স্মার্ট সেবিকা ‘ই-হার্ট’

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
51

বিশ্বে প্রতিবছর কেবল হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অসংখ্য মানুষ মারা যায়। খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের ধরনের কারণে মধ্য ও স্বল্প আয়ের দেশগুলিতে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ও এর কারণে মৃত্যুহারও দ্রুত বাড়ছে।  আমাদের দেশে সাধারণত দেখা যায় বয়স বাড়লেই এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি। আর একারণেই এই রোগে মৃত্যুহারও বেশি।

বয়স বাড়লে মানুষ অনেক কিছুই মনে রাখতে পারে না। এর মধ্যে যদি হৃদরোগ হয়ে যায় তাহলে ভুলে যাওয়ার প্রবণতাও বাড়তে থাকে। সেই কারণে হৃদরোগে আক্রান্তরা প্রায়ই ভুলে যান কখন কোন ঔষধ খাবেন, কোন তারিখে চিকিৎসকের কাছে যাবেন, কখন কোন রির্পোট কোন চিকিৎসকে দেখাবেন এমন অনেক আবশ্যিক কাজ।

তবে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের হৃদরোগীদের এখন থেকে আর এই টাইমটেবল নিয়ে চিন্তা করতে হবে না।  এখন থেকে হৃদরোগীরা ‘ই-হার্ট’ নামে এক অ্যাপে এক ক্লিকেই এসব সুবিধা পাবেন।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সহায়তায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির আরবান ল্যাব অ্যাপটি তৈরি করেছে।

এ অ্যাপ কেবল ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের রোগীরা ব্যবহার করতে পারবেন। অ্যাপে পেশেন্ট প্রোফাইল, রিস্ক স্কোর, অ্যাপয়েনমেন্ট, প্রেসক্রিপশন, রেস্ট রেজাল্টস, রিস্ক ট্রেন্ড, ফলোআপ, হার্ট রেইট অপশন রয়েছে।

হার্ট ফাউন্ডেশনের রোগীরাদের হাসপাতাল কর্তৃক হাসপাতাল আইডি বা নিজেরা অ্যাপ ডাউনলোড করে রেজিস্ট্রেশন করে লগইন করতে হবে।

রোগীর প্রোফাইলে রোগীর নাম, বয়স, উচ্চতা, ওজন, রক্তের গ্রুপ, রোগের ধরণ ইত্যাদি থাকবে।

রিস্ক স্কোরে রোগীর ঝুঁকির হিসাব থাকবে। অ্যাপটি প্রধানত রোগীর কোলেস্টেরল, এইচডিএল কোলেস্টেরল, সিস্টোলিক রক্তচাপ, রোগীর বয়স, লিঙ্গ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপানের ক্ষেত্রের তথ্য ঝুঁকি স্কোর গণনা করতে ব্যবহৃত হবে। স্কোর অনুযায়ী রোগীর একটি গ্রাফ তৈরি হবে। রিস্ক স্কোরে মডিউলে ক্লিক করে রোগী তার ঝুঁকি স্কোর দেখতে পাবেন।

অ্যাপয়েন্টমেন্ট মডিউলে কোনো হৃদরোগী নতুন অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে পারবেন। এখানে হার্ট ফাউন্ডেশনের চিকিৎসকদের বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। রোগী যে চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিতে চান তার অ্যাপয়েন্টমন্ট নিতে পারেন।

টেস্ট রেজাল্ট মডিউলে চিকিৎসক রোগীকে যেসকল টেস্ট দেবেন তার রিপোর্ট দেখতে পাবেন। হার্ট ফাউন্ডেশনে রোগী টেস্ট করালে তা সার্ভার থেকে অটো অ্যাপে রোগীর আইডি অনুযায়ী জমা হয়ে যাবে।

প্রেসক্রিপশন মডিউলে এ অ্যাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানে রোগীর রোগ অনুযায়ী চিকিৎসক ঔষধ খাবার পরামর্শ দেবেন। কোন ঔষধ কখন খেতে হবে তা থাকবে। রোগী ঔষধ সেবনের সময় অনুযায়ী গুগল ক্যালেন্ডার ব্যবহার করে এলার্ম অপশনে গিয়ে এলার্ম দিয়ে রাখলে তা রোগীকে এলার্ম দিয়ে জানিয়ে দেবে। প্রতিটি ঔষধের সাথে এলার্ম সেট করার সুযোগ থাকবে। তবে এনএইচএফ নিবন্ধিত ব্যবহারকারী কেবলমাত্র হাসপাতাল আইডি দ্বারা লগইন করলে হাসপাতাল থেকে নির্ধারিত ঔষধের তালিকা দেখতে পাবেন।

ফলোআপ মডিউলে রোগী কখন কোন চিকিৎসকের সাথে সাক্ষাত করবেন তা উল্লেখ থাকবে। গুগল ক্যালেন্ডার থেকে তারিখ, সময় সেট করে দিলে এলার্ম দিয়ে রোগীকে তা জানিয়ে দেবে। অর্থাৎ এক ক্লিকেই হার্টের রোগীরা সব ধরণের চিকিৎসাসহ সেবা পাবেন।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুরে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অডিটোরিয়ামে ‘হৃদরোগ চিকিৎসা ব্যবস্থাকে মানুষের কাছে আরো উন্নত ও সহজতর করার’ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির (বিইউ) আরবান ল্যাবের উদ্ভাবিত ‘ই-হার্ট অ্যাপ’ এর উদ্বোধন করা হয়।

উল্লেখ, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন একটি স্বায়ত্বশাসিত ও হৃদযন্ত্রের সকল ধরনের সর্বাধুনিক চিকিৎসা কেন্দ্র। হৃদরোগ ও রক্তসংবহন সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছে এমন রোগীদের সেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে ওপেন-হার্ট সার্জারি,  ভাস্কুলার অপারেশন, বাই-পাস সার্জারি করানো হয়। বহির্বিভাগে বহু রোগীর চিকিৎসা প্রদান করা হয়।

এখানে রয়েছে কার্ডিওলজি, কার্ডিওভাস্কুলার সার্জারি, অ্যানেস্থেসিওলজি, কার্ডিওভাস্কুলার রেডিওলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, প্যাথোলজি, হিমাটোলজি, বডি ট্রান্সফিউশন, এপিডেমিওলজি ও প্রতিষেধক ঔষধ এবং পুনর্বাসন বিভাগ।

সাদিয়া/টি