তারুণ্য ধরে রাখতে ১০ খাবার

0
129

10 foodআজকাল শুধু মহিলাই নন, পুরুষরাও তারুণ্য ধরে রাখতে চান। এ কারণেই বার্ধক্যরোধক ক্রিমে বাজার ছেয়ে গেছে। কিন্তু এসব ক্রিমে কাজের কাজ তো দূরের কথা,  উল্টো আপনার ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এর চেয়ে বরং প্রাকৃতিকভাবেই আপনি তারুণ্য ধরে রাখতে পারেন।  আর এজন্য আপনাকে নিয়মিত খেতে হবে প্রাকৃতিক ১০ রকমের খাবার।

১. অ্যাভোকাদো:

এটি নাশপাতির মতোই একটি ফল। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকায় এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। যা ত্বকের জন্য উপকারী। অ্যাভোকাদো ত্বকের নতুন কোষ তৈরি করে, যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। ফলে আপনাকে তরুণ দেখায়।

২. জামের মতো রসালো ফল:

কালো জামেও প্রচুর ভিটামিন সি রয়েছে, যা রক্তের স্বাভাবিক প্রবাহে সহায়তা করে।

৩. ডার্ক চকলেট:

ছোট শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষই চকলেট পছন্দ করে। তবে শিশুরাই বেশি এ খাবারের প্রতি আসক্ত। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা এক গবেষণায় দেখেছেন, ডার্ক চকলেট স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। ডার্ক চকলেট শরীরকে বিভিন্ন বোগের আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করে। রক্ত চলাচলের গতি স্বাভাবিক রাখে।

৪. সবুজ সবজি:

ফাইবার ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ব্রকলি কেবল ওজন কমাতেই সহায়তা করে না, হৃদরোগ প্রতিরোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

৫. পানি:

সুস্থ রাখার প্রধান শর্ত পানি পান।  প্রচুর পানি পান শরীরকে যেমন তরতাজা রাখবে তেমনি মসৃণ করবে ত্বক।বিশ্বব্যাপী ত্বকের যত্নে যখন নামি-দামি প্রসাধন সামগ্রীর ব্যবহার নজিরবিহীনভাবে বাড়ছে তখন ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন, শুধু পর্যাপ্ত পানি পানের ফলে ত্বকে স্বাভাবিক পরিমাণ পানি থাকলে ত্বকের সৌন্দর্য বেড়ে যায় এবং ত্বকের ভাঁজ কমাতে সাহায্য করে।

৬. শিমের বিচি:

প্রচুর ফাইবার ও পটাশিয়ামসমৃদ্ধ শিমের বিচি রক্তে কোলেস্টরেল কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে। শিমের বিচিতে প্রচুর প্রোটিনও রয়েছে। যা আপনার ত্বককে করে তোলে আরও উজ্জ্বল।

৭. ছোলা ডাল:

ছোলা পুষ্টিকর একটি ডাল। এটি মলিবেডনাম ও ম্যাংগানিজের চমৎকার উৎস। ছোলাতে প্রচুর পরিমাণে  খাদ্য আঁশ আছে। সেই সঙ্গে আছে আমিষ ট্রিপটফান কপার ফসফরাস এবং আয়রন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অল্পবয়সী নারীরা বেশি পরিমাণে ফলিক এসিডযুক্ত খাবার খায় তাদের হাইপারটেনশনের প্রবণতা কমে যায়। যেহেতু ছোলায় বেশ ভালো পরিমাণ ফলিক এসিড থাকে সেহেতু ছোলা খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।

৮. হলুদ:

শুধু রান্নায় নয়, প্রসাধনের তালিকায়ও ঠাঁই করে নিয়েছে হলুদ। বিশেষ করে মেয়েদের কাছে ত্বকের উজ্জ্বলতা রক্ষায় হলুদ সমাদৃত। তবে শুধু মসলা কিংবা প্রসাধনে নয়, বিভিন্ন রোগের চিকিৎসাতেও হলুদের ব্যবহার। এমনকি আঘাত, কাটা, ঘা, ফুলা বা ক্ষতে ও হলুদের গুড়োঁ চমৎকার ফল দেয়। শরীরের কোন জায়গা মচকে গেলে বা আঘাত লাগলে চুন, নুন ও হলুদ মিশিয়ে গরম করে লাগালে ব্যথা ও ফুলো কমে যায়।  মেছতা ও মুখের কালো দাগ দুর করতে পারে হলুদ।

৯. বাদাম:

গবেষকেরা নিশ্চিত করেছেন যে,প্রতিদিন বাদাম খেলে ২০% পর্যন্ত মৃত্যু ঝুঁকি কমে। বাদামে আছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড যা হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্য রক্ষা করে,হৃদপিণ্ডের ছন্দপতন রোধ করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি দূর করে। বাদামের ফাইবার রক্তের গ্লুকোজের পরিমান কমাতে অত্যন্ত কার্যকরী।

 এবং ১০. বাদামি চাল:

শতকরা ৯৮ ভাগ মানুষ সাদা চালকে পছন্দ করলেও হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথের পুষ্টি বিশাদরা বলছেন অন্য কথা। বাদামি চাল সস্তা হলেও পুষ্টিগুণ বিচারে সাদা চালের চেয়ে অনেক এগিয়ে। বাদামি চালের ওপরের আবরণ ঘঁষে ফেলে দিলে হয় সাদা চাল। এ চালের ওপরের আবরণ দীর্ঘমেয়াদী অনেক অসুখ-বিসুখ থেকে আমাদের রক্ষা করে 

সুত্র: আরব নিউজ

এস রহমান/