রাজধানীতে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
51
অভিযুক্ত শেখ মুহাম্মদ আজাদ (৪৮) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী।

রাজধানীতে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে এক আইনজীবীর নামে মামলা করেছেন এক নারী। আসামি শেখ মুহাম্মদ আজাদ (৪৮) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বলে জানা গেছে।

গতকাল বুধবার দিবাগত রাত সোয়া ১১টার দিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে রাজধানীর পল্টন থানায় এ মামলা দায়ের হয়। পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হক অর্থসূচককে এ তথ্য নিশ্চত করেছেন।

এজহারে ওই শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, এলএলবি পাসের পর বার কাউন্সিলের অ্যাডভোকেটশিপ পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য পল্টনের বিজয়নগরে সারাকা ম্যাক, ৩/১, ৩/২(২য় তলায়) কোচিং সেন্টারে ভর্তি হন। সেখানে শেখ মো. আজাদ তাদের ক্লাস নিতেন।

গত ১৮ জুলাই (মঙ্গলবার) ছিল কোচিংয়ের বিদায়ী অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে সবাই গ্রুপ ছবি তোলেন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিদায় নিতে গেলে বসতে বলেন অ্যাডভোকেট শেখ মো. আজাদ। পাশের শ্রেণিকক্ষে বসেন ওই ছাত্রী। এরপর তিনি অন্যান্য শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন। দেরির বিষয়টি জানিয়ে বের হতে গেলে তিনি আবারও বসতে বলেন।

ফিরে এসে অ্যাডভোকেট শেখ মো. আজাদ বলেন, ‘তোমার পরীক্ষার কক্ষ কোথায় তা কি তুমি চেনো?’ তার স্বামী চিনেন বলে জানালে আজাদ ওই মেয়েকে বলেন, ‘ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৪২ ধারার সংশোধনী নেই আমার বইতে। তুমি নতুন বইটি সেলফ থেকে নিয়ে আসো।’ এনে দিলে তিনি নিজ হাতে সংশোধনী ধারাটি লিখেন।

এরপর কথা শেষ করে সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে বের হতে গেলে অ্যাডভোকেট আজাদ ওই ছাত্রীকে জড়িয়ে ধরেন ও শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন।

এ ব্যাপারে ওই ছাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অর্থসূচককে বলেন, সবাই চলে গেলে ফাঁকা রুমে তিনি আমাকে শারিরীকভাবে লাঞ্ছিত ও ধর্ষণ চেষ্টা করেন। আমাকে যখন জড়িয়ে ধরে তখন আমি নিজেকে রক্ষার জন্য চেষ্টা করি। পরে দেয়ালের ওপর পড়ে যাই। এক পর্যায়ে আইনজীবীকে ধাক্কা মেরে দ্রুত দরজা খুলে বের হয়ে বাসায় চলে যাই।

তিনি বলেন, তিনি আমার শিক্ষক তো বটেই বাবার বয়সী। প্রথমে বুঝতে পারিন তিনি আমাকে কেন থাকতে বলেছিলেন। তার কাছ থেকে এমন আচরণ অপ্রত্যাশিত।

ওই ছাত্রীর স্বামী বলেন, আর কারো সঙ্গে এমন আচরণ যাতে কেউ করতে না পারে সেজন্য আইনের আশ্রয় নিয়েছি। পরে অবশ্য ওই শিক্ষক যোগাযোগ করে দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও শাস্তির দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানতে শেখ মো. আজাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হক বলেন, ওই আইনজীবীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত হচ্ছে এবং আসামীকে ধরার জন্য অভিযান চলছে।

অর্থসূচক/মুন্নাফ/কে এম