বাংলাদেশে গুম বন্ধের আহ্বান এইচআরডব্লিউর

অর্থসূচক ডেস্ক

0
68
human_rights_watch_logo
নিউইয়র্কভিত্তিক একটি মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

২০১৩ সাল থেকে কয়েকশ ব্যক্তিকে আটকের তথ্য গোপন করেছে বাংলাদেশের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। তাদের অবস্থান সম্পর্কেও কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি বলে উল্লেখ করেছে নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। গুম প্রবণতা বন্ধ করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

একইসঙ্গে নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত, নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারগুলোকে জবাব এবং এই ধরনের গুরুতর অধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ীদের বিচার করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তিনি আমাদের কাছে নেই: বাংলাদেশে গোপনে আটক ও গুম- শিরোনামের এইচআরডব্লিউ’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে বাংলাদেশে কমপক্ষে ৯০ ব্যক্তি গুমের শিকার হয়েছেন। যদিও গোপনে আটকে রাখার কয়েক সপ্তাহ বা মাসের মধ্যে তাদের আদালতে হাজির করা হয়েছে। এছাড়া রাষ্ট্রীয় গোপন হেফাজতে মৃত্যুর হারও বেড়েছে।

human_rights_watch_logo
নিউইয়র্কভিত্তিক একটি মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

গোপন তথ্যে ভিত্তিতে এইচআরডব্লিউ বলছে, গোপনে আটক হওয়া ২১ জনকে হত্যা করা হয়েছে। আর ৯ জনের অবস্থা এখনও জানানো হয়নি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের প্রথম পাঁচ মাসে ৪৮টি নিখোঁজের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গোপন হেফাজতে নির্যাতন ও রূঢ় আচরণের অভিযোগ রয়েছে। ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে থেকে এখন পর্যন্ত বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতাকে তুলে নেওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে ১৯ জন কর্মী এখনও নিখোঁজ।

এইচআরডব্লিউ বলছে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতার’ প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। কিন্তু বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুম এখনও চলছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে মোট ৩২০টি নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে।

প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য, প্রত্যক্ষদর্শীসহ মোট ১০০ জনের সাক্ষাৎকার নিয়েছে এইচআরডব্লিউ। প্রতিবেদনে অভিযোগ ও আইনি কাগজপত্র যুক্ত করা হয়েছে। এইচআরডব্লিউ বলছে, অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ জবাব দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে বলা হয়, নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে বারবার দাবি করে আসছে আইনপ্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ। এই দাবিকে সরকারি কর্মকর্তারা সমর্থন দেন। তারা বলেন, নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিরা স্বেচ্ছায় গোপনে লুকিয়ে আছেন। এই ধরনের ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ নেয় না পুলিশ।

এইচআরডব্লিউর এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, নিখোঁজের বিষয়ে যথার্থ তথ্য থাকা সত্ত্বেও আইনের তোয়াক্কা না করে এই ভয়ংকর চর্চা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। মানুষজনকে আটক, তাদের দোষ ঠিক করা, শাস্তি নির্ধারণ, তাদের বাঁচিয়ে রাখা-না রাখার সিদ্ধান্তের পূর্ণ স্বাধীনতা যেন বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, মানবাধিকার, মানুষের জীবন ও আইনের প্রতি তোয়াক্কা না করাকে অভ্যাসে পরিণত করেছে বাংলাদেশ সরকার। এসব অভিযোগ অস্বীকার করারও প্রয়োজন বোধ করছেন না সরকারের নীতি-নির্ধারকরা; তারা নীরব থাকছেন। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছ থেকেও এমনটা প্রত্যাশা করছে তারা। এই নীরবতা ভাঙা প্রয়োজন।

অর্থসূচক/এমই/