নেগেটিভ ইক্যুইটি হিসাবে লেনদেনঃ পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর সিদ্ধান্ত

গিয়াস উদ্দিন

0
59
bsec
বিএসইসি-লোগো

পুঁজিবাজারে ঋণাত্মক মূলধনধারী (Negative Equity) বিনিয়োগ হিসাবে শেয়ার কেনা-বেচার সুযোগ আগামী ১৮ আগস্ট শেষ হচ্ছে। মার্জিন রুলসের সংশ্লিষ্ট ধারা শিথিল করে আবারও বাড়তি সময়ের জন্য ওই সুযোগ দেওয়া হবে কি-না তা স্পষ্ট নয়।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সূত্রে জানা গেছে, ঋণাত্মক মূলধনধারী বিনিয়োগ হিসাবে লেনদেনের সুযোগ সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করবেন তারা। কয়েক দফায় এ সুবিধা দেওয়ার ফলে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান (ব্রোকার) ও বিনিয়োগকারী প্রকৃতপক্ষে কতটুকু উপকৃত হয়েছেন, বাজারে এর কী প্রভাব পড়েছে তা মূল্যায়ন করার পরই কেবল সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উল্লেখ, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) মার্জিন রুলস, ১৯৯৯ এর ৩(৫) ধারা অনুযায়ী কোনো বিনিয়োগকারীর ডেবিট ব্যালেন্স ১৫০ শতাংশের নিচে নেমে গেলে ওই হিসাবে শেয়ার কেনা-বেচা বন্ধ থাকার কথা। কিন্তু ২০১০ সালের ধস পরবর্তী বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় কয়েক দফা ধারাটির কার্যকারিতা স্থগিত করা হয়। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) নতুন করে স্থগিতাদেশের জন্য বিএসইসির কাছে আবেদন করে। এর প্রেক্ষিতে চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বিএসইসির কমিশন বৈঠকে ওই ধারাটির কার্যকারিতা ৬ মাস স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়। সে মেয়াদ আগামী ১৮ আগস্ট শেষ হচ্ছে।

আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাটির কার্যকারিতা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানো না হলে ১৯ আগস্ট থেকে ঋণাত্মক মূলধনধারী হিসাবে আর লেনদেন করা যাবে না।

এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো: সাইফুর রহমান অর্থসূচককে বলেন, পুঁজিবাজারের উন্নয়নে বদ্ধপরিকর বিএসইসি। বিএসইসির প্রত্যকটি সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে নিয়ে থাকে।

তিনি বলেন, ঋণাত্মক মূলধনধারী হিসাবের বিষয়টি কমিশনের নজরে আছে। সর্বশেষ মেয়াদ বাড়ানোর অবস্থার মূল্যায়ন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিবে কমিশন।

উল্লেখ, মার্জিন রুলস, ১৯৯৯ এর ৩(৫) ধারা অনুসারে ঋণাত্মক মূলধনধারী হিসাবে গ্রাহক নিজে শেয়ার কেনা-বেচা করতে পারেন না। কেবল ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান এই ধরনের হিসাবের শেয়ার বিক্রি করে তার ঋণ সমন্বয় করে নিতে পারে। ২০১০ সালের ধসের পর বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় বিএসইসি আলোচিত আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাটির কার্যকারিতা কয়েক দফা স্থগিত করে।

উল্লেখ, মার্জিন ঋণ (Margin Loan) হচ্ছে বিশেষ ধরনের ঋণ সুবিধা। শেয়ার কেনার জন্য ব্রোকারহাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংক গ্রাহককে এই ঋণ দিয়ে থাকে। বিএসইসি প্রণীত মার্জিন রুলস, ১৯৯৯ এর আওতায় এই ঋণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তবে যে সময়টি বিএসইসি বাড়িয়েছে তা শুধু ব্রোকার হাউজের জন্য প্রযোজ্য। অন্যদিকে মার্চেন্ডাইজাররা সবসময় নেগেটিভ ইক্যুইটির হিসাবে লেনদেন করতে পারেন। সময় বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের সাথে মার্চেন্ট ব্যংকের কোনো সম্পর্ক নেই।

২০১০ সালের পর থেকে টানা দর পতনে অসংখ্য মার্জিন একাউন্টে বিনিয়োগকারীর মূলধন ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। ওই সব একাউন্টে থাকা শেয়ার এবং মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দাম এমন জায়গায় নেমে আসে যে, অনেক ক্ষেত্রে তা বিনিয়োগকারীর নিজস্ব মূলধনের পরিমাণ কমে যায়। আইন অনুসারে এমন একাউন্টে লেনদেন নিষিদ্ধ।

১৯৯৯ সালের মার্জিন রুলসের ৩(৫) ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো বিনিয়োগকারীর ডেবিট ব্যালেন্স ১৫০ শতাংশের নিচে নেমে গেলে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান তার কাছে নতুন করে মার্জিন চাইবে। এই মার্জিনের পরিমাণ এমন হবে যাতে তার ডেবিট ব্যালেন্স ১৫০ শতাংশের উপরে থাকে। নোটিশ দেওয়ার তিন কার্যদিবসের মধ্যে পর্যাপ্ত মার্জিন জমা দেওয়া না হলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে নতুন কোনো লেনদেনের অনুমতি দিতে পারবে না ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান।

এর আগে প্রতিবার মার্জিন রুলসের ৩(৫) উপ-ধারা পুরোটা স্থগিত করা হলেও সর্বশেষ ৬ মাসে তা আংশিক স্থগিত করা হয়েছে। উপ-ধারার একটি অংশ স্থগিত না করায় নেগেটিভ ইক্যুইটির গ্রাহকদের কাছে নতুন করে মার্জিন (টাকা) চাইতে হবে সংশ্লিষ্ট ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানকে। উপ-ধারার ওই অংশে বলা হয়েছে-

Whenever the equity in a client’s margin account falls below 150% of the debit balance, the member shall request the client to provide additional margin to bring the equity to not less than

150%. Such additional margin must be satisfied by deposit of cash or marginable securities within three days from date of notice.

অর্থসূচক/গিয়াস