পুলিশ দম্পতির বাসায় গৃহকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
64
DMCH
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

রাজধানীর মিরপুরের বড়বাড় এলাকায় এক পুলিশ দম্পতির বাসা থেকে রাসেল (১৩) নামে শিশু গৃহকর্মীর মরদেহ উদ্ধার করেছে মরিপুর থানা পুলিশ। গতাকল রোববার বিকেল ৪টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন মিরপুর থানার সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) অজিত রায়।

তিনি বলেন, মিরপুর-২ নম্বরের বড়বাগ এলাকার ৩/১৬ নম্বর বাসায় কাজ করতো নওগাঁর রফিুল ইসলামের ছেলে রাসেল। তার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে ওই বাসায় পুলিশ। সেখানে যাওয়ার পর জানতে পারি, রাসেলকে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে মরদেহ উদ্ধারের পর ময়না তদন্তের জন্যে ঢাকা মেডেকেলের মর্গে পাঠায়।

DMCH
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

অজিত রায় বলেন, স্ত্রীকে নিয়ে বড়বাগ এলাকার ৩/১৬ নম্বর বাসায় থাকতেন পুলিশ অর্ডার ম্যানেজমেন্টের (পিওএম) অ্যাসিস্ট্যন্ট সাব ইন্সপেক্টর (এএসআই) নজরুল ইসলাম। তার স্ত্রী পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) কর্মরত। মিরপুরের বড়বাগ এলাকার ওই ভবনের ষষ্ঠ তলায় এই পুলিশ দম্পতির বাসায় এক ধরে গৃহকর্মীর কাজ করছিল রাসেল।

তিনি আরও বলেন, ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে অত্মহত্যার করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন গৃহকর্তা এএসআই নজরুল। তবে রাসেলের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার আলামত পাওয়া যায়নি। গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করলে যেমন অর্ধচন্দ্রাকৃতি দাগ পড়ে সেরকম কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে তার থুতনির নিচে সামান্য জখম রয়েছে।

ময়নাতদন্তের পর প্রতিবেদন পেলে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে উল্লেখ করে অজিত রায় বলেন, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এএসআই নজরুল অর্থসূচককে বলেন, ঘটনার আগের দিন রাত ১০টা থেকে এয়ারপোর্টে আমার স্ত্রীর ডিউটি ছিল। আমি বাসায় ছিলাম। ঘটনার দিন সকাল ৮টার দিকে আমার স্ত্রী বাসায় আসেন এবং আমার বড় ছেলে রিফাতকে (১৩) নিয়ে ডেন্টাল হাসপাতালে যান। এরপর আমি আমার ছোট ছেলে হিমুকে (৫) বাসায় রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিউটিতে চলে যায়।

তিনি আরও বলেন, স্ত্রী বাসায় ফেরার পর দরজা খোরার জন্য অনেকক্ষণ ধরে ডাকাডাকি ও দরজা ধাক্কানোর পরও তা খুলেনি রাসেল। বেশ কিছুক্ষণ পর ছোট ছেলে ফাহিম দরজা খুলে দিলে ঘরে ঢুকে রাসেলকে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে থাকতে দেখেন।

নজরুল বলেন, এরপর তাৎক্ষণিকভাবে পাশের বাদশাহ ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অর্থসূচক/মুন্নাফ/এমই/