খাস জমিতে নারীর সমঅধিকার নিশ্চিতের আহ্বান

0
48

khasjomiখাস জমিতে নারী ও পুরুষের সমান অধিকারের বিষয়টি নিশ্চিত করার আহবান জানিয়েছে উন্নয়ন ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনসিডিন বাংলাদেশ। সেই সাথে খাস জমি বিতরণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্যমূলক ধারাগুলো বাতিলেরও দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক এ কে এম মাসুদ আলী।

রোববার বেলা সোয়া এগারটায় ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটিতে ‘ইনসিডিন বাংলাদেশ’ আয়োজিত ‘খাস জমিতে নারীর অধিকার: বঞ্চনা ও প্রান্তিকিকরণ, বৈষম্য বিলোপের আহবান’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব ভুমি মন্ত্রনালয়সহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানান।

মাসুদ আলী বলেন, বাংলাদেশে ভূমিহীনতার মাত্রা ১২ দশমিক ৮৪ শতাংশ, যা ১৯৯৬ সালে ছিল ১০ দশমিক ১৮ শতাংশ, আর ১৯৮৩-৮৪ তে ছিল ৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ ।

বাংলাদেশে ৩৩ লাখ একর খাস জমি রয়েছে উল্লেখ করে এই জমি ভূমিহীন পরিবারগুলোর মধ্য বরাদ্দ দেওয়ার আহ্বান জানা তিনি। তিনি তার প্রস্তাবে  পরিবার পিছু আধা একর বা ৫০ শতাংশ করে  জমি বিতরণের আহ্বান জানান।

তার মতে এমনটি করা হলে ওই পরিবারগুলো দারিদ্র সীমার উপরে উঠে আসতে পারবে। তবে জমি বরাদ্দ দেওয়ার সময় নারী ও পুরুষের সমান অধিকারের বিষয়টি বিবেচনার প্রতিও গুরুত্ব আরোপ করেন।

তিনি জানান, প্রকৃত ভুমিহীনদের মাঝে ভুমি বিতরনের সীমাবদ্ধতার কারণে একটি সুনিশ্চিত অগ্রগতির নিশ্চয়তা বিধানে দেশ দশক দশক পিছিয়ে থাকছে।

আর এই জায়গায় দেশের নারীর সংখ্যাই আশংকা জনক। ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি বিষয়ক প্রতিষ্ঠান (এফদশমিকএদশমিকও)- এর হিসেব অনুযায়ী বাংলাদেশে নারীর মালিকানা কৃষি জমির পরিমাণ ছিল মাত্র ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। প্রায় বিশ বছরে এই মালিকানা হ্রাস পেয়ে ২ শতাংশে নেমে এসেছে বলে তারা ধারনা করছে।

নারীকে কোনো বিবেচনাতেই অর্থনৈতিক পরিসরে অপ্রয়োজনীয় গণ্য করা যাবেনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারি ভাবে মোট জাতীয় উৎপাদনে (জিডিপি) নারীর অবদান ২০ শতাংশ, তবে নারীরা যে গৃহস্থালী কর্মকাণ্ড করেন তারা আনুমানিক মূল্য আড়াই লাখ কোটি টাকা । সে হিসেবে নারীর অবদান দাড়াবে ৪৮ শতাংশ।

তিনি বলেন, তথ্য প্রমাণ যা তুলে ধরছে তার সহজ অর্থ হল, নারীর শ্রমকে ব্যবহার করা হলেও তার প্রতি নেই সমতার সমাদর। খাস জিমি তথা কৃষি সহায়তা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে নারীর যৌক্তিকতা অনস্বীকার্য। গ্রামীন নারীরা ৫৩% সময় ব্যয় করে অর্থনৈতিক (কৃষি শিল্প) কাজে, যেখানে পুরুষরা করে ৪৭%।  কাজেই শ্রম বিবেচনায় আনলে নারীকে শীর্ষ স্থান ছেড়ে দিতে হলেও সম্পদ, স্বীকৃতি ও সহায়তায় ক্ষেত্রে তাদেরকে অধঃস্তন রাখার এক দ্বৈত নীতি চালু রাখা হয়েছে।

আলী বলেন, বৃহত্তর বিবেচনায় উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে নারীর সমতা নিশ্চিত করা যেমন সময়ের দাবি তেমনি কৃষি ক্ষেত্রে প্রান্তিক ও ভূমিহীন নারীর বৈষম্য দূরীকরণে খাস জমি আইনের প্রবর্তন আনাও আজ সময়ের দাবী হিসেবে সামনে চলে আসছে। এটি কৃষি খাতে কর্মরত ভূমিহীন নারী কৃষকদের জীবন ও জীবিকার নিশ্চয়তা যেমন বিধান করবে তেমনি তাদের প্রতি বিদ্যমান বৈষম্যের বেড়াজালও ছিন্ন করবে।

তিনি আরও বলেন, নারী নীতিতে, কৃষি নীতিতে, শ্রম  নীতিতে, ভূমি  নীতিতে তথা রাষ্ট্রনীতিতে এই বৈচিত্রের স্বীকৃতি ও সব ক্ষেত্রেই নারীর প্রতি সম অধিকারের বিষয়টি নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। যেহেতু ভুমিহীনদের মাঝে খাস জমি বন্টন সরকারের একটি চলমান প্রক্রিয়া সেহেতু এই আইনের প্রয়োজনীয় সংস্কার আনতে যত দেরী হবে ততই সরকারী নিয়ন্ত্রনাধীন উৎপাদনশীল-সম্পদে, তথা খাস জমিতে, ন্যায্য অধিকার বঞ্চিত নারীর তালিকা দীর্ঘায়িত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ইনসিডিন বাংলাদেশ-এর প্রকাশনা সম্পাদক দীপু হাসান ও আপরার প্রকল্পের আইন ও নীতি বিষয়ক কর্মকর্তা এ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খান।

এমআর