দ্বিতীয় প্রান্তিকে জিপির ৫৬ শতাংশ মুনাফা বেড়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
50
GP Q2
গ্রামীণফোনের সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইকেল প্যাট্রিক বক্তব্য রাখছেন

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত টেলিকম খাতের প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন লিমিটেড (জিপি) চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন’১৭) ৭৯২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা নিট মুনাফা করেছে। আগের বছর প্রথম প্রান্তিকে মুনাফার পরিমাণ ছিল ৫০৯ কোটি ২ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির মুনাফা বেড়েছে প্রায় ৫৬ শতাংশ।

তবে দুই প্রান্তিক মিলিয়ে কোম্পানিটির মুনাফায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৫ শতাংশের মতো। চলতি বছর প্রথম দুই প্রান্তিকে গ্রামীনফোন ১ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছে। আগের বছর একই সময়ে মুনাফা করেছিল ১ হাজার ৬৯ কোটি টাকা। আগের বছরের ৭ টাকা ৯২ পয়সা ইপিএসের জায়গায় এবার হয়েছে ১০ টাকা ৭২ পয়সা।

কোম্পানির সর্বশেষ অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। গত ৩০ জুন কোম্পানিটির অর্ধবার্ষিক হিসাব শেষ হয়েছে। বুধবার অনুষ্ঠিত গ্রামীণফোনের পরিচালনা পরিষদ ওই প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করে।

GP Q2
গ্রামীণফোনের সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইকেল প্যাট্রিক বক্তব্য রাখছেন

বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কোম্পানিটি আনুষ্ঠানিকভাবে অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

এতে জানানো হয়, আলোচিত প্রান্তিকে গ্রামীণ ফোনের গ্রাহক সংখ্যা আগের প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) থেকে বেড়েছে ২ দশমিক ৯০ শতাংশ। জুন শেষে সক্রিয় গ্রাহক রয়েছে ৬ কোটি ১৬ লাখ। এর মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী আছেন ২ কোটি ৭০ লাখ, যা গ্রামীণফোনের মোট গ্রাহকের ৪৩ দশমিক ৯০ শতাংশ।

আলোচিত প্রান্তিকে ভয়েস কল ও ডাটা সার্ভিস- উভয় খাতে রাজস্ব বেড়েছে।

সর্বশেষ প্রান্তিকে গ্রামীনফোন শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) করেছে ৫ টাকা ৮৭ পয়সা। আগের বছর দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইপিএস ছিল ৩ টাকা ৭৭ পয়সা। দুই প্রান্তিক মিলিয়ে ৬ মাসে গ্রামীণফোনের ইপিএস দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ৭২ পয়সা। আগের বছর প্রথমার্ধে ইপিএস ছিল ৭ টাকা ৯২ পয়সা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দ্বিতীয় প্রান্তিকে গ্রামীণফোন থ্রিজি ও টুজি কাভারেজ বিস্তারে এবং নেটওয়ার্কের মান উন্নয়নে ৩৩০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে।এই সময়ে ১৪১টি টুজি এবং ২২৫টি থ্রিজি বেজ স্টেশন (বিটিএস) নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়েছে। ফলে মোট টুজি বিটিএস’র সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৩৬৩টি এবং থ্রিজি বিটিএস ১১ হাজার ৫৫৭টি।

 

সংবাদ সম্মেলনে গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাইকেল প্যাট্রিক ফোলি বলেন, এই প্রান্তিক খুবই প্রতিযোগিতামূলক ছিল। বিশেষ করে গ্রাহক যোগ করার দিক থেকে। এই পরিবেশে থেকেও আমরা ডাটা এবং ভয়েস উভয় খাতেই প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পেরেছি।

তিনি বলেন, ব্যবসায়িক পরিবেশ, বিশেষ করে রেগুলেটরি ব্যবস্থা ও স্থানীয় করনীতি ব্যবসায়িক সাফল্যকে ম্লান করে দিচ্ছে। আমরা আশাবাদি যে ফোরজি লাইসেন্স, স্পেকট্রাম নিলাম, পুরানো সিম ট্যাক্স এর দাবি এং গ্রাহকের সেবা ব্যবহারের ওপর কর এর মতো বিষয়গুলো নিয়ে সরকার ও আমাদের শিল্পের মধ্যে অর্থপূর্ণ সংলাপ হবে। যা বিনিয়োগাকারীদের জন্য আরো দৃশ্যমান পরিবেশ ও গ্রাহকদের জন্য সুলভ সেবার পথ সুগম করবে।

তিনি আরও বলেন, মোবাইল শিল্প বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্র একটি সাফল্যের দৃষ্টান্ত। এই শিল্পে আরও বৈদেশিক বিনিয়োগ অব্যাহত রাখা এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহীদের জন্য বিষয়টিকে আকর্ষণীয় রাখতে আমাদের সকলের মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

গ্রামীণ ফোনের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) দিলীপ পাল বলেন, এই প্রান্তিকে (দ্বিতীয় প্রান্তিক) রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ও আয় বৃদ্ধি দক্ষতার প্রতি আমাদের বিশেষ মনোযোগের বহিঃপ্রকাশ।

অর্থসূচক/মেহেদী