ইঁদুরের গর্ত বেয়ে শোয়ার ঘরে ২৭ গোখরা

অর্থসূচক ডেস্ক

0
57

রাজশাহী নগরের বুধপাড়া এলাকার মাজদার রহমান চাকরিজীবী।কাজ শেষে বাড়ি ফেরেন সন্ধ্যার দিকে। মঙ্গলবার রাতে খাওয়াদাওয়া শেষে তার স্ত্রী ঘুমিয়ে গেলে  আরেক ঘরের বিছানায় বসে টিভি দেখছিলেন মাজদার ও তার সাত বছর বয়সী ছেলে সিয়াম। হঠাৎ তিনি দেখেন, ঘরের মধ্যে একটি সাপ।

লাঠি ও টর্চলাইট নিয়ে অনেক কষ্ঠে মারলেন আলমারির নিচে লুকিয়ে যায় সাপটি। কিন্তু সাপতো একটা না। এর কিছু সময় পরেই এরপর একসঙ্গে আরও তিনটি সাপ বেরিয়ে এল। সেগুলোও মারেন তিনি।

কিন্তু এরপর একে একে আরও সাপ বেরিয়ে আসতে থাকতে থাকলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন মাজদার।তার সঙ্গে যোগ দিলেন প্রতিবেশীরা।

প্রায় সারা রাত ধরেই সাপ মারলেন তারা। ভোররাতে হিসাব করে দেখা গেল, তারা ২৭টি গোখরা সাপ মেরেছেন। সবগুলোই ছিল মাজদার রহমানের শোয়ার ঘরে।

এদিকে পৈতৃক বাড়িটি সাপের দখলে চলে গেছে বলে বাড়ির সবাই আতঙ্কিত। মাজদার রহমান জানান, এ কারণে তাই তার বউ ও বাচ্চা এখন আর বাড়িতে থাকতে চাচ্ছেন না। ভয়ে ওই ঘরেও আর কেউ ঢুকছেন না।

সাপ মারা অভিযানে অংশ নেওয়া এক গ্রামবাসী জানান, মাজদারের ঘরে পাশেই রয়েছে একটি গোলাঘোর। তাতেই অসংখ্য ইঁদুরের গর্ত রয়েছে।সেই গোলাঘরের থেকে গর্ত করে ইঁদুরে রাজত্ব গড়েছে শোয়ার ঘরেও। আর সেই গর্তগুলোয় বাসা বেঁধেছিল সাপ।

তিনি জানান, রাত ১১টা থেকে ভোররাত ৪টা পর্যন্ত ঘরের মধ্যে বিভিন্ন গর্ত শাবল দিয়ে খুঁড়ে খুঁড়ে সাপগুলো মারা হয়েছে।

এদিকে মাজদারের ধারণা, বাড়িতে আরও সাপ আছে। সাপের বাচ্চাগুলোর বাপ-মা তো রয়েছেই। তাই অভিজ্ঞ সাপুড়ের খোঁজ করছেন তিনি।

তবে এভাবে সাপ মারা প্রসঙ্গে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ভেটেরিনারি সার্জন ও শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান চিড়িয়াখানা ও কেন্দ্রীয় উদ্যানের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরহাদ উদ্দিন একটি দৈনিককে বলেন, কোথাও কোনো বন্য প্রাণী দেখা গেলে প্রথম কাজ হচ্ছে বন বিভাগকে খবর দেওয়া। তাদের বন্য প্রাণী উদ্ধারকারী একটি দল রয়েছে। বাড়ির পাশে ঝোপঝাড় বা জলাশয় থাকলে বাড়িতে সাপের উপদ্রব হতে পারে।

সে ক্ষেত্রে বাড়িতে কার্বলিক অ্যাসিড রাখলে সাপ আসতে পারে না বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।

টি