সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ১৫টি মোবাইল ফোন

অর্থসূচক ডেস্ক

0
355
এ যাবৎ কালে মোবাইল সেট বিক্রির তালিকার শীর্ষে এ মডেলটি।

মোবাইল বিশ্বের নতুনত্বে স্মার্টফোন আমাদেরকে অবাক করে দিচ্ছে ক্রমশই। চমৎকার সব প্রযুক্তি, শক্তিশালী সব হার্ডওয়্যার যেন ধীরে ধীরে বিশাল আকারের সেই সুপারকম্পিউটার আমাদের হাতের মুঠোয় ধরা দিচ্ছে। কিন্তু এই প্রযুক্তি কিন্তু একদিনে আসেনি। এর পেছনে রয়েছে আগের সেই ক্ল্যাসিক বা বাটনওয়ালা ফোনগুলোর অবদান। যেগুলোর ডিসপ্লেও ছিল সাদা-কালো, ১২৮ বাই ১২৮ পিক্সেল। তবে যতই সাধারণ হোক না কেন ওই ফোনগুলোই কিন্তু তখন সারা বিশ্বে রাজত্ব করে গিয়েছে। তাই পাঠকদের স্বরণ করিয়ে দিতে গ্যাজেট নাউ অবলম্বনে সর্বকালের সেরা কিছু মোবাইল ফোনের তালিকা জানাচ্ছে অর্থসূচক-

১. নোকিয়া ৩৩১০: সর্বসময়ের সর্বশ্রেষ্ঠ মোবাইল ফোন ব্র্যান্ডের একটি নকিয়া। সম্প্রতি তার অনেক প্রত্যাশিত প্রত্যাবর্তন হয়েছে। এইচএমড গ্লোবালের সাথে যৌথভাবে প্রতিষ্ঠানটি ভারতে নতুন অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন চালু করেছে। শুধু ভারতে নয়; সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়েছে নকিয়ার কিংবদন্তী ৩৩১০ এর ‘রিমিগিন্ড’ সংস্করণসহ এই স্মার্টফোনগুলি।

সর্বশ্রেষ্ঠ মোবাইলের তালিকায় নকিয়া ৩৩১০ মোবাইলটির ধারে কাছে অন্য কোন মোবাইল নেই।

চলতি বছরের শুরুতে স্পেনের বার্সেলোনায় মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসে এর উদ্বোধন করা হয়। প্রকৃত নোকিয়ার ৩৩১০ এর মত গত কয়েক বছরে একাধিক মোবাইল ফোন তৈরি হয়েছে। যার জনপ্রিয়তা আজকের দিনেও অক্ষত রয়েছে।

যখন প্রসঙ্গ আসে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মোবাইলের তালিকা, তখন সম্ভবত নকিয়ার নকিয়া ৩৩১০ মোবাইলটির ধারে কাছেও অন্য কোন মোবাইল ঘেঁষতে পারবে না। এই ফোনটি এতই জনপ্রিয় ছিল যে বর্তমান প্রজন্মেরও প্রায় সবাই এই মডেলগুলো কোথাও না কোথাও দেখেছে। বলতে গেলে এই ফোনগুলোই নকিয়াকে জনপ্রিয়তার দৌড়ে এগিয়ে দিয়েছিল সবচাইতে বেশি।

Nokia 3310 Design
ফিনিশ স্টার্ট-আপ প্রতিষ্ঠান এইচএমডি গ্লোবালের লাইসেন্সের আওতায় নতুন করে বাজারে এসেছে নকিয়া ৩৩১০।

২০০০ সালে বাজারে আসা ইটের মত শক্তিশালী বিল্ড কোয়ালিটি এবং চমৎকার ব্যাটারি লাইফ খুব দ্রুতই তখনকার প্রযুক্তির দুনিয়ায় ফোনটিকে এক অঘোষিত রাজার সম্মান দিয়েছিল। পুরো বিশ্বে সেটটি বিক্রিই হয় প্রায় ১৩ কোটি।

