‘৫৭ ধারা বাতিলে স্মারকলিপি দেবে সাংবাদিকরা’

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
70

প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা বাতিলের দাবিতে অাইন মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করবে সাংবাদিক সংগঠনগুলো। আজ মঙ্গলবার দুপুুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) গোলটেবিল মিলনায়তনে এক প্রতিবাদ সমাবেশে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

ডিআরইউ সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন বাদশা বলেন, স্মারকলিপি দেওয়ার পরও যদি ৫৭ ধারা বাতিল না করা হয়; ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের খসড়ায় ৫৭ ধারার অাদলে যে ১৯ ও ২০ ধারা করা হচ্ছে তাও যদি বহাল থাকে; তবে কঠোর অান্দোলনে যাবে সাংবাদিকরা।

আজ মঙ্গলবার দুপুুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) গোলটেবিল মিলনায়তনে এক প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। ছবি মহুবার রহমান

সাংবাদিকদের গ্রেপ্তারের প্রধান হাতিয়ার ৫৭ ধারা উল্লেখ করে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি শওকত মাহমুদ বলেন, সংসদে ঘোষণা দিয়ে ৫৭ ধারা এই মুহূর্তে বাতিল করা হোক। এমনকি দেশে অার যেন কারো নামে ৫৭ ধারায় মামলা না দেওয়া হয়।

বর্তমানে বিচারের ভার পুলিশের হাতে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু এই সরকারই না; ভবিষ্যতে যেন কোনো সরকার এই কুট কৌশল না করতে পারে সে দিকে অবশ্যই সোচ্চার থাকতে হবে।

৫৭ ধারায় বলা হয়েছে- ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কোনো ব্যক্তির তথ্য যদি নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হতে উদ্বুদ্ধ করে, এতে যদি কারও মানহানি ঘটে, রাষ্ট্র বা ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, তা হবে অপরাধ। এর শাস্তি অনধিক ১৪ বছর কারাদণ্ড এবং অনধিক এক কোটি টাকা জরিমানা।

২০০৬ সালে হওয়া ওই আইন ২০০৯ ও ২০১৩ সালে দুই দফা সংশোধন করা হয়। সর্বশেষ সংশোধনে সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর থেকে ১৪ বছর কারাদণ্ডের বিধান করা হয়। আর ৫৭ ধারার অপরাধকে করা হয় অজামিনযাগ্য।

বিএফইউজের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজী বলেন, আমরা মুক্ত মত প্রকাশের স্বাধীনতা চেয়েছিলাম। কিন্তু ৫৭ ধারা দিয়ে সেই স্বাধীনতাকে হরণ করা হয়েছে।এছাড়া ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের ১৯ ও ২০ ধারাতে ৫৭ ধরার প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। আমরা চাই এটাও বাতিল ঘোষণা করা হোক।

তিনি বলেন, সংবাদিকরা কোনো ঘটনা ঘটায় না; ঘটনা ঘটার পর তারা তা উপস্থাপন করে মাত্র। তাহলে এতে সাংবাদিকদের দোষ কোথায়।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শাবান মাহমুদ বলেন, ৫৭ ধারা বাতিলসহ দেশে বর্তমানে যেসব সাংবাদিকের নামে ৫৭ ধারায় মামলা হয়েছে অবিলম্বে তা প্রত্যাহার করা হোক। না হলে সাংবাদিকরা অান্দোলনে অারও কঠোর অবস্থানে যাবে।

জাতীয় প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘যে অপরাধী তার বিরুদ্ধে অামরা লিখবোই। দেখি কতজন সাংবাদিকের নামে মামলা দেন।

ডিআরইউর সাধারণ সম্পাদক মুরসালিন নোমানির সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সমাবেশে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন উক্ত আইসিটি অ্যাক্টের ৫৭ ধারায় মামলা ভোগ করা সংবাদিকরা।

অন্যদের মধ্যে এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএফইউজের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অমিয় ঘটক পুলক, বিএফইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, ডিআরইউর সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আফরাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক জিলানী মিল্টন, অর্থ সম্পাদক মানিক মুনতাসির, দপ্তর সম্পাদক নয়ন মুরাদ, প্রশিক্ষণ সম্পাদক রিয়াত প্রমুখ।

অর্থসূচক/মুন্নাফ/এস