প্রাণ-আরএফএল এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানে ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি

রহমত উল্যাহ

0
252

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান রংপুর মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (আরএমআইএল) এর বিরুদ্ধে ৩৯ কোটি ৮৭ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৩ টাকার মূল্য সংযোজন কর-মূসক (ভ্যাট) ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

এছাড়া কোম্পানিটির ৩ নাম্বার ইউনিটের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ৪ কোটি ৪০ লাখ ৯২ হাজার ২৫৩ টাকার রেয়াত গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে।

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ শাহজীবাজার অলিপুরে অবস্থিত ইউনিট-২ ও ইউনিট-৩ ২০১২-১৩ অর্থবছর থেকে ২০১৫-১৬ অর্থবছর পর্যন্ত ৫ বছরে বিপুল পরিমাণ এ ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে।

Pran-RFL-Group
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের লোগো

চলতি মাসের ৫ জুলাই সিলেট কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বিপুল পরিমাণ ভ্যাট ফাঁকির তথ্য উঠে এসেছে। যার কপি অর্থসূচকের হাতে রয়েছে।

ফাঁকিকৃত ভ্যাট পরিশোধে ১১ জুলাই রংপুর মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে এ বিষয়ে একটি চিঠি দিয়েছেন সিলেট কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।।

সূত্র জানায়, চলতি বছরের ২৭ মার্চ থেকে প্রতিষ্ঠানটির ২০১২-১৩ থেকে ২০১৫-১৬ অর্থবছর পর্যন্ত ৫ বছরের মূসক সংক্রান্ত কাগজপত্র নিরীক্ষা করা হয়।

নিরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির দাখিলপত্র (মূসক-১৯), চলতি হিসাব পুস্তক (মূসক-১৮), ক্রয় হিসাব পুস্তক (মূসক-১৬), বিক্রয় হিসাব পুস্তক (মূসক-১৭), কর চালান (মূসক-১৯) এবং পরিদর্শনে প্রাপ্ত তথ্যাদি পর্যালোচনা করা হয়।

রংপুর মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজের ইউনিট-৩ নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি ব্র্যাক ব্যাংক গুলশান লিংক রোড শাখা, যমুনা ব্যাংক দিলকুশা শাখা ও এইচএসবিসি তেজগাঁও শাখায় লেনদেন করে। এর মূসক নিবন্ধন নম্বর-২২১২১০২৯৯৮২। প্রতিষ্ঠানটি সিলেট কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের হবিগঞ্জ আবগারী ও ভ্যাট সার্কেল-২ এ ভ্যাট দিয়ে থাকে।

রংপুর মেটালের ইউনিট-৩ গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১২ কোটি ৯৯ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি করে। গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বিক্রয় করে ২২৯ কোটি ২ লাখ টাকার পণ্য।

দুই অর্থবছরে ইউনিট-৩ ২৪২ কোটি ২ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি দেখিয়ে ১৯টি দাখিলপত্রের মাধ্যমে ৩৬ কোটি ৩০ লাখ টাকার মূসক দিয়েছে।

রংপুর মেটালের ইউনিট-৩ বাইসাইকেল, টায়ার, রীম, স্পোক, ক্যাবলওয়্যার, এমএস পাইপ, জিআই পাইপ ও টিউব তৈরি করে থাকে।

প্রতিষ্ঠানটি এসব পণ্য হবিগঞ্জ থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে। প্রতিষ্ঠানটির ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬ অর্থবছরের দাখিলকৃত কর চালান, ক্রয় হিসাব পুস্তক, বিক্রয় হিসাব পুস্তক, চলতি হিসাব পুস্তক ও মাসিক রিটার্ন বা দাখিলপত্র পর্যালোচনা করা হয়েছে।

ইউনিট-৩ এর নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকার কাঁচামাল আমদানি করেছে বলে দেখিয়েছে। কিন্তু অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড হতে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে ওই পণ্যের প্রকৃত মূল্য ৩৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা। ওই হিসেবে কোম্পানিটি আমদানিকৃত পণ্যের মূল্য ২১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা কমিয়ে দেখিয়েছে।

আলোচিত সময়ে ইউনিট-৩ এর বিপরীতে মূসক পরিশোধ করা হয়েছে ৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা।