সেই ১৯৯৬ সালে বাজারে আসা ফোনটি ফোল্ডিং মডেলের ছিল।

২. মটোরোলা স্টারটেক: সেরা মোবাইল ফোনের তালিকায় সবচেয়ে পুরনো সেট বলা যেতে পারে মটোরোলা স্টারটেক’কে। সেই ১৯৯৬ সালে বাজারে আসা ফোনটিকে যারা ব্যবহার করেছেন, তারা এখনও ফোল্ডিং সেটটিকে ভুলতে পারেননি। দ্বিতীয় জেনারেশনের (২জি) এই ফোনে ছিল মনোক্রমগ্রাফিক ডিসপ্লে, ৪*১৫ ক্যারেক্টার রেজুলেশন, মনো রিংটোন, ভাইব্রেট এলার্ট, ৫০০ অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি। তখনকার নতুন প্রযুক্তির সেটটি কিনেছিলেন প্রায় ৬ কোটি মানুষ।

এ যাবৎ কালে মোবাইল সেট বিক্রির তালিকার শীর্ষে এ মডেলটি।

৩. নোকিয়া ১১০০: এ যাবৎ কালে মোবাইল সেট বিক্রির তালিকার শীর্ষে রয়েছে নোকিয়ার ১১০০ মডেলটি। প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত অপর মডেল ৩৩১০-র মতো এটি তেমন জনপ্রিয়তা না পেলেও বিক্রির দিক থেকে অনেক এগিয়ে। ২০০৩ সালে বাজারে আসার পর বিক্রি হয়ে যায় ১৫ কোটিরও বেশি সেট।

এটি ছিল নোকিয়ার সর্বপ্রথম স্মার্টফোন।

৪. নোকিয়া ৬৬০০: ২০০৩ সালে নোকিয়া’র ৬৬০০ মডেলের সেটটি ছিল অনেকের কাছেই স্বপ্নের মতো। এটি ছিল নোকিয়ার সর্বপ্রথম স্মার্টফোন। এর ছিল ভিজিএ (০.৩ মেগাপিক্সাল) সেজুলেশন রিয়ার ক্যামেরা, ভিডিও কল, ৬ এমবি ইন্টার্নাল মেমোরি, ২ দশমিক ১৬ ইঞ্চি টিএফটি ডিসপ্লে। উচ্চমূল্যের সেটটিতে কিছুটা ছাড় দেয়ার পর মূহুর্তেই বিক্রির সংখ্যা দাঁড়ায় ১৫ কোটিতে।

এটি দেখতে একটি ল্যাপটপের মত ছিল।

৫. নোকিয়া ৯২১০ কমিউনিকেটার: নোকিয়ার একটি সত্যিকারের প্রতীক ছিল এর ইঞ্জিনিয়ারিং দক্ষতা। নোকিয়ার ৯২১০ কমিউনিকেটার ছিল একটি ব্যবসা-ক্লাস স্মার্টফোন। যা দেখতে একটি ল্যাপটপের মত ছিল। মিনি-কীবোর্ড, রঙ্গিন পর্দা,  ফ্যাক্স পাঠাতে ও গ্রহণ করতে সক্ষম এমন কয়েকটি মোবাইল ফোনগুলির মধ্যে একটি। ই-মেইল এবং ইউনিক কনভার্টার থেকে ইন্টারনেটে প্রবেশের জন্যও ছিল অন্যতম। ২০০০ সালে এটি উন্মোচন করা হয়।

মটোরোলার তৈরি রজার ভি৩ ছিল দ্বিতীয় সর্বাধিক জনপ্রিয়।

৬. মটোরোলা রজার ভি৩: নকিয়া ৩৩১০ এর পর তালিকায় রয়েছে মটোরোলার তৈরি রজার ভি৩ ফোনটি। এই ফোনটির পূর্বে স্লিম ফোনের কনসেপ্ট ছিল বেশ অদ্ভুত। এমনকি ৩২১০ এবং ৩৩১০ কে এই ফোনটির সাথে তুলনা করলে এই আল্ট্রা স্লিম ডিভাইসটির কাছে সেই ফোনগুলোকে সত্যিকার অর্থেই যেন মনে হতো ইটের মত।

ডিজাইনটি এতই জনপ্রিয়তা পেয়েছিল যে মটোরলা প্রতিষ্ঠানটি বেশ কিছু সময় ধরে এই ফোনটি তৈরি করেছিল। ফোনটি যে শুধু আল্ট্রা-স্লিমই ছিল তাই কিন্তু নয়, এটি ছিল একটি ফ্লিপ ফোন যা ব্যবহারকারীদের মন খুব সহজেই জয় করে নিয়েছিল। এই ফোনটির কারণে তখন মটোরোলার প্রতিদ্বন্দ্বীদের ফোনের নতুন ডিজাইন নিয়ে বেশ মাথা ঘামাতে হয়েছিল বলেই জানা যায়।

