জবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ছড়িয়ে পড়লো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে

0
26
JnU
ফাইল ছবি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

JnUরক্ত নে হল দে, মেসে আর থাকবো না হল মোদের ঠিকানা, দাবি মোদের একটাই হল চাই হল চাই, এ ধরনের বিভিন্ন স্লোগানে প্রকম্পিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বর। দলে দলে বিভক্ত হয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে শহীদ মিনারের আশপাশ এলাকায় এসব স্লোগানে উজ্জীবিত জবি শিক্ষার্থীরা।

দীর্ঘ  এক মাসের আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আজ রোববার সকাল ৯টায় জবি ক্যাম্পাস থেকে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী জড়ো হয়েছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। বেদখলকৃত হলগুলো পুনরুউদ্ধারের জন্যই তাদের এ আন্দোলন। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রতিবাদী গান আর স্লোগানে প্রানবন্ত ছিল শহীদ মিনার। বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ছিল তাদের এই আন্দোলন।
তাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছে জবি সাংবাদিক সমিতির নেতারাও। এরই মধ্যে শহীদ মিনারে এসে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে শিল্পী ফকির আলমগীর বলেন, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশে শিক্ষাথীদের প্রত্যেকটা আন্দোলন সফল হয়েছে। আশা করি তাদের দীর্ঘদিনের প্রাণের আন্দোলন সফল হবে। এ সময় তিনি জবি হল উদ্ধারে সরকারকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
শিক্ষার্থীদের সাথে সংহতি প্রকাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআরের শিক্ষক অধ্যাপক ড. কালিমুল্লাহ বলেন, হল ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কোনোভাবেই চলতে পারে না। শিক্ষার মান প্রসার করতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে অবশ্যই হল থাকা চাই।

তবে জবি শিক্ষার্থীদের আজকের আন্দোলন ছিল পুরোপুরি ভিন্ন ধাচের। প্রতিদিনের আন্দোলনে শিক্ষক সমিতির নেতারা থাকলেও আজ তাদের কাউকে দেখা যায়নি।

এছাড়া বাম ছাত্র সংগঠনের কাউকেও দেখা যায়নি আন্দোলনে।

এ বিষয়ে কয়েকবার ফোন করেও শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কাউকেই পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়াও ফোনে পাওয়া যায়নি সব সময়ের আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী বাম ছাত্র সংগঠনের কাউকেও।

আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে আহত ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আহমদ অর্থসূচককে বলেন, আমরা পৃথকভাবে আন্দোলন করবো। ছাত্রলীগের আন্দোলনের সাথে আমরা আর নেই।

কেন আন্দলনে থাকবেন না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা শিক্ষক সমাজ আন্দোলনে মাথা দিয়েছি। কিন্তু ছাত্র নামধারী কিছু সন্ত্রাসী আমাদের শিক্ষককে অস্ত্র ঠেকিয়ে টেন্ডার ভাগিয়ে নিতে চাইছে। এর প্রতিবাদ জানাই আমরা।

কেন অস্ত্র ঠেকিয়েছে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, একটি সন্ত্রাসী চক্র টেন্ডারকৃত মালামাল সরবরাহ না করেই কাজ সমাপ্তির প্রত্যয়নপত্র দাবি করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কমন রুমের আসবাবপত্র কেনার টেন্ডারকৃত মালামাল বুঝে নেওয়ার জন্য রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দ আলমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। গত ১৩ মার্চ এক দল সন্ত্রাসী ওই শিক্ষকের কক্ষে প্রবেশ করে উক্ত টেন্ডারকৃত মালামাল সরবরাহ না করেই ৫ লাখ টাকা নেওয়ার জন্য তাকে চাপ প্রয়োগ করে। তখন তিনি অপরাগতা প্রকাশ করলে সন্ত্রাসীরা তাকে অস্ত্র ঠেকায়। জবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠে। এর প্রতিবাদে আমরা ছাত্রলীগের আন্দোলনের সাথে থাকবো না।

খুব শিগগিরই সাধারণ ছাত্রদের সাথে নিয়ে জবি শিক্ষকরা আলাদাভাবে হল উদ্ধারের আন্দোলনে নামবে বলে জানান তিনি।

তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্দোলন থামবে না বলে অর্থসূচককে জানান অভিযুক্ত জবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম।
তিনি বলেন, যারা ভিসির গোলামী করে সেসব শিক্ষকদের আমরা আন্দোলনে চাই না। আমাদের আন্দোলন চলছে, চলবে।

জেইউ/এম আই