আমদানিকৃত পণ্যের মূল্যের পার্থক্যের ওপর উৎপাদন পর্যায়ে ২৫% মূল্য সংযোজন ধরে উৎপাদিত পণ্যের মূল্য দাঁড়ায় ২৭ কোটি ৪ লাখ টাকা। এর ওপর ১৫% হারে মূসক ফাঁকি দিয়েছে ৪ কোটি ৫ লাখ টাকা।

ইউনিট-৩ ২০১৫-১৬ অর্থবছরে চলতি হিসাবে প্রদর্শিত আমদানিকৃত পণ্যমূল্য ১৮০ কোটি ৫১ লাখ টাকা। অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড হতে প্রাপ্ত আমদানিকৃত পণ্যমূল্য ১৫৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।

প্রতিষ্ঠানটি ২০১৫-১৬ অর্থবছর ২৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা মূসক পরিশোধ করেছে। তবে অবৈধভাবে ৪ কোটি ৪০ লাখ টাকার রেয়াত গ্রহণ করেছে।

সূত্র জানায়, ইউনিট-৩ বন্ড লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান। উৎপাদিত পণ্যের বিপরীতে মূল্যভিত্তি ঘোষণাপত্র অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামালের ওপর কোনো মূসক দেয়নি।

তথ্য প্রদান ও সহযোগিতার জন্য ৯ বার চিঠি দেওয়া হলেও প্রতিষ্ঠানটি তদন্ত দলকে কোনো সহযোগিতা করেনি।

এক্ষেত্রে ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬ অর্থবছরে অনুমোদিত মূল্যভিত্তি ঘোষণা অনুযায়ী অপচয়ের মোট মূল্য ৮২ লাখ ৯১ হাজার টাকা। এর ওপর ১৫% হারে মূসক ১২ লাখ ৪৩ হাজার টাকা, যা প্রতিষ্ঠানটি পরিশোধ না করে ফাঁকি দিয়েছে।।

ইউনিট-৩ এর বিক্রয় চালান (মূসক-১১) পর্যালোচনায় দেখা যায়, নিরীক্ষাকালীন সময়ে রংপুর মেটালের ইউনিট-২ এর নিকট থেকে চালানপত্রের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য বিক্রয় করে। যদিও ইউনিট-৩ সাপ্লাইয়ার (ট্রেড), সাপ্লাইয়ার (ম্যানুফ্যাকচারার্স) ও ইম্পোর্টার হিসেবে নিবন্ধিত।

ইউনিট-৩ রপ্তানি অনুমোদন ব্যতীত বন্ডেড প্রতিষ্ঠান ইউনিট-২ এর কাছে শূণ্য হারে পণ্য সরবরাহ করে ৪ কোটি ২১ লাখ ৩২৬ টাকা ৭৫ পয়সার ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, নিরীক্ষা কার্যক্রমে তথ্য প্রদান ও সহযোগিতার জন্য ৯ বার চিঠি দেওয়া হলেও প্রতিষ্ঠানটি তদন্ত দলকে কোনো সহযোগিতা করেনি।

পরে অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড হতে আমদানি তথ্য, কর অঞ্চল-৬ চিঠির মাধ্যমে বার্ষিক অডিট রিপোর্ট ও আয়কর রিটার্ন হতে তথ্যের মাধ্যমে নিরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।

ইউনিট-৩ মোট ৮ কোটি ৬৩ লাখ টাকার মূসক ফাঁকি দিয়েছে। এছাড়া অবৈধভাবে রেয়াত গ্রহণ করেছে ৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এছাড়া অডিট দল ভবিষ্যতে মূসক ফাঁকি রোধে কয়েকটি সুপারিশ করেছে।

মেসার্স রংপুর মেটাল ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড ইউনিট-২ নিরীক্ষা প্রতিবেদনে দেখা যায়, ইউনিট-২ এর মূসক নিবন্ধন নম্বর-২২১২১০২৯৭৮৪। প্রতিষ্ঠানটি সাপ্লাইয়ার (ম্যানুফাচারার্স), সাপ্লাইয়ার (ট্রেড), ইম্পোর্ট ও এক্সপোর্টার হিসেবে নিবন্ধিত। প্রতিষ্ঠানটির ২০১২-১৩ থেকে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের নিরীক্ষা করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগ মূলধন ২৪৭৯.৬৪ মিলিয়ন টাকা ও ব্যাংক ঋণ ১৪৯৯.৪৪ মিলিয়ন টাকা। টিআইএন নম্বর-৫৩৬৩৩২৮৯৪৫৩৩।

