‘বাণিজ্য নিরাপত্তার অঙ্গীকারে বাংলাদেশ এগিয়ে’

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
87
বক্তব্য রাখছেন এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান

সারা পৃথিবীতে বাণিজ্য সহায়তার পাশাপাশি বাণিজ্যের নিরাপত্তার যে অঙ্গীকার আছে তাতে বাংলাদেশ এগিয়ে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান।

তিনি বলেন, বাণিজ্যের নামে কেউ যাতে অর্থপাচার করতে না পারে এবং অন্য কোনো অবৈধ পণ্য, অস্ত্র আনা নেওয়া করতে না পারে সেজন্য ‘ডব্লিউসিও সিকিউরিটি প্রোজেক্ট’ বাস্তবায়নে ডব্লিউসিও সাথে চুক্তি বদ্ধ হল বাংলাদেশ।

বক্তব্য রাখছেন এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া হতে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলের প্রত্যয়ে ‘ডব্লিউসিও সিকিউরিটি প্রোজেক্ট’ এর উদ্বোধন শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সেমিনারে এনবিআরের পক্ষ থেকে ‘কাস্টমস কো-অর্ডিনেশন ইন এন্ড ওভারভিউ’ শীর্ষক কান্ট্রি পেপার উপস্থাপন করেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান। কান্ট্রি পেপারে ড. মইনুল খান চোরাচালান প্রতিরোধসহ সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ কাস্টমসের সাফল্য তুলে ধরেন। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ এর কথা উল্লেখ করা হয়।

চেয়ারম্যান বলেন, এনবিআরসহ সরকারের যত গোয়েন্দা সংস্থা রয়েছে সবাইকে সম্পৃক্ত করে এ ফোরাম করা হয়েছে। আমরা মনে করি সারা পৃথিবীতে বাণিজ্য সহায়তার পাশাপাশি বাণিজ্যের নিরাপত্তার যে অঙ্গীকার আছে তাতে বাংলাদেশ এগিয়ে। প্রধানমন্ত্রী সব ধরণের সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার।

তিনি বলেন, ‘ডব্লিউসিও সিকিউরিটি প্রোজেক্ট’ এর মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্পের শুভ সূচনা হলো। বিশ্ব বাণিজ্যে যে কয়েকটি সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ডব্লিউসিও। ডব্লিউসিও নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। সারা পৃথিবীতে ক্রমান্বয়ে এটা বাস্তবায়িত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ডব্লিউসিও এর সহায়তায় আমরা নিরাপত্তা কর্মসূচি শুরু করলাম। এটা ৩টা পর্যায়ে কাজ করবে। প্রথমত বেসামরিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরণের সহযোগিতামূলক তথ্যাদি বিনিময় করবে। তার মধ্যে অ্যাডভান্স প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন, প্যাসেঞ্জার নেইম রেকর্ডস ইত্যাদি থাকবে।

দ্বিতীয়ত. বাংলাদেশে নিরাপত্তার সাথে সংশ্লিষ্টদের সামর্থ্য বৃদ্ধি করবে। বাণিজ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে কোথাও যাতে কোনো বিস্ফোরক গতিরোধ করতে না পারে তার ব্যবস্থা করবে।

তৃতীয়ত. অস্ত্র পাচার বা পাচারের যেকোনো চক্রান্ত বা পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিতে পারে এমন সক্ষমতা তৈরি করবে।

দেশে মানিলন্ডারিং হচ্ছে স্বীকার করে তিনি বলেন, এটা রোধ করতে এ প্রকল্প কাজে লাগবে। বাংলাদেশ মানিলন্ডারিং বিষয়ে ভালোভাবে কাজ করছে। এফইজি ফোরাম, এপিটিএফ, রাইলো সবগুলোতে বাংলাদেশ কাস্টমস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মানি লন্ডারিং বিশ্বজনীন সমস্যা হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশেও আমাদের পরিসংখ্যান হচ্ছে প্রায় ৮০ ভাগের ওপরে মানি লন্ডারিং হচ্ছে ব্যবসা বাণিজ্যের আড়ালে। আমরা বেশ কিছু মামলা তদন্তের মধ্যে আছি, তদন্তের পরে কিছু মামলা রুজু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা দেখেছি বিদেশে পণ্য রপ্তানি করা হয়েছে কিন্তু দেশে একটি টাকাও আসে নাই। এটা হচ্ছে স্পষ্টত বাণিজ্যের আবরণে মুদ্রা পাচারের একটি বিষয়। বিষয়টি সুবিস্তর। এজন্য সরকার মানি লন্ডারিং আইন, ২০১২ এর আওতায় অর্থমন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক একসঙ্গে কাজ করছে।

স্বরাষ্ট্র সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ এ প্রকল্প সম্পর্কে বলেন, ক্ষুদ্র অস্ত্র অনেক সময় ক্ষুদ্রতার কারণে নিয়ে আসার প্রচেষ্টা হয়, অনেক সময় নিয়ে আসা সম্ভবও হয়। কিন্তু যাতে আমাদের কাস্টমসের ক্যাপাসিটি বিল্ড করে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়া যায়, সেজন্য যত আধুনিক কলা কৌশল আছে তা কাস্টমস বিভাগকে এ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে, তাদের ক্যাপাসিটি বৃদ্ধি করা হবে।

তিনি বলেন, কাস্টমস সফলতার সাথে যে কাজ করে যাচ্ছেন তা আরও বাড়িয়ে দেয়া হবে। আমাদের দেশে আমরা ক্ষুদ্র অস্ত্র বিশেষ করে রিভলবার, পিস্তল সেগুলোকে লাইন্সেসিং এ অত্যন্ত কঠোরতা আরোপ করি। এছাড়া যাতে করে কেউ লাইন্সেস ছাড়া বহন করে তাহলে তারা ধরা পড়ে এবং আমরা তাদের ধরার জন্য চেস্টা করি।

প্রকল্প উদ্বোধনের আগে এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডব্লিউসিও এর সেক্রেটারি জেনারেল কুনিও মিকুরিয়া। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য সচিব শুভাশিষ বসু, নৌপরিবহন সচিব অশোক মাধব রায়, স্বরাষ্ট্র সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

অর্থসূচক/রহমত/এস