লভ্যাংশে মন ভরছে না !

0
42
investors not satisfied on dividend
বাজার নিয়ে আতঙ্কিত বিনিয়োগকারী

investors not satisfied on dividendপুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম লভ্যাংশ ঘোষণার পর কমে যাচ্ছে। ভালো লভ্যাংশেও যেন মন ভরছে না বিনিয়োগকারীদের। হিসাব মিলছে না তাদের। গত সপ্তাহে বিভিন্ন খাতের ৮ টি কোম্পানি লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। রেকর্ড তারিখের পর সিঙ্গার ছাড়া বাকী সবগুলোরই শেয়ারের দাম কমেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেন তথ্য পর্যালোচনা করে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

কোম্পানিগুলোর মধ্যে তিনটি স্টক বা বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। রেকর্ড তারিখের পর সমন্বিত মূল্য যা হওয়ার কথা, সপ্তাহ শেষে তারচেয়ে অনেক কম দামে তাদের শেয়ার কেনা-বেচা হয়েছে।

পূবালী ব্যাংক লিমিটেড শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। এর রেকর্ড তারিখ ছিল ১০ মার্চ। রেকর্ড তারিখের আগের দিন ব্যাংকটির শেয়াএরর দর ছিল ৩৪ টাকা। রেকর্ড তারিখের পর ব্যাংকটির শেয়ারের সমন্বয় পরবর্তী মূল্য হওয়ার কথা ৩০ টাকা ৯০ পয়সা। সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার ডিএসইতে পূবালী ব্যাংকের শেয়ারের দাম দাঁড়ায় ২০ টাকা ২০ পয়সা।

ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড ১০ শতাংশ নগদ ও সম হারে বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করে। এর রেকর্ড তারিখ ছিল ১১ মার্চ। তার আগের দিন শেয়ারের দাম ছিল ২৮ টাকা ৫০ পয়সা। রেকর্ড তারিখের পরদিন শেয়ারের সমন্বিত দর হওয়ার কথা ২৫ টাকা ৯০ পয়সা। অথচ বৃহস্পতিবার শেয়ারটির দাম নেমে আসে ২৪ টাকা ৩০ পয়সা।

ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। রেকর্ড তারিখের আগে শেয়ারের দাম ছিল ৩০ টাকা ৮০ পয়সা, বৃহস্পতিবার তা কমে দাঁড়ায় ২৭ টাকা ৭০ পয়সা।

ইউসিবিএলের শেয়ারের দাম ২৭ টাকা ৭০ পয়সা থেকে কমে ২৩ টাকা ৩০ পয়সা হয়। প্রতিষ্ঠানটি ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

উত্তরা ফিন্যান্স ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণার পরও শেয়ারের দাম ৭৮ টাকা থেকে ৭৪ টাকায় নেমে আসে।

প্রাইম ফিন্যান্সের ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ শেয়ারের দর পতহন ঠেকাতে পারেনি। দাম ২৫ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ২৩ টাকায় নামে।

প্রকৌশল খাতের বিএসআরএম ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। এর শেয়ারের দাম কমে ৭০ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৬৯ টাকা ৯০ পয়সা হয়।

তবে একই খাতের সিঙ্গারের শেয়ারের দাম রেকর্ড তারিখের পর সামান্য বেড়েছে। সিঙ্গার বাংলাদেশ ১০০ শতাংশ নগদ ও ২৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করে। রেকর্ড তারিখের (১০ মার্চ) আগে শেয়ারের দাম ছিল ২৫৯ টাকা। সমন্বয় পরবর্তী মূল্য হওয়ার কথা ২০৭ টাকা। বৃহস্পতিবার এর শেয়ারের দাম ছিল ২১৮ টাকা।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু ভাল লভ্যাংশই দেয় নি, এরা ভাল মুনাফাও দেখিয়েছে। কিন্তু তারপরও এদের শেয়ারের দাম কমেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংকগুলো ভাল মুনাফা দেখালেও তাতে আস্থা রাখতে পারছেন না বিনিয়োগকারীরা। তারা মনে করেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ ছাড়ের কারণে এবার মুনাফা বেড়েছে। এগুলো ব্যাংকের প্রকৃত স্বাস্থ্যের প্রতিফলন নয়। বিশেষ করে বিভিন্ন ব্যাংকে বড় ধরনের অনিয়ম ও ঋণ সংকটের খবরে বিনিয়োগকারীদের আস্থা নড়বড়ে হয়ে গেছে। এর স্বপক্ষে তারা যুক্তি দেখিয়েছেন, সিঙ্গারসহ বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ ঘোষণা ও রেকর্ড তারিখের পর শেয়ারের দর কমছে না।