দুর্ঘটনায় প্রাণহানি-ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
69
দুর্ঘটনা কবলিত মাইক্রোবাস

এবারের ঈদে রেশনিং পদ্ধতিতে ছুটি থাকায় ঈদ যাত্রা খানিকটা স্বস্তিদায়ক হলেও সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে। এছাড়া বেড়েছে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও। গতবছরের চেয়ে এ বছর সড়ক পথে নিহতের সংখ্যা বেড়েছে ৮৮ জন। ২০১৭ সালে ২০৫ টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ২৭৪ জন, আহত হয়েছে ৮৪৮ জন।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত ‘ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনা প্রতিবেদন-২০১৭’  প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য উঠে আসে।

সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, প্রতিবছর ঈদ কেন্দ্রিক সড়ক দুর্ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় গত ৪ বছর ধরে বিষয়টি তারা পর্যবেক্ষণ করছিলেন। দুই বছরে ঈদুল ফিতরের ঈদ যাত্রায় সড়ক,রেল,নৌ দুর্ঘটনার তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০১৬ সালে ১২১ টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ১৮৬ জন, আহত হয়েছে ৭৪৬ জন। অন্যদিকে ২০১৭ সালে ২০৫ টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ২৭৪ জন আহত হয়েছে ৮৪৮ জন। পাশাপাশি ২০১৬ সালে ট্রেন দুর্ঘটনার শিকার ৩ জন, নৌপথে দুর্ঘটনার সংখ্যা ৩, এতে নিহত ১১ জন, আহত ১৮ জন।  ২০১৭ সালে ট্রেনে দুর্ঘটনার শিকার ৩৪ জন, নৌপথে ১টি দুর্ঘটনায় নিহত ৩ জন ও আহত ১৪ জন।

ঈদ যাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

মোজাম্মেল হক বলেন, যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, অতিরিক্ত গতিতে যানবাহন চালানো, অদক্ষ চালক দ্বারা যানবাহন চালানো, ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী বহন, অটোরিক্সা, ব্যাটারি চালিত রিক্সা, নসিমন-করিমন চলাচল, রাস্তার উপর হাটবাজার ও ফুটপাত দখল, ফুটপাত না থাকা, বিপদজনক ওভারটেকিং, বিরতিহীন/বিশ্রামহীন ভাবে যানবাহন চালানো, ভাঙ্গা-চোরা এ খানাখন্দে রাস্তাঘাট এসব দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।

এ সময় তিনি বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন। সুপারিশ গুলোর মধ্যে আছে, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইউনিট গঠন, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ, যানবাহনের ফিটনেস পদ্ধতি ডিজিটাল করা, প্রশিক্ষিত চালক গড়ে তোলা, ওভারলোড নিয়ন্ত্রণে মানসম্মত পর্যাপ্ত গণপরিবহনের ব্যবস্থা করা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ঈদযাত্রা শুরু দিন ১৯ জুন ১২টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ২০ জন আর আহত ৯২ জন, ২০ জুন ৬টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ৬ জন আর আহত ২০ জন; ২১ জুন ১২টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ১৬ জন আর আহত ১৮ জন; ২২ জুন ১১টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ১৪ জন আর আহত ৩৯ জন, ২৩ জুন ১৫টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ১৮ জন আর আহত ৩৫ জন, ২৪ জুন ২০টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ৪১ জন আর আহত ৮৫ জন, ২৫ থেকে ২৮ জুন ৬০টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ৮০ জন আর আহত ১২৮ জন, ২৯ জুন ২৩টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ৩৪ জন আর আহত ১২৪ জন, ৩০ জুন ২১টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ২৩  জন আর আহত ৭৮ জন। ১ জুলাই ২৫টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ২২ জন আর আহত হয়েছে ১২৯ জন।

track Accident
দুর্ঘটনা কবলিত একটি ট্রাক। ফাইল ছবি।

সর্বমোট ২০৫ টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ২৭৪, আর আহত হয়েছে ৮৪৮ জন।

তাদের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, যানবাহনের ৩৮ ভাগ বাস, ৩৪ ভাগ ট্রাক ও পিকআপ, ২৪ ভাগ নছিমন-করিমন, ভটভটি-ইজিবাইক, অটোরিক্সা ও মোটরসাইকেল, ৪ ভাগ অন্যান্য যানবাহন এসব দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল। দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষনে দেখা যায়, পথচারী ৩৬ শতাংশ, সংঘর্ষ ৩৮ শতাংশ, ওভারটেকিং ১৩ শতাংশ, অন্যান্য কারণে ১৩ শতাংশ দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটিরিং সেলের সদস্যরা ২২টি জাতীয় দৈনিক, ৬টি আঞ্চলিক দৈনিক, ১০টি অনলাইনে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ মনিটরিং করে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছেন।

অর্থসূচক/মুন্নাফ/কে এম