কাপ্তাই লেকে মাছ ধরা শুরু ১ আগস্ট

প্রতিনিধি

0
109

তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আগামী ১ আগস্ট থেকে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই লেকে ফের মাছ শিকারের সুযোগ পাচ্ছেন জেলেরা। পূর্বঘোষণা অনুসারে ওইদিন মঙ্গলবার থেকে লেকে মাছ শিকারের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে জেলা প্রশাসন।

জানা গেছে গতকাল রোববার রাঙামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এই সংক্রান্ত এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওইদিন মধ্যরাত থেকে লেকে পুনরায় মাছ শিকার, আহরণ, বাজারজাত ও পরিবহন করা যাবে।

সাধারণত প্রতিবছরই মে মাসে লেকে মাছের সুষ্ঠু প্রাকৃতিক প্রজনন, বংশ বিস্তার ও উৎপাদন বাড়াতে সব ধরনের মাছ শিকার, আহরণ, বাজারজাত ও পরিবহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে জেলা প্রশাসন। প্রজনন মৌসুম শেষ হলে ওই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।

আর জেলা প্রশাসন ও মৎস্য ব্যবস্থাপনায় বিএফডিসি কর্তৃক বিভিন্ন কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে লেকের মৎস্য উৎপাদন উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। যা অতীতে বিএফডিসি মৎস্য প্রজনন মৌসুমে অবৈধ মৎস্য আহরণ ও পাচার রোধ, মৎস্য আইন বাস্তবায়ন, কার্প জাতীয় মাছের পোনা অবমুক্তি এবং অভয়াশ্রম ব্যবস্থাপনায় বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।

সদ্য বিদায়ী ২০১৬-১৭ অর্থবছরে কাপ্তাই লেক থেকে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পেরেশন (বিএফডিসি) ১২ কোটি ৮১ লাখ টাকার রাজস্ব আয় করেছে। এই সময়ে লেকটি থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় মৎস্য আহরণ করা হয়েছে রেকর্ড ৯৯৭৫ মেট্রিক টন।

বিএফডিসি’র তথ্যমতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্ববৃহৎ কৃত্রিম জলাশয় রাঙামাটির কাপ্তাই লেক থেকে গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ আয় হয়েছে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে।

এর আগে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এ খাতে আয় ছিল ১০ কোটি ৬০ লক্ষ ৭৪ হাজার টাকা। মৎস্য আহরণ হয় ৯৫৮৮.৫৫ মেট্রিক টন।

তাছাড়া বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা কেন্দ্র (বিএফআরই) এর গবেষণায় দেখা গেছে এ বছর বন্ধ মৌসুমে মা মাছেরা রেকর্ড সংখ্যক ডিম ছেড়েছে। একারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে রাজস্ব আয়ের পরিমান বৃদ্ধি ও বড় বড় মাছ বিশেষ করে রুই, কাতাল, মৃগেল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উল্লেখ, ১৯৬৫-৬৬ অর্থ বছরে ১২০৬.৬৩ মেট্রিক টন মৎস্য উৎপাদনের মাধ্যমে ৬ হাজার ৪৮১ বর্গমাইলের এই কাপ্তাই লেকে  বাণিজ্যিকভাবে মৎস্য উৎপাদন শুরু হয়।

টি