প্রতিষ্ঠানটি ২০১৩-১৪ ও ২০১৪-১৫ অর্থবছরে মোট ১৯ কোটি ৬৫ লাখ ৬৬ হাজার ৯৮১ টাকার পণ্য বিক্রয় করেছে। ২০১৪ সালের ২২ অক্টোবর থেকে প্রতিষ্ঠানটি বন্ডের কার্যক্রম শুরু করে।

ইউনিট-২ প্রতিষ্ঠানটি ২০১৩-১৪ ও ২০১৪-১৫ অর্থবছর পর্যন্ত ২৪টি দাখিলপত্রে (মূসক-১৯) ২ কোটি ৯৪ লাখ ৮৫ হাজার ৪৭ টাকার মূসক পরিশোধ করেছে।

মেসার্স রংপুর মেটাল ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড ইউনিট-২ প্রতিষ্ঠানটি বাইসাইকেল, টায়ার, রীম, স্পোক, ক্যাবলওয়্যার, এমএস পাইপ, জিআই পাইপ ও টিউব তৈরি করে থাকে।

প্রতিষ্ঠানটি এসব পণ্য হবিগঞ্জ থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে। ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠানটির বন্ডের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি শতভাগ রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত হয় যা অব্যাহত রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫ অর্থবছরের দাখিলকৃত কর চালান, ক্রয় হিসাব পুস্তক, বিক্রয় হিসাব পুস্তক, চলতি হিসাব পুস্তক ও মাসিক রিটার্ন বা দাখিলপত্র পর্যালোচনা করা হয়েছে।

rfl-cycle
রংপুর মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজের উৎপাদিত সাইকেল

নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির চলতি হিসাবে প্রদর্শিত আমদানিকৃত পণ্যমূল্য ৪ কোটি ১৯ লাখ টাকা। অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড হতে প্রাপ্ত আমদানিকৃত পণ্যমূল্য ৫ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।

২০১৩-১৪ অর্থবছরে চলতি হিসাবে (মূসক-১৯) প্রদর্শিত আমদানিকৃত পণ্যের মূল্য অপেক্ষা অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড হতে প্রাপ্ত আমদানিকৃত পণ্যের মূল্যের পার্থক্য ১ কোটি ৬৯ লাখ  টাকা।

এসব আমদানিকৃত পণ্যের মূল্যের পার্থক্যের ওপর উৎপাদন পর্যায়ে ২৫% সংযোজন করে উৎপাদিত পণ্যের মূল্য ২ কোটি ১২ লাখ টাকা। এর ওপর ১৫% হারে মূসক ফাঁকি দিয়েছে ৩১ লাখ ৮৭ হাজার টাকা।

২০১৪-১৫ অর্থবছরে চলতি হিসাবে প্রদর্শিত আমদানিকৃত পণ্যমূল্য ১২ কোটি ১৪ লাখ টাকা। অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড হতে প্রাপ্ত আমদানিকৃত পণ্যমূল্য ৪০ কোটি ৪২ লাখ টাকা।

২০১৪-১৫ অর্থবছরে চলতি হিসাবে (মূসক-১৯) প্রদর্শিত আমদানিকৃত পণ্যের মূল্য অপেক্ষা অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড হতে প্রাপ্ত আমদানিকৃত পণ্যের মূল্যের পার্থক্য ২৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা।

এসব আমদানিকৃত পণ্যের মূল্যের পার্থক্যের ওপর উৎপাদন পর্যায়ে ২৫% সংযোজন করে উৎপাদিত পণ্যের মূল্য ৩৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এর ওপর ১৫% হারে মূসক ফাঁকি দিয়েছে ৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

সূত্র আরো জানায়, ইউনিট-২ প্রতিষ্ঠানটি আমদানি পর্যায়ে মূসক-৭ ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদনকারী হিসেবে এটিভি (অ্যাডভান্স ট্রেড ভ্যাট) সুবিধা গ্রহণ করেছে।

