‘সব ধর্মের ওপর মানব ধর্ম’, লালন স্মরণোৎসবে হানিফ

0
257
Lalon

Lalonকুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় পাঁচ দিন ব্যাপী বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ স্মরণোৎসব চলছে।

শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে লালন স্মরণোৎসব উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মাহবুব-উল আলম হানিফ।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ও লালন একাডেমী পাঁচ দিন ব্যাপী এ উৎসবের আয়োজন করে।

হানিফ বলেন, ‘মানবতার ভাবধারা প্রতিষ্ঠিত করতে অসাম্প্রদায়িক সাম্যের সমাজ চেয়েছিলেন বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ। তিনি শিখিয়েছিলেন-ধর্মের মধ্যে আবদ্ধ থেকে সম্প্রীতি বজায় রাখা যায় না। সব ধর্মের ওপর মানব ধর্ম।’

‘এ মরমী সাধকের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও তিনি ছিলেন আধুনিক সমাজ বিন্যাসে স্ব-শিক্ষিত। ধর্ম আর জাতি ভুলে মানুষের কল্যাণে সঙ্গীতে মর্মকথা বলেছেন তিনি।’

তিনি বলেন, ‘বাউল সম্রাট লালন শাহ সব ধর্মের সীমাবদ্ধতা ছাড়িয়ে সদা সত্য পথে চলতে মানুষকে মানবতাবাদীর পথে ডাক দিয়েছিলেন। তিনি অহিংস মানবতার ব্রত নিয়ে দেহতত্ব, ভাবতত্ব, গুরুতত্বসহ অসংখ্য গান সৃষ্টি করে গেছেন। তার সঙ্গীত কোনো ধর্মের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না।’

অনুষ্ঠানের শুরুতেই আগত অতিথিদের লালন একাডেমী ও বেসরকারি মোবাইলফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে ফুলের তোড়া, ক্রেষ্ট ও আত্মাশুদ্ধির প্রতীক একতারা উপহার দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।

লালন একাডেমীর সভাপতি ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মফিজ উদ্দিন আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসগর আলী, সহ-সভাপতি হাজী রবিউল ইসলাম, লালন একাডেমীর সাবেক সাধারণ সম্পাদক তাইজাল আলী খান, গ্রামীণফোনের আঞ্চলিক ব্যাবস্থাপক আমিনুল ইসলাম।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন, লালন একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক রেজানুর রহমান খান চৌধুরী মুকুল। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাহেলা আক্তার।

লালনের জীবনদর্শন নিয়ে আলোচনা করেন, ঢাকার ধানমন্ডি আইডিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস।

পাঁচ দিন ব্যাপী এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী দিনে লালন একাডেমী চত্বরে তিল ধারনের ঠাঁই ছিল না।

কর্মসূচি: কালী নদীর তীরে উন্মুক্ত মঞ্চে প্রতিদিন লালন বিষয়ক আলোচনা, বিভিন্ন শিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সমন্বয়ে লালনগীতি পরিবেশন, আখড়াবাড়িতে লালন মেলা। মাজারের আয়না মহলে সাধু-ভক্তদের লালনগীতি পরিবেশন।

আলোচনা শেষে দ্বিতীয় পর্বে লালন মঞ্চে বিভিন্ন শিল্পি ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সমন্বয়ে পরিবেশিত হয় লালন সংগীত। এরপর দলীয় লালন সঙ্গীত পরিবেশন করেন লালন একাডেমীর শিল্পীরা। সাঁইর বারামখানা, তিন পাগলে হলো হলো মেলা, সময় গেলে সাধন হবে না, মিলন হবে কতোদিনে এমন বেশ কিছু লালনগীতি গেয়ে দর্শকদের আনন্দে মাতিয়ে রাখেন লালন একাডেমীর শিল্পীরা।

গভীর রাত পর্যন্ত চলে এই সংগীত পরিবেশন। উৎসবকে ঘিরে পুরো একাডেমী চত্বরে খন্ড-খন্ড স্থানে গান পরিবেশনের সময় দর্শক-শ্রোতারাও নেচে-গেয়ে গানে তাল দেয়। দর্শক-শ্রোতারা কখনো পিন-পতন নীরবতায় গান শুনছেন আবার কখনো গানের তালে করতালি দিয়ে মুখর করে তুলছেন আখড়াবাড়ির আঙ্গিনা।

অনুষ্ঠানটি সার্বিক উপস্থাপনা ও পরিচালনা করেন কণ্ঠরাজ কবি শুকদেব সাহা।

বাউল সম্রাট লালন শাহের জীবদ্দশায় চৈত্র মাসের প্রথম সপ্তাহে পূর্ণিমার রাতে দোল পূর্ণিমার উৎসব পালন করা হতো। সেই থেকে লালন ভক্তরা প্রতি বছর এ উৎসব পালন করে আসছে।

কেকে/সাকি