দিনাজপুর বিএনপির জেলা কার্যালয়ে তালা

0
51
Dinajpur BNP Office

Dinajpur BNP Office


জামায়াত ও আ.লীগ প্রার্থীকে গোপনে সহযোগিতা এবং পত্রিকায় বিবৃতি প্রদানের কারণে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হেরে যাওয়ায় দিনাজপুর জেলা বিএনপির কার্যালয়ে তালা দিয়েছে ছাত্রদল, যুবদল, শ্রমিক দল, তাতীদল, পৌর কমিটিসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা। অপরদিকে ০১৭৯৫১৩৬৮৯৮ নাম্বার মোবাইল  থেকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুকুর চৌধুরীর নাম দিয়ে সভাপতি এবং নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে পরাজিত বিএনপির  প্রার্থীকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে মোবাইলে ম্যাসেজ পাঠানো হয়েছে।

গত শনিবার রাতে সদর উপজেলা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর পর বিক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করে। এ সময় তারা জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব লুৎফর রহমান মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক মুকুর চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক হাসা

নুজ্জামান উজ্জলসহ অন্যান্য নেতাকর্মীদের বহিষ্কার করে নতুন কমিটির গঠনের দাবী জানান। বিক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীরা অবিলম্বে বর্তমান কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে নতুন কটিমি গঠনের জন্য কেন্দ্রীয় সংগঠনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা নতুন কমিটি গঠনের আগ পর্যন্ত অফিসে কোন নেতাকর্মীকে আসতে দেওয়া হবে না বলেও সাংবাদিকদের জানান।

অপরদিকে ০১৭৯৫১৩৬৮৯৮ নাম্বার থেকে জেলা বিএনপির সভাপতি এবং নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে পরাজিত বিএনপির  প্রার্থীকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে মোবাইলে ম্যাসেজ পাঠানো হয়েছে। ম্যাসেজ এ লিখা রয়েছে উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির ভরা ডুবির জন্য চোরাকারবারী মোকারম, ১/১১ সুবিধা ভোগী সংস্কার বাদী,ব্যর্থ সভাপতি মিন্টুকে বিএনপি থেকে অমিলম্বে বহিষ্কার করা হউক।

জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোস্তফা কামাল মিলন জানান, ৩য় দফা উপজেলা নির্বাচনের দিনাজপুর সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বিএনপির ৩ জন, পুরুষ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২ জন করে  প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিলেও সাংগঠনিকভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় কেউ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেনি। এছাড়াও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুকুর চৌধুরী প্রার্থী হওয়ার পাশাপাশি গোপনে জামায়াত ও আ.লীগ প্রার্থীকে সহযোগিতা করেছেন। যার কারণে বিএনপির মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মোকাররম হোসেনসহ সব প্রার্থী নির্বাচনে হেরে গেছে। তাই জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব লুৎফর রহমান মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক মুকুর চেীধূরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক হাসানুজ্জামান উজ্জলকে বহিষ্কার ও কমিটি ভেঙ্গে দেওয়ার দাবিতে তারা জেলা কার্যালয়ে তালা দিয়েছেন।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুকুর চৌধুরীর কাছে, ০১৭৯৫১৩৬৮৯৮ নাম্বার থেকে জেলা বিএনপির সভাপতি এবং নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে পরাজিত বিএনপির  প্রার্থীকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে মোবাইলে পাঠানো ম্যাসেজ  ও তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পাশাপাশি গোপনে জামায়াত ও আ.লীগ প্রার্থীকে সহযোগিতা করার কোন কারণ নেই। যে নাম্বার থেকে ম্যাসেজ পাঠানো হয়েছে সে নাম্বারটি আমার নয় এবং এর সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই।

গতকাল রোববার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তালা দেওয়া অবস্থায় ছিল বিএনপির কার্যালয়। সকালে এবং বিকেলে কার্যালয়ে গিয়ে কোন নেতাকর্মীকে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সভাপতি লুৎফর রহমান মিন্টু জানান, প্রার্থী হেরে যাওয়ায় কিছু নেতাকর্মী তালা মেরে দেয়। তবে এটি কোন বিষয় নয়, তাৎক্ষনিকভাবে রাগে তারা এটি করেছে। প্রার্থী হেরে যাওয়ার বিষয়ে বলেন, এই উপজেলায় মুলত বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী মোকাররম হোসেনই বিজয়ী হতো। কিন্তু জামায়াতের প্রার্থী থাকায় বিজয় ঘরে আসেনি। আর বিএনপির বাকী দুই প্রার্থী নির্বাচনী গণসংযোগ থেকে সরে গিয়ে সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষেই কাজ করেছেন।

উল্লেখ্য, ১৫ মার্চ অনুষ্ঠিত দিনাজপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে চেয়ারম্যান পদে ৩ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। একক প্রার্থী মনোনয়নে জেলা বিএনপি উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হওয়ায় বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা ৩টি পদেই হেরে যায়। নির্বাচনে আ’লীগ প্রার্থী ফরিদুল ইসলাম ৭০ হাজার ৮৪২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন বিএনপির মোকারম হোসেন। তিনি পেয়েছেন ৬০ হাজার ৬২৮ ভোট। আর জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা মুজিবর রহমান পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫৪৩ ভোট। বিএনপির অন্য ২ প্রার্থী হলেন-জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুকুর চৌধুরী ও যুগ্ম সম্পাদক আখতারুজ্জামান জুয়েল।

আরকে/সাকি