রাবিতে ছাত্রলীগের শোডাউন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনে বাধা

0
55
RU
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

rabiরাবিতে ছাত্রলীগের শোডাউন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনে বাধারাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আন্দোলনকারী এক সক্রিয় কর্মী ছুরিকাহত হওয়ার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন কর্মসূচি করতে দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর প্রতিবাদে আহত শিক্ষার্থী সাজু সরদারের ওপর হামলাকারীদের আগামি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিচারের আওয়তায় আনার জন্য উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়ে আল্টিমেটাম দিয়েছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

এর আগে গত মঙ্গলবার প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বহিরাগতদের নিয়ে এসে  ২৫-৩০টি মোটরসাইকেল ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়কে হর্ন বাজিয়ে শোডাউন দেয় ছাত্রলীগ। পরে প্রক্টরের হস্তক্ষেপে তারা ক্যাম্পাস ছাড়তে বাধ্য হয়।

শনিবার সকাল ১১ টার কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-উপদেষ্টা ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা বাধা প্রদান করে। প্রশাসনের বাধার মুখে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করতে পারেনি। এর প্রতিবাদে দুপুর ১২ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের  উপাচার্যে দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করে।

পরে দুপুর পৌনে ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়নের টেন্ডে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী গোলাম মোস্তফা।

তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে অনুরোধে ও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আমরা আন্দোলনের কর্মসূচি স্থগিত করেছিলাম। কিন্তু গভীর রাতে জীবন নাশের জন্য আন্দোলনকর্মী সাজু সরদারের ওপর হামলা করা হয়। এটাই কি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যাবস্থা?’’ গত ২ ফেব্রুয়ারি হামলকারীদের অস্ত্র মহড়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সাধারণ শিক্ষার্থীর ওপর যখন হামলা হয় তখন আমরা প্রতিবাদে মানববনন্ধন করতে গেলে বাধা দেওয়া হয়। অথচ হামলাকারীরা বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে ক্যাম্পাসে মহড়া দিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ভঙ্গ হয় না। তাহলে কি ছাত্রলীগ আইনের উর্দ্ধে। এতে আমরা শঙ্কিত। যেকোন সময় হামলার শিকার হতে পারি বলে উল্লেখ করেন তিনি”।

গোলাম মোস্তফা তার বক্তব্যে আরও বলেন, ক্যাম্পাস হচ্ছে গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল চর্চাকেন্দ্র কিন্তু কথিত জুজু দেখিয়ে রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে বিশ্ববিদ্যালয়কে ভাষাহীন করে রাখা হয়েছে। আমরা আর কত নিগৃহীত হব? আগামি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আন্দোলন কর্মী সাজু সরদারের ওপর হামলাকারীদের বিচার ও তার চিকিৎসা ব্যয় বহন না করলে পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে হুশিয়ারি দেন তিনি।

সংবাদ সম্মলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আয়তুল্লাহ খোমেনী, পরিসংখ্যান বিভাগের ইকবার কবীর, ফিন্যান্স বিভাগের সোহরাব হোসেন, ফোকলোর বিভাগের আবু সুফিয়ান বকশি, উৎসব মোসাদ্দেক প্রমুখ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ছাদেকুল আরেফিন মাতিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা চলছে। এজন্য তাদের মানববন্ধন কর্মসূচি করতে দেওয়া হয়নি। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের আমরা বুঝিয়ে বলেছি। তারা মানববন্ধন না করে চলে গেছে।

সরকারপন্থি ছাত্র সংগঠন ক্যাম্পাসে মহড়া দিলে তাদের ব্যাপারে ছাড় আছে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি সবাই যেন সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত মেনে চলে। আর আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দেওয়া স্মারকলিপি খতিয়ে দেখা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এমআই/সাকি