প্রথম ম্যাচই বড় চ্যালেঞ্জ

0
79
bangladesh afganistan t20 worldcup

bangladesh afganistan t20 worldcup‘চার ছক্কা হই হই, বল গড়াইয়্যা গেল কই’ থিম সং দিয়ে রোববার শুরু হচ্ছে ক্রিকেটপ্রেমিদের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ। তবে মাঠের লড়াই শুধু চার-ছক্কা নয়, এখানে উইকেট-বলের লড়াইও অনেক বড়। আর সে লড়াইয়ে রোববার মাঠে নামছে নিজেদের মাঠে শক্তিশালী বাংলাদেশ ও ক্রিকেটের নবাগত শক্তি আফগানিস্তান।

শক্তির বিবেচনায় অনেক পিছিয়ে থাকলেও সদ্য সমাপ্ত এশিয়া কাপে ঘরের মাঠে আফগানিস্তানের কাছে হেরে যাওয়ায় স্নায়ুর চাপে ভুগতে পারে বাংলাদেশ। আর টি-টুয়েন্টির মত খেলার জন্য খেলোয়াড়দের শারীরিক শক্তি-সামর্থ্যেও এগিয়ে আফগানিস্তান। তাই এবারের বিশ্বকাপের শুরু বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ দিয়েই শুরু হয়েছে।

চার ছক্কার ঝনঝনানিতে নিজেদের নামটি স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ করে রাখতে বদ্ধপরিকর সাকিব তামিমরা। ইনজুরি কাটিয়ে পূর্ণ শক্তি নিয়েই মাঠে নামছেন মুশফিক বাহিনী। ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে নিজেদের সর্বশক্তি দিয়েই ঝাপিয়ে পড়তে চান তারা। যদিও টি-টোয়েন্টির জমজমাট ক্রিকেটে মুশফিকদের সাফল্যর ঝুলিতে বেশি কিছু নেই। কিন্তু তাতে কি? এ মাটিতেই যে বিশ্বসেরা ক্রিকেট দলগুলো টাইগারদের কাছে বার বার বিপর্যস্ত হয়েছে। প্রতিপক্ষ আফগানদের সঙ্গে এশিয়া কাপের একটি ম্যাচ ছাড়া এখনও কোন টি-টোয়েন্টির ম্যাচ খেলেনি জাতীয় দল।

মুশফিকরা গত দুই মাস শ্রীলঙ্কা সিরিজ ও এশিয়া কাপে চোটাক্রান্ত দল নিয়েই ভালো ক্রিকেট খেলেছে। আইসিসি র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষে থাকা শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ফেব্রুয়ারিতে দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে শেষ বল পর্যন্ত লড়াই করে হেরেছে। র‌্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকা বাকি দলগুলো বিশ্বকাপ খেলতে এসে স্বাগতিকদের নিয়েই বেশি ভয়ের কথা বলেছে।

এদিকে বিশ্বকাপে প্রথম রাউন্ডের কোয়ালিফায়ারের সব খেলায় জয় নিয়ে অপরাজিত থেকেই দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠতে মরিয়া বাংলাদেশ। যদিও প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষ আফগানরা এশিয়া কাপে চোটাক্রান্ত টাইগারদের হারিয়ে যেন মাটিতে পা রাখতেই চাইছে না। সে ম্যাচে সাকিব তামিম ও মাশরাফির মতো ক্রিকেটার মাঠেই নামেনি। আবার অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম চোট নিয়েই খেলেছেন। সেই ম্যাচ জয় পেয়ে উদ্দীপ্ত আফগানরা অনবরত বাংলাদেশকে হারানোর হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।

শনিবার মিরপুরে অনুশীলন শেষে আফগান অধিনায়ক মোহাম্মাদ নবী এমনভাবে কথা বললেন যে বাংলাদেশকে তারা আমলেই নিচ্ছে না। নবীর ভাষায়,‘আমরা টি-টোয়েন্টিতে সেরা। সাকিব তামিম ও মাশরাফি ফিরেছে তাতে কি? আমরাই জিতবো।’ নবী যখন সাংবাদিকদের এ কথাগুলো বলছিলেন মুশফিকরা তখন পাশেই অনুশীলনে ব্যস্ত। এরপর টাইগার অধিনায়ক হাসিমাখা মুখে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হন।

ম্যাচের আগেই মুশফিকের এতো খুশির পেছনে অবশ্য কিছু কারণও আছে। কারণ হারিয়ে যাওয়া ফর্ম ফিরে পাওয়া এবং দুটি প্রস্তুতি ম্যাচেই ব্যাটিং বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে দারুণ ছন্দে বড় জয় পেয়েছে তার দল। অন্যদিকে আফগানরা নিজেদের প্রস্তুতি ম্যাচে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে বড় ব্যবধানেই হেরেছে। টাইগার অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম অবশ্য অফগানদের অবহেলা করেনি।

মুশফিক আরও বলেন, তারা টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের চেয়ে  এগিয়ে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ অধিনায়কের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে  মুশফিক বলেন, “টি-টোয়েন্টিতে প্রতিটি দল ফিফটি ফিফটি। তবে দক্ষতার দিক থেকে নির্ভর করে নির্দিষ্ট দিনে কে ভালো করছে। যদিও তারা আমাদের চেয়ে বেশি টি-২০ খেলেছে, তবে  দক্ষতার দিক থেকে আমরা ওদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। আমরা আত্মবিশ্বাসী, ওদের চেয়ে আমরা ভালো করব। বাকিটা আল্লাহর কাছে।”

এদিকে এশিয়াকাপে বাংলাদেশকে হারিয়ে উজ্জীবিত আফগানরা। তাই শনিবার সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মোহাম্মাদ নবী বলেন, ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভালো খেলার জন্য মাঠে নামব আমরা। তাছাড়া প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার আগে আমারা কোন চাপে নেই। বরং স্বাগতিকরাই চাপে থাকবে। সেজন্য এশিয়া কাপের ফলাফলের পুনরাবৃত্তি করতে চাই আমরা।’

বাংলাদেশ শিবিরে সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল ফিরেছেন। এখন পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে আফগানিস্তানকে মোকাবেলা করতে পারবে টাইগাররা। তাই বাংলাদেশী এই জোড়কে নিয়ে আফগানদের বিশেষ কোন পরিকল্পনা আছে কি না জানতে চাইলে নবী বলেন, ‘ আমরা তাদের ফেরা নিয়ে কোন ভাবনা ভাবছি না। বরং নিজেদের খেলাটা খেলতে চাই। আমাদের দলে ছয়জন অলরাউন্ডার আছে যারা বাংলাদেশে খেলেছেন। আশা করছি তারা টি-টোয়েন্টিতে ভালো করবেন। তবে আমার বিশ্বাস টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের থেকে আমরাই এগিয়ে।’

দু’শিবিরের ভালো খেলার প্রত্যয় ও অতীত অভিজ্ঞতায় নিশ্চয়ই বলা যায় রোববার লড়াইয়ের মাধ্যমেই শুরু হচ্ছে ক্রিকেটের মর্যাদাপূর্ণ ছো্ট ফরম্যাটের এবারের আসর।