বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি রপ্তানি খাতে বড় ধাক্কা: ইএবি

0
27
Export_Item
দেশের প্রধান চারটি রপ্তানি পণ্য

Export_Itemবিদ্যুতের সাম্প্রতিক মূল্য বৃদ্ধি দেশের রপ্তানি বাণিজ্যে  নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। নানা সংকটে জর্জরিত এ খাতের জন্য মূল্য বৃদ্ধি একটি বড় ধাক্কা। দেশের রপ্তানিকারকদের সংগঠন ইএবি এ আশংকা প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি রপ্তানিমুখী খাতকে বিদ্যুতের ঘোষিত মূল্যের আওতামুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছে।

শনিবার এক বিবৃতিতে ইএবি বলেছে, বর্তমানে দেশের রপ্তানীমুখী শিল্প নানা প্রতিকুল অবস্থার সম্মুখীন। এ শিল্পের উদ্যেক্তাদের দুর্দশার শেষ নেই। দফায় দফায় জ্বালানী তেল,বিদ্যুৎ, গ্যাস, ফ্যাক্টরী, স্থাপনা ভাড়া, উৎসে কর, আয়কর, আমদানী শুল্ক, ব্যাঙ্কের সুদ হার বৃদ্ধি-সহ কাঁচামাল আমদানী ও রপ্তানী পণ্য পরিবহন খাতে ভাড়া বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচ আশংকাজনকভাবে বেড়ে গেছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগী দেশের তুলনায়  প্রতিযোগিতার সক্ষমতা কমে গেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের রপ্তানীমূখী শিল্প খাতে প্রত্যক্ষভাবে ১ কোটির বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। আর পরোক্ষভাবে এর সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৫ কোটি মানুষ। তাদের জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা হয়ে থাকে এ খাত থেকে। তাই এ খাতটি সংকটে পড়লে বৃহত্তর জনগোষ্ঠিকে দুর্ভোগে পড়তে হবে।

ইএবি সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদীর সই করা বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০১৩ সন ছিল বাংলাদেশের জন্য রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা,শ্রম অসন্তোষ,শিল্প-কারখানা ধ্বংসসহ রপ্তানীমুখী শিল্পখাতের জন্য একটি ঘটনা বহুল বছর এবং অস্বাভাবিক অবস্থা অতিক্রম করতে হয়েছে।

ইউরোপের প্রকট ঋণ-সংকট থাকা অবস্থায় শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সংকট। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে পোষাক কেনা কমছে। ফলশ্রুতিতে যুক্তরাষ্ট্র একক বৃহত্তম পোষাকের বাজার হতে রপ্তানী আয় ক্রমাগতভাবে কমছে। উল্লেখ্য,রপ্তানী-মূখী শিল্পে বিরাজিত চরম বিশৃংখলার কারণে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ব্যবসায়ও মন্দা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী জানা যায় যে,পোষাক ও বস্ত্র শিল্পখাতসহ রপ্তানীমুখী শিল্পের স্বাভাবিক ব্যবসা না করতে পারায় প্রতিনিয়ত নিম্নমানের ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া দেশের ব্যাংকগুলোতে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা অলস অর্থ রয়েছে,যা বিনিয়োগ হচ্ছে না। অর্থাৎ ব্যবসা-বাণিজ্যের সার্বিক অবস্থা অর্থনীতির জন্য সহায়ক নয়।

ঠিক এমন অবস্থায় হঠাৎ বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি রপ্তানীমুখী শিল্পখাত বিশেষ করে পোষাক ও বস্ত্রখাত নতুন করে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। গত  গত ১ মার্চ কার্যকর করে বিদ্যুতের মূল্য ৬.৯৬ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকার কারণে ‘অঞ্চল ভিত্তিক’ ৩ ঘন্টা হতে ৫ ঘন্টার ‘বিদ্যুৎ বিরতি বা লোডশেডিং থাকে। এ অবস্থার কারণে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্বিগুণ হারে পিক আওয়ার রেটসহ মজুরী পরিশোধ করতে  এ পরিস্থিতি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বড় আঘাত হয়ে দেখা দিয়েছে।