কিন্তু আমদানিকৃত পণ্যের কোন রূপ পরিবর্তন ছাড়াই স্থানীয় পর্যায়ে সরবরাহ করে। পণ্য আমদানি মূল্যভিত্তিক ঘোষণাপত্র এর মাধ্যমে ২৬টি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে আমদানিকৃত পণ্য বিক্রয় করায় প্রকৃত রাজস্ব পরিশোধের চেয়ে কম রাজস্ব পরিশোধ করায় রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে ২১ লাখ ৮৭ হাজার ৮৫৯ টাকা।

প্রতিষ্ঠান কর্তৃক দাখিলকৃত বন্ডের আওতায় উৎপাদিত পণ্যের বিপরীতে আমদানি-রপ্তানি এবং অপচয় দলিলাদি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ডেডো (শুল্ক রেয়াত ও প্রত্যপর্ণ পরিদপ্তর) কর্তৃক অনুমোদিত অপচয়ের হারের মোট মূল্য ১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। এর ওপর ১৫% হারে মূসকের পরিমাণ ২২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা যা প্রতিষ্ঠানটি ফাঁকি দিয়েছে। ।

সূত্র আরো জানায়, ইউনিট-২ এর দাখিলকৃত ক্রয় চালান পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ইউনিট-২ ইউনিট-৩ এর নিকট থেকে চালানপত্র (মূসক-১১) এর মাধ্যমে কাঁচামাল ক্রয় করে। কিন্তু ইউনিট-৩ এর কোনো প্রকার রপ্তানি অনুমোদন নেই।

রপ্তানি অননুমোদিত প্রতিষ্ঠান হতে ইউনিট-২ কাঁচামাল ক্রয় করে ৪ লাখ টাকা মূসক ফাঁকি দিয়েছে।

সূত্র জানায়, ইউনিট-২ ও ৩ প্রতিষ্ঠানকে নিরীক্ষা কার্যক্রমে তথ্য ও সহায়তা প্রদানে চিঠি দেওয়া হলেও কোন প্রকার সহযোগিতা করেনি। পরে কর অঞ্চল-৬ ঢাকায় জমা দেওয়া প্রতিষ্ঠানের আয়কর বিবরণী হতে তথ্য নিয়ে নিরীক্ষা কার্যক্রম শেষ করা হয়।

আয়কর বিবরণী ও সিএ রিপোর্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ইউনিট-২ ও ৩ একই ই-টিআইএনধারী (কর অঞ্চল-৬, সার্কেল-১১)।

লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে ক্রয়কৃত পণ্য বা সেবা গ্রহণের বিপরীতে মূল্যের ওপর উৎসে মূসক কর্তনের বিধান রয়েছে। কিন্তু নিরীক্ষিত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে তা যথাযথভাবে পরিপালন করা হয়নি।

নিরীক্ষাকালীন সময়ে ২০১৩-১৪ থেকে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিভিন্ন পণ্য বা সেবা ক্রয়ের বিপরীতে মূল্যের ওপর প্রযোজ্য উৎসে মূসক ১৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এর ওপর মাসিক ২% হারে সুদে মোট সুদ ১০ কোটি ১৫ লাখ টাকা। সুদসহ মোট মূসক ফাঁকি ২৩ কোটি ৭৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৮৪ টাকা।

ইউনিট-২ এ বিভিন্ন খাত অপরিশোধিত সুদসহ মূসক ৩১ কোটি ২৪ লাখ ১৬ হাজার ১৭০ টাকা।

রংপুর মেটালের ইউনিট-৩ ও ইউনিট-২ যথাক্রমে ৮ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ও ৩১ কোটি ২৪ লাখ টাকার মূসক ফাঁকি দিয়েছে, ফাঁকি দে্ওয়া মোট মূসকের পরিমাণ ৩৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। ।

সূত্র জানায়, ফাঁকিকৃত মূসক পরিশোধে ১১ জুলাই দুইটি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠি পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে ফাঁকিকৃত মূসক পরিশোধে তাগাদা দেওয়া হয়। একই সাথে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রাপ্ত মূসক ফাঁকি বিষয়ে কোনো আপত্তি থাকলে ৭ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে।

রংপুর মেটাল ইন্ডাস্ট্রির ভ্যাট ফাঁকির বিষয়ে বক্তব্য নিতে প্রাণ আরএফএল গ্রুপের হেড অব পিআর সুজন মাহমুদ ও ম্যানেজার (পিআর) জিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা দায়িত্বশীল অন্য কোনো কর্মকর্তার টেলিফোন নাম্বার দেননি। তারা নিজেরাও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

অর্থসূচক/রহমত