‘চিকুনগুনিয়া ছড়ানোর জন্য সিটি কর্পোরেশন দায়ী নয়’

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
56
anisul_haque
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক

রাজধানীতে মশাবাহিত রোগ চিকুনগুনিয়া ছড়ানোর জন্য কোনোভাবেই সিটি কর্পোরেশন দায়ী নয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক।

আজ শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে ডিএনসিসি কার্যালয়ে ‘এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ তথা চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে ডিএনসিসি কর্তৃক গৃহীত কার্যক্রম’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করেন মেয়র। ডিএনসিসির আমন্ত্রণে ওই সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান (এপিডেমিওলজিস্ট); ডা. তৈহিদ উদ্দীন (এন্টোমলজিস্ট ) এবং ডা. মুনজুর এ. চৌধুরী (এন্টোমলজিস্ট)।

anisul_haque
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক

অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, নির্ধারিত সময় নির্দিষ্ট স্থানে কোনো রোগ অতিরিক্ত ছড়িয়ে পড়লে তা মহামারী হিসেবে চিহ্নিত হয়। সে হিসেবে বর্তমান সময়ে চিকুনগুনিয়াকে মহামারী বলা যায়। এটা আমার ব্যক্তিগত মত; একে মহামারী হিসেবে ঘোষণা করা হবে কি না- তা দেখার জন্য নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ রয়েছে।

ডা. মুনজুর এ. চৌধুরী বলেন, এডিশ মশার প্রকোপ বাড়ায় আবারও দেশে ডেঙ্গু জ্বর দেখা দিতে পারে। ইতোমধ্যে ৪০-৫০ জনের ডেঙ্গু দেখা গিয়েছে। এডিস মশা চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গুর বাহক; তাই দুই রোগই একইসঙ্গে দেখা দিতে পারে। এতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। এডিস মশা কামড় দিলে চিকুনগুনিয়া হবে। আর চিকুনগুনিয়া আক্রান্ত রোগীকে যেকোনো মশা কামড়ানোর পরও ওই মশা কোনো সুস্থ মানুষকে কামড়ালে তারও চিকুনগুনিয়া হবে।

ডা. তৈহিদ উদ্দিন বলেন, এডিস মশার মাধ্যমে জিকার ভাইরাসও ছড়ায়। সুতরাং সবাইকে সচেতন হতে হবে। কোনো ব্যক্তি এই রোগে আক্রান্ত হলে তাকে মশারির ভেতর রাখতে হবে। নতুবা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে যেতে পারে।

মেয়র আনিসুল হক বলেন, এডিস মশার মাধ্যমে চিকুনগুনিয়া ছড়ায়। এই মশা সিটি কর্পোরেশনের ড্রেন বা ময়লার ডাস্টবিনে জন্মায় না। এই মশা বাসা বাড়িতে, পরিস্কার পানিতে, নির্মাণ সামগ্রীতে, এসি, ফুলের টব, ক্যান, পরিত্যক্ত টায়ার ও ডাবের খোসায় জন্মায়। তাই চিকুনগুনিয়া ছড়িয়ে পড়ার জন্য সিটি কর্পোরেশন কোনোভাবেই দায়ী নয়।

তিনি বলেন, আগাম পূর্বাভাস পাইনি। আর এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে জাতীয় নির্দেশিকা প্রস্তুত হয়নি। তাই চিকুনগুনিয়া নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি।

ঢাকা উত্তরের মেয়র বলেন, চিকুনগুনিয়া ছড়িয়ে পড়ায় আমাদের কাজ আগের চেয়ে ১০ গুণ বেড়েছে। মেয়র হিসেবে এই রোগে আক্রান্তদের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। আগে নগর ভবন থেকে মশা মারার ওষুধ দেওয়া হতো। এখন ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় থেকে ওষুধ ছিটানো হয়। ফলে একই স্থানে একাধিকবার স্প্রে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য জনগণের সম্পৃক্ততা সবচেয়ে গরুত্বপূর্ণ। অনেক নাগরিক চিকুনগুনিয়া সম্পর্কে জানেন; কিন্তু এই ব্যাপারে সচেতনতামূলক ব্যবস্থা নেন না তারা।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেসবাহুল ইসলাম, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস.এম.এম. সালেহ ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।

অর্থসূচক/রহমত/এমই/