ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমানো হয়েছে মুদ্রানীতিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
54
Credit-Loan

চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধের জন্য ঘোষিত মুদ্রানীতিতে সামগ্রিকভাবে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ধরা হয়েছে। গত অর্থবছরের শেষার্ধের মুদ্রানীতিতে অভ্যন্তরীন খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছিল ১৬ দশমিক ৪০ শতাংশ। নতুন মুদ্রানীতিতে তা কমিয়ে ১৫ দশমিক ৮০ শতাংশ করা হয়েছে। মুদ্রানীতির বিবৃতি বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

আজ বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর’১৭) জন্য নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করে।

Credit-Loanনতুন মুদ্রানীতিতে সামগ্রিক ঋণ প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি-উভয় খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ধরা হয়েছে। সর্বশেষ মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছিল ১৬ দশমিক ৫০ শতাংশ। নতুন মুদ্রানীতিতে এটি কমিয়ে ১৬ দশমিক ৩০ শতাংশ করা হয়েছে।

জুলাই-ডিসেম্বর’১৭ সময়ের জন্য সরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১২ দশমিক ১০ শতাংশ। সর্বশেষ মুদ্রানীতিতে এই খাতে প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছিল ১৬ দশমিক ১০ শতাংশ।

মূলত ঋণের চাহিদা কমে যাওয়ার কারণেই প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা আগের চেয়ে নামিয়ে আনা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, গত জানুয়ারি-জুন’১৭  সময়ের মুদ্রানীতিতে অভ্যন্তরীন ঋণের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ১৬ দশমিক ৪০ শতাংশের বিপরীতে মে’১৭ পর্যন্ত বাস্তব প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ১১ দশমিক ৩০ শতাংশ। অন্যদিকে বেসরকারি খাতে  ১৬ দশমিক ৫০ শতাংশ ধরা হলেও গত মে মাস পর্যন্ত সময়ে প্রবৃদ্ধি হয় ১৬ শতাংশ।

সরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক পিছিয়ে।

ঋণের চাহিদা কম থাকায় বেশি প্রবৃদ্ধির সুযোগ নেই। তাই বাংলাদেশ ব্যাংক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে যৌক্তিক করার চেষ্টা করেছে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির শিক্ষক ড. মোঃ হেলাল।

ঘোষিত মুদ্রানীতিতে ঋণ প্রবৃদ্ধির হার কমিয়ে ধরায় মুদ্রা সরবরাহ, সুদের হার তথা অর্থনীতিতে কোনো প্রভাব পড়বে কি-না জানতে চাইলে তিনি অর্থসূচককে বলেন, ঘোষিত মুদ্রানীতি গতানুগতিক। কোনো খাতেই এর বড় কোনো প্রভাব পড়বে না। ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে তিনি বলেন, আগের মুদ্রানীতিগুলোতে ঋণপ্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল তা অর্জিত হয়নি। প্রকৃত প্রবৃদ্ধির হার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশ কম। ঋণের চাহিদা কম থাকায় বাংলাদেশ ব্যাংক এবার লক্ষ্যমাত্রা সমন্বয় করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে নানা কারণে দেশে বর্তমানে ঋণের চাহিদা অনেক কম। ব্যাংক ঋণে সুদের হার কমলেও চাহিদা বাড়ছে না। গুমোট রাজনৈতিক অবস্থা, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট, অবকাঠামো সমস্যা ইত্যাদি কারণে বেসরকারি বিনিয়োগে ধীর গতি চলছে। অন্যদিকে ব্যাংক আমানতের সুদ হার অনেক কমে যাওয়ায় সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে। সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে সরকার বাজেট ঘাটতির বড় অংশ পেয়ে যাচ্ছে বলে ব্যাংক থেকে আগের মতো ঋণ নিতে হচ্ছে না। ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের পরিমাণ অনেক কমে গেছে।