জি-২০ জলবায়ু ইস্যুতে জি-১৯ প্লাস আমেরিকা!

অর্থসূচক ডেস্ক

0
56

জার্মানির হামবুর্গে জি ২০ সম্মেলনে নেতারা যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়াই জলবায়ু চুক্তি বাস্তবায়নে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন। দুই দিনব্যাপী অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ দেশ দেশগুলোর জোট জি-২০ সম্মেলন যৌথ ঘোষণার মধ্য দিয়ে শনিবার শেষ হয়।

জোটের নেতারা জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যু নিয়ে শেষ পর্যন্ত একটি সমঝোতায় পৌঁছেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র এর বাইরে রয়েছে।

সমাপনী সংবাদ সম্মেলনে জার্মান চ্যান্সেলর বলেন, প্যারিস চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান দুঃখজনক। তবে জোটের অপর ১৯ সদস্য এক্ষেত্রে একজোট আছে, এটা সন্তোষজনক।

তবে বিবিসির উত্তর আমেরিকা প্রতিনিধি জন সোপেল তার এক নিবন্ধে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে জি-২০ গ্রুপকে বলেছেন, ‘জি-১৯ প্লাস আমেরিকা’।

সম্মেলনের ঘোষণা অনুযায়ী, প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়ার বিষয়টি মেনে নিয়েছে জোটের অপর সদস্যরা। জলবায়ুর পরিবর্তন ঠেকাতে কার্বণ নিঃসরণকারী শীর্ষ দেশটিকে ছাড়াই কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে তারা।

প্রথম দিনের আলোচনা শেষে স্বাগতিক রাষ্ট্র জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মার্কেল বলেছিলেন, বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা করাটা ছিল অত্যন্ত কঠিন। আর জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ইস্যুতে মতপার্থক্যটা ছিল একেবারে পরিষ্কার।

শেষ পর্যন্ত জলবায়ু পরিবর্তনসহ অন্যান্য অমীমাংসিত বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণায় কী রাখা হবে, তা নির্ধারণ করতে রাতভর কাজ করেন কর্মকর্তারা।

নেতারা দফায় দফায় বৈঠক করেন পরস্পরের সঙ্গে। মার্কেল সকালে নাশতার টেবিলে কথা বলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট  পুতিন ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁর সঙ্গে।

উল্লেখ, ফ্রান্সের প্যারিসে ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সম্মেলনে বিশ্বের তাপমাত্রা বাড়ার হার কমিয়ে আনতে প্রায় ২০০টি দেশ একমত হয়।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে নিজের দেশকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা বলেছিলেন। গত মাসে এই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

এবারের সম্মেলনের যৌথ ঘোষণায় বলা হয়, প্যারিস চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি আমরা আমলে নিয়েছি। তারপরও নেতারা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে প্যারিস চুক্তি অপরিবর্তনীয়।

এদিকে জলবায়ু ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে পাশে না পেলেও বাণিজ্য, অর্থনীতি, জ্বালানি, সন্ত্রাসবাদসহ অন্যান্য বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেন জি-২০ নেতারা।

সম্মেলনের পার্শ্ববৈঠকে গতকাল ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তারা জানান, দুই দেশ শিগগিরই একটি বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে।

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের সঙ্গেও গতকাল বৈঠক করেন ট্রাম্প। এ সময় উত্তর কোরিয়াকে নিয়ে সৃষ্ট সংকট আলোচনার ভিত্তিতে মীমাংসার ওপর জোর দেন তারা।

এর আগের দিন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের দুই ঘণ্টার বেশি সময় আলোচনার পর দুই নেতা তাদের দুই দেশের সম্পর্ক পুর্নগঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

টি