‘চেতনানাশক দিয়ে ধর্ষণ; এরপর হত্যা’

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
61

রাজধানীর ওয়ারির কদমতলী এলাকার দুইটি ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় জড়িতরা নিহতদের পূর্ব পরিচিত। বাসায় গিয়ে চেতনানাশক দেওয়ার পরই তাদের ধর্ষণ করা হয়েছিল। এরপরই হত্যা করা হয় দুই নারীকে। এই হত্যা টাকার জন্য নয়; ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতেই হত্যা করা হয় তাদের।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ওয়ারি বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

গত ১৮ জুন দিবাগত রাতে কদমতলীর পূর্ব জুরাইন এলাকা থেকে পারুল বেগম ও ১০ জুলাই পূর্ব জুরাইনের শিশু কবরস্থান এলাকা থেকে ফরিদা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তে জানা গেছে, ওই দুই নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।

পৃথক এই দুইটি ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গতকাল বুধবার রাতে রাজধানীর শ্যামপুর, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা এবং ঢাকার সাভার ও নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- জামাল খান পাটোয়ারি, রাজিব হাওলাদার এবং জাকির শিকদার, রফিকুল ইসলাম শামীম ও মফিজ উদ্দিন সাগর।

সংবাদ সম্মেলনে ওয়ারি বিভাগের ডিসি ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, রাজীবের সঙ্গে একটি কীটনাশক কোম্পানিতে চাকরি করতেন পারুল। পারুলের স্বামী লিটন গাড়ি চালক; কাজের জন্য মাঝে মাঝে তাকে বাড়ির বাইরে থাকতে হতো- সে কথা জানতো রাজীব। তার বন্ধু জামাল একজন পেশাদার চোর। তাকে পারুলের বিষয়টি জানানোর পর দু্ই বন্ধু পরিকল্পনা করে স্বামীর অনুপস্থিতে বাসায় গিয়ে মালামাল চুরি করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজীব পারুলকে ফোন দিয়ে রাতে বেড়াতে যাওয়ার কথা জানায় এবং বেড়াতে যায়। কৌশলে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর পর দুই জনে মিলে পারুলকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের এক পর্যায়ে পারুলের কিছুটা চেতনা ফিরলে চিৎকার করে। ওই সময় তাকে হত্যা করে রাজীব ও জামাল। মৃত্যু নিশ্চিত হলে পারুলের স্বর্ণের নাকফুল, স্যামসাং মোবাইল ফোন ও টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।

ফরিদা হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে ডিসি বলেন, শামীম ও সাগরের সঙ্গে একই গার্মেন্টে চাকরি করতো ফরিদা। স্বামী মারা যাওয়ার পর ফরিদা একা থাকা শুরু করে। এই সুযোগে সাগর, শামীম ও তাদের বন্ধু জাকির ফরিদার সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপনের পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ৭ জুন রাতে জোরপূর্বক তিনজনই ফরিদাকে ধর্ষণ করে। পরে শ্বাসরোধে হত্যা নিশ্চিত করে ঘরে তালা দিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

ধর্ষণের পর হত্যাকাণ্ডের দুই ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামিরা জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

অর্থসূচক/মুন্নাফ/এমই/