বিএনপি নির্বাচন করার খবরে আ’লীগ নার্ভাস: খসরু

প্রতিনিধি

0
56

বিএনপি নির্বাচন করবে এই ঘোষণাতেই সরকারের মধ্যে নার্ভাসনেস শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, সরকারের অন্যায়, অপকর্ম, কুর্কীতির কথা প্রতিটি জনগণ জানে। এজন্য তাদের আর জনগণের কাছে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই। নির্বাচন ছাড়াই ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতা দখল ছাড়া তাদের কোনো গতি নেই।

আজ শনিবার দুপুরে মহানগরীর হোটেল টাইগার গার্ডেন ইন্টারন্যাশনাল মিলনায়তনে বিএনপির সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে খুলনা মহানগর বিএনপি।

আমীর খসরু বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বিদেশ থেকে ফেরার পর নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা তুলে ধরবে। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে একটি করে প্রস্তাবনা দিয়ে বিএনপি জনগনকে আন্দোলনে সম্পৃক্ত করেছে।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন শক্তিশালীকরণ, রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষতিকর প্রভাবসহ সব ইস্যুতে ইতিবাচক রাজনীতির পরিচায়ক প্রস্তাবনা তুলে ধরেছে বিএনপি।

আমির খসরু বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া ১ জুলাই থেকে সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রম উদ্বোধন করলেও খুলনার মাধ্যমে এই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের শুভ সূচনা হলো।

বিএনপির রাজনীতিতে খুলনাকে মডেল অভিহিত করে তিনি বলেন, কর্মীরা সশৃঙ্খল ও সুসংগঠিত হলে তা দলের জন্য মঙ্গল, তেমনি দেশ পরিচালনায় তা সহায়ক।

বিএনপির সদস্য সংগ্রহ অভিযান চলমান আন্দোলনের অংশ উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, শুধুমাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতা পট পরিবর্তন নয়, আগামীতে বিএনপি কীভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে তার দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ভিশন-২০৩০ এর মাধ্যমে।

প্রধান বক্তার বক্তৃতায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ২০১৮ বা ২০১৯ যে বছরই নির্বাচন হোক, বিএনপি ও ২০ দল সে নির্বাচনে যাবে। সেই নির্বাচন হবে সহায়ক সরকারের অধীনে। ইনশাল্লাহ আগামী এক বছরের মধ্যে বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাবে এবং সে সরকারের প্রধানমন্ত্রী হবেন খালেদা জিয়া।

সভার সভাপতি বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও খুলনা মহানগর সভাপতি সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, খুলনা বিএনপি জনসম্পৃক্ত রাজনীতি চর্চ্চার মাধ্যমে ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ্য ধারার সংগঠন রেখে যেতে চায়। আগামী ১০ জুলাই থেকে প্রতিদিন দুটি ওয়ার্ডে কর্মী সভার মাধ্যমে সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হবে। পূর্ববর্তী ২০০৯ সালে খুলনা মহানগরীতে ২৫ হাজার সদস্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। এবার প্রতিটি ঘর থকে অন্তত একজন করে সদস্য সংগ্রহের মাধ্যমে মহনগর বিএনপির সদস্য সংখ্যা ৫০ হাজারে পৌঁছাতে চান বলে জানান তিনি।

মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কেসিসির মেয়র মনিরুজ্জামান মনির স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সভা শুরু হয়। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

এ সময় দলের প্রয়াত, নিহত নেতাকর্মীদের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং আহত অসুস্থদের সুস্থতা কামনা করে দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন ওলামা দলের নেতা মাওলানা শফিকুল ইসলাম।

বিএনপি নেতা অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম ও আসাদুজ্জামান মুরাদের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা, মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, সাবেক এমপি কাজী সেকেন্দার আলী ডালি , সাবেক এমপি সৈয়দা নার্গিস আলী, মীর কায়সেদ আলী,  বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন বিএফইউজের নির্বাহী সদস্য এহতেশামুল হক শাওন ও মহনগর ছাত্রদলের সভাপতি শরিফুল ইসলাম বাবু।

অনুষ্ঠানে নগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, নগর বিএনপি নেতা ভাষা সৈনিক এ্যাডভোকেট বজলুর রহমান ও নারী প্রতিনিধি সৈয়দা নার্গিস আলীর সদস্য পদ নবায়ন করা হয়। এছাড়া ড্যাবের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সরকারি চাকরি থেকে সদ্য অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ডা. শেখ মো. আখতার উজ জামান সদস্য ফরম পূরণের মাধ্যমে নতুন সদস্য পদ লাভ করেন।

অনুষ্ঠানে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ছাড়াও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

শিউলী/এসএম