স্বস্তিতে নেই ফরহাদ মজহারের পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
72
Farida Akter
ফরহাদ মজহারের স্ত্রী ফরিদা আক্তার।

যশোরের নওয়াপাড়া থেকে গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে কবি ও কলামিস্ট ফরহাদ মজহারকে উদ্ধার করা হয়েছে। যশোর থেকে আনার পর আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর থানায় রাখা হয় তাকে। সেখান থেকে এই কবিকে নেওয়া হয়েছে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে।

উদ্ধারের পর ১২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও ফরহাদ মজহারকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে না দেওয়ায় অস্বস্তিতে রয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা। ফরহাদ মজহারের স্ত্রী ফরিদা আক্তার বলেন, উদ্ধার ১২ ঘণ্টা পার হওয়ার পরও তাকে এখনও ফিরিয়ে না দেওয়ায় আমরা অস্বস্তি ও আশঙ্কায় রয়েছি।

তিনি আরও বলেন, যশোরে উদ্ধার করে ঢাকায় আনার পর তাকে আমরা দেখেছিলাম। শারীরিকভাবে তাকে মোটেও সুস্থ মনে হয়নি। এমন অবস্থায় তাকে আদাবর থানা হেফাজতে রাখা হয়েছিল। সেখানে সব কাগজপত্র দেখানোর পরও ফরহাদ মজহারকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। এরপর সেখান থেকে তাকে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়েছে। এখন বলা হচ্ছে, আদালতে তোলা হবে।

Farida Akter
ফরহাদ মজহারের স্ত্রী ফরিদা আক্তার।

অপরহণ মামলার শুনানির জন্য আদালতে তোলা হচ্ছে- পুলিশের এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ফরিদা আক্তার বলেন, অপহরণ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলাম। আমরা কোনো মামলা করিনি।

তিনি আরও বলেন, ফরহাদ মজহারকে উদ্ধার করায় প্রাথমিকভাবে আমরা স্বস্তি প্রকাশ করেছিলাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাকে আমরা ফিরে পাইনি। যতক্ষণ পর্যন্ত তাকে আমরা ফেরত না পাবো- ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের স্বস্তি নেই। এখন আমরা আশঙ্কিত।

প্রসঙ্গত, গতকাল সোমবার দুপুরের দিকে ফরহাদ মজহারের পরিবারের পক্ষ থেকে রাজধানীর আদাবর থানায় অভিযোগ করা হয়েছিল, ভোর ৪টার দিকে একজন পরিচিত ব্যক্তির ফোন পেয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে যান লেখক ফরহাদ মজহার। এরপর থেকে তার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।

এরপর মোবাইল ফোন নাম্বার ট্র্যাকের মাধ্যমে ফরহাদ মজহারের সন্ধানে অভিযান অভিযান শুরু করে র‍্যাব ও পুলিশ।

সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ফরহাদ মজহারের খোঁজে খুলনায় অভিযান শুরু করে র‍্যাব-৬। র‍্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা ফোন নাম্বার ট্র্যাক করে জেনেছেন, ফরহাদ মজহার খুলনায় অবস্থান করছেন। রাত ১১টার দিকে উদ্ধার অভিযান স্থগিত ঘোষণা করেছিল র‍্যাব।

গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে যশোরের অভয়নগরে খুলনা থেকে ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাস থেকে উদ্ধার করা হয় ফরহাদ মজহারকে। আদাবর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হওয়ায় রাতেই ফরহাদ মজহারকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।

উদ্ধার করার পর গতকাল দিবাগত রাত ১টা ২০ মিনিটে খুলনার ফুলতলা থানায় সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি দিদার আহমেদ জানিয়েছিলেন, অপহরণ নয়; স্বেচ্ছায় ভ্রমণে ছিলেন ফরহাদ মজহার। তার ব্যাগে মোবাইল ফোনের চার্জার, শার্টসহ বেড়াতে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস পাওয়া গেছে। ব্যাগ দেখে বোঝা যাচ্ছে, স্বেচ্ছায় ভ্রমণে এসেছেন তিনি। ফরহাদ মজহার সুস্থ আছেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, অপহরণ নাটক সাজানো হয়েছিল বলে মনে হচ্ছে।

আজ সকালে আদাবর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সুজিত কুমার সাহা জানান, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে একটি দল ফরহাদ মজহারকে ঢাকায় নিয়ে এসেছে। তাকে আদাবর থানায় নেওয়া হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অর্থসূচক/মুন্নাফ/এমই/