শাহজালালে ২টি আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
56

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এয়ারকার্গো থেকে আমদানি নিষিদ্ধ ২টি ওয়ালথার পিপি পিস্তল জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। আজ রোববার এসব অস্ত্র উদ্ধারের পর জব্দ করা হয়।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অপারেশন আইরিন-২ এর অধীনে পরিচালিত অভিযানে ওয়ালথার পিপি কালিবার ৭.৬৫ এম এম (.৩২ অটো) মডেলের দুইটি পিস্তল জব্দ করা হয়েছে।

Arms
বিমানবন্দরে এয়ারকার্গো থেকে জব্দ করা আমদানি নিষিদ্ধ ২টি ওয়ালথার পিপি পিস্তল।

শুল্ক গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ রোববার এয়ারকার্গো ইউনিটের ০১ নম্বর স্ট্রংরুমে রক্ষিত আগ্নেয়াস্ত্রগুলো পরীক্ষা করে শুল্ক গোয়েন্দা দল। সেখানে ইতালি থেকে আনা অস্ত্রের চালান জব্দ করা হয়েছে। শুল্ক গোয়েন্দার এয়ারফ্রেইট দল, কাস্টম হাউজ ঢাকার প্রতিনিধি, র‍্যাব ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা সে সময় উপস্থিত ছিলেন।

চালানটির আমদানিকারক হিসেবে ইমরান আর্মস অ্যান্ড কোম্পানি, ৬৫, বায়তুল মোকাররম, ঢাকা এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হিসেবে এম.এম. ট্রেডার্স, ৩১৯/১, পূর্ব রায়েরবাজার, মোহাম্মদপুর, ঢাকার ঠিকানা দেওয়া হয়েছে। পুরাতন ও ব্যবহৃত পিস্তল আমদানির ঘোষণা দিয়ে অস্ত্রগুলো আমদানি করা হয়েছিল।

কাগজপত্র যাচাইয়ে দেখা যায়, ইতালির আর্মেরিয়া ফ্রানসিলুসি ইটালো এসআরএল রোমা থেকে পিস্তলগুলো কেনা হয়েছে। প্রতিটি পিস্তলের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য- ৯০ ইউরো। এর উপরে ২৮৯ দশমিক ২১ শতাংশ শুল্ক করাদি প্রযোজ্য।

আমদানি নীতি আদেশ ২০১৫-২০১৮ অনুযায়ী রিভলভার ও পিস্তলসহ সব পণ্য অনুমোদিত ডিলার কর্তৃক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতিক্রমে আমদানিযোগ্য। একই আদেশের ‘আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য তালিকা’ এর ৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী, সেকেন্ডারি বা সাব স্ট্যান্ডার্ড কোয়ালিটি বা নিম্নমানের পণ্য অথবা পুরাতন, ব্যবহৃত, পুনঃসংস্কৃত (রিকন্ডিশন্ড) পণ্য অথবা কারখানায় বাতিলকৃত বা জব লট ও স্টক লটের পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ।

উল্লেখ, একই চালানে আরও ৫৬টি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। আগামী ১১ জুলাই সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে বাকি অস্ত্রগুলো পরীক্ষা করা হবে।

অপারেশন আইরিন নিরাপত্তা রক্ষায় ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অরগানাইজেশনের এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি ‘রিজিওনাল ইন্টেলিজেন্স লিয়াজো অফিস’ (রাইলো) কর্তৃক ঘোষিত পরিচালিত অভিযান। বাংলাদেশসহ এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের ২২টি দেশ এই অভিযানে অংশ নিচ্ছে। শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর এই অভিযানের লিয়াজো অফিস হিসেবে কাজ করছে।

প্রসঙ্গত, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কাস্টমস নেটওয়ার্কের মধ্যে ৩ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত ৩৩ দিনের ‘অপারেশন আইরিন-২’ অংশ হিসেবে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এই অপারেশনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘ক্ষুদ্র ও হালকা অস্ত্রের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং প্রতিহত করতে নিয়মিত অভিযান’।

অর্থসূচক/রহমত/এমই/