সামান্য পরিবর্তন হয়েছে। গত চার দিনের মতো আজকের পরিস্থিতি একটু ভালো হলেও জলাবদ্ধতা এখনও রয়েছে বলে জানিয়েছেন সেখানকার ব্যবসায়িরা। আসাদগঞ্জ ও খাতুনগঞ্জের প্রধান সড়কের ওপর ছিল হাঁটুপানি। জলাবদ্ধতার কারণে গত কিছুদিন দোকানপাট বন্ধ থাকলেও আজ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান খুলেছেন ব্যবসায়িরা।

খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ ছগীর আহমদ অর্থসূচককে বলেন, গত ৫ দিনের জলাবদ্ধতায় এই চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ-আসাদগঞ্জের বাবসায়িদের ক্ষতির পরিমাণ ৩০০ কোটি টাকার বেশী হয়েছে। গুদামের মালামাল পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আজ একটু পানি কম উঠেছে। কিছু প্রতিষ্ঠান আজ ব্যবসায়িরা খুলেছেন। এই ক্ষতি কিভাবে পোষাবো সেটা বুঝতে পারছিনা।

জলাবদ্ধতা নিরসনে ও এই ভোগ্য পণ্যের বাজারকে রক্ষা করতে হলে চাক্তাই খাল এলাকায় বেড়ী বাঁধ নির্মাণ, কালের মুখে স্লুইসগেট নির্মাণ, খালের গভীরতা বাড়ানো, খাল দখল মুক্ত করা, নতুন তিনটি খালের খনন দ্রুত শেষ করা, পাহাড় কাটা বন্ধসহ নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

দেবব্রত/এসএম