দাঁতের যত্ন নিন

অর্থসূচক ডেস্ক

0
172

কথায় বলে দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা কেউ বোঝে না, দাঁত আমাদের সৌন্দর্যের অন্যতম উৎস। সুন্দর সাদা দাঁত আমাদের সবারই পছন্দ। কিন্ত এরকম আকর্ষণীয় দাঁত পেতে আমাদের নিতে হবে দাঁতের সঠিক যত্ন যেটা আমরা বেশিরভাগ মানুষই করিনা।

সাধারণত দাঁতে ব্যথা, পাথর জমে হলুদ আবরণ পরে গেছে দাঁতে এ ধরনের সমস্যায় ভুগে থাকেন অনেকেই। দেখা যায়, তাদের দাঁতে কমবেশি হলুদ বা বাদামি আবরণ। ডাক্তারি ভাষায় যাকে টার্টার বলা হয়। তবে অামরা সাধারণ মানুষ একে দাঁতের পাথর হিসেবেই বেশি চিনে থাকি। মূলত নিয়মিত দাঁত পরিষ্কার না করলেই এই টার্টার বা দাঁতে পাথর বাড়তে থাকে। এর ফলে দাঁতে ‘পিরিওডোনটাইটিস’ নামক রোগও হতে পারে। পিরিওডোনটাইটিস হলো দাঁতের মাড়ির টিস্যুতে প্রদাহ হয়। ফলে মাড়ি সংকোচিত হয়ে অকালে দাঁত পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

এ সমস্যা এড়াতে প্রয়োজন নিয়মিত দাঁতে জমা পাথর বা টার্টার পরিষ্কার করা। কিন্তু এর প্রথম সমাধান হলো ডেন্টিস্ট। তবে আপনি চাইলে বাড়িতে বসেও এ সমস্যার সমাধান করতে পারেন।

টার্টার বা পাথর পরিষ্কার করতে যা লাগবে:

বেকিং সোডা, ডেন্টাল পিক, লবণ, পানি, টুথব্রাশ, কাপ ও অ্যান্টিসেপটিক মাউথ ওয়াশ

এবার পাথর দূর করার পদ্ধতি সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক-

১ম ধাপ
কাপে এক টেবিল চামচ বেকিং সোডার সঙ্গে ১/২ চা চামচ লবণ মেশান। এবার গরম পানিতে টুথব্রাশ ভিজিয়ে বেকিং সোডা ও লবণের মিশ্রণ দিয়ে পাঁচ মিনিট ধরে দাঁত ব্রাশ করুন। সবশেষে কুলকুচি করে নিন।

২য় ধাপ
ডেন্টাল পিক দিয়ে দাঁতের হলুদ টার্টার ধীরে ধীরে ঘষে তুলুন। মাড়ির ক্ষতি এড়াতে ডেন্টাল পিক ব্যবহারের সময় সাবধানতা অবলম্বন করুন।

৩য় ধাপ
অ্যান্টিসেপটিক মাউথ ওয়াশ দিয়ে কুলকুচি করুন।

এছাড়াও  যুক্তরাষ্ট্রের দুইজন দন্ত বিশেষজ্ঞ অ্যালিস লি এবং অ্যালিসন নিউগার্ড  দাঁতের যত্নের ব্যাপারে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন – যেমন-

১. নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করুন

ব্যস্ততার কারণে সকালে অনেকেই একসাথে কয়েকটা কাজ করেন। দেখা যায়, দাঁত ব্রাশ করতে করতেই গোসল করছেন বা মেইল চেক করছে। কিন্তু ভালো দাঁত পেতে হলে দাঁত ব্রাশ করতে হবে মনোযোগ দিয়ে। দাঁতের কোন অংশ যাতে বাদ না পড়ে এবং ভালোভাবে পরিষ্কার হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

২. ধূমপান ত্যাগ করুন

ধূমপান শুধু আমাদের হৃদপিণ্ড বা ফুসফুসেরই ক্ষতি করে না। আমাদের দাঁত নষ্ট করার জন্য দায়ী। ধূমপানের ফলে মাড়ি কালো হয়ে যায়, দাঁত দুর্বল হয়ে পড়ে এমনকি পড়েও যেতে পারে, মুখে দুর্গন্ধও হয়।

৩. পরিষ্কার টুথব্রাশ

অনেকেই টুথব্রাশ নিয়ে একটু বেশিই সচেতন থাকেন। বারবার ধুতে থাকেন এমনকি জীবাণুমুক্ত করার জন্য ওভেনের ভিতরেও রাখেন। এতে অনেক উপকারী ব্যাকটেরিয়াও ধ্বংস হয়ে যায়। পরিষ্কার কোন জায়গায় রাখলে এবং দাঁত ব্রাশ করার আগে অল্প একটু ধুয়ে নিলেই তা যথেষ্ট।

৪. জুস  না খাওয়া

অনেকেই সকালে ঘুম থেকে উঠেই অরেঞ্জ বা লেমন জুস খেয়ে থাকেন। এতে দাঁতের ক্ষতি হয়। বরং পানি বা দুধ খেয়ে নিয়ে বা ঘুম থেকে উঠার ৩০ মিনিট পর এসব খাওয়া যেতে পারে।

৫. টুথপিক থেকে দূরে থাকুন

দাঁতের ফাঁকে খাবার আটকে থাকলে টুথপিক দিয়ে খুঁচিয়ে বের করার অভ্যাস আমাদের অনেকেরই আছে। কিন্তু কাঠের তৈরি শক্ত এসব টুথপিক ভেঙে দাঁতের মধ্যে থেকে যেতে পারে অথবা জোরে জোরে দাঁত খোঁচালে দাঁতের ক্ষতি হতে পারে। তাই এক্ষেত্রে ফ্লস ব্যবহার করা উত্তম।

৬. পরিমাণমত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি

হাড় এবং দাঁতের গঠনে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-এর কোন বিকল্প নেই। তাই যথেষ্ট পরিমাণে এই দুই উপাদান গ্রহণের দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

৭. ফ্লোরাইডের চাহিদা মেটানো

ফ্লোরাইড আমাদের দাঁত থেকে চিনি এবং এসিড ধুয়ে দাঁতকে সুস্থ রাখে। তাই দাঁতের জন্য প্রয়োজনীয় ফ্লোরাইড প্রয়োজন। অনেক এলাকার পানিতে ফ্লোরাইড থাকে। এই পানি দাঁতের জন্য ভালো। নইলে ফ্লোরাইড আছে এমন টুথপেস্ট ব্যবহার করা উচিত।

৮. নিয়মিত ডেন্টিস্টের কাছে যান

আমরা নিয়মিত ডেন্টিস্টের কাছে যাওয়াটা খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ মনে করি না। এই অবহেলার কারণে আমাদের দাঁতের মান ধীরে ধীরে কমতে থাকে। তাই প্রতি ৬ মাসে অন্তত একবার দাঁতের ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত।

৯. শক্ত ব্রাশকে না বলুন

দাঁত বেশি পরিষ্কার হবে ভেবে অনেকেই শক্ত ব্রাশ ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু এতে দাঁতের প্রয়োজনীয় এনামেল ক্ষয় হয়ে যায়। তাই নরম ব্রাশ ব্যবহার করা উত্তম।

অর্থসূচক/ টি এম