রিংটোন ছাড়াও ফোন ব্যবহারকারীদের নিজস্ব রিংটোন তৈরি করার পদ্ধতি ছিল ফোনটিতে।

৭. এরিকন টি২৮: ১৯৯৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এরিকসন টি২8 ছিল ওই সময়ের সবচেয়ে পাতলা মোবাইল ফোন। যার ওজন ছিল মাত্র ৮৩ গ্রাম। ফোনটিতে ডুয়াল ব্যান্ড জিএসএম ছিল সামঞ্জস্যপূর্ণ। মোট ২৫০টি নম্বার সংরক্ষণের জন্য একটি ফোনবুক ছিল। ট্যাট্রিক্স এবং সলিয়েটার মত জনপ্রিয় ক্লাসিক গেমসও ছিল। মনোফোনিক রিংটোন ছাড়াও ফোন ব্যবহারকারীদের নিজস্ব রিংটোন তৈরি করার পদ্ধতি ছিল ফোনটিতে।

শিয়র টাইপ কিবোর্ড, ১.৩ মেগাপিক্সেল ক্যামেরার প্রথম ব্ল্যাকবেরি হ্যান্ডসেট।

৮. ব্ল্যাকবেরি পর্ল ৮১০০: যদিও ব্ল্যাকবেরির আধিপত্য বেশ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। তবুও একটি সময় ছিল যখন ব্ল্যাকবেরি হ্যান্ডসেটগুলিই ছিল ব্যবসায়িক যোগাযোগ ডিভাইসের সংজ্ঞায়। ২০০৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত পার্ল ৮১০০’র ছিল শিয়র টাইপ কিবোর্ড, ১.৩ মেগাপিক্সেল ক্যামেরার প্রথম ব্ল্যাকবেরি হ্যান্ডসেট। রঙ্গিন পর্দার মোবাইলটি বিখ্যাত নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য ছিল উল্লেখযোগ্য।

এর বিখ্যাত একটি বৈশিষ্ট্য ছিল মেকানিক্যাল স্লাইডার।

৯. নোকিয়া ৮১১০: মোবাইলটি ১৯৯৬ সালে প্রকাশ করা হয়। এর বিখ্যাত একটি বৈশিষ্ট্য ছিল মেকানিক্যাল স্লাইডার। শুধু তাই নয়, স্লাইডারটি একটি সমন্বিত মাইক্রোফোন ছিল যাতে এটি যখন খোলা হত, এটি ব্যবহারকারীর মুখের কাছাকাছি হত; ফলে আরও ভাল ভয়েস পাওয়া যেত।

বিশ্বের প্রথম মোবাইল ফোন যা ছিল পোর্টেবল গেমিং কনসোল।

১০. নোকিয়া এন-গেজ: এন-গেজ সম্ভবত বিশ্বের প্রথম মোবাইল ফোন যা পোর্টেবল গেমিং কনসোল থাকায় দ্বিগুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। স্মুথ ফিনিশের আরেকটি ক্লাসিক মোবাইল এটি। এর উপরে এবং নীচে মাইক্রোফোন ছিল।

নকিয়ার এন৯৫ ডিভাইসটির মাধ্যমেই ‘ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোনের’ ধারা প্রচলিত হয়েছিল।

১১. নোকিয়া এন৯৫: একটা সময় ছিল যখন নকিয়া, মটোরলা এবং রিম (বর্তমানে ব্ল্যাকবেরি) প্রতিষ্ঠানগুলো ফোনের দুনিয়ায় তুমুল ব্যবসা করেছে। স্মার্টফোনের ধারণাটা তখনও খুব একটা স্পষ্ট ছিলনা। তবে মজার বিষয় হচ্ছে, নকিয়ার এন৯৫ ডিভাইসটির মাধ্যমেই বলা চলে ‘ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোনের’ ধারা প্রচলিত হয়েছিল।

নকিয়ার এন৯৫ ডিভাইসটিই মোবাইল জগতে চমৎকার সূচনা ঘটিয়েছিল বলা চলে। চমৎকার ক্যামেরা, শক্তিশালী ওএস, অনেক ধরণের কাস্টমাইজেশন অপশন, ডিসেন্ট লুক, ৫ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা, ব্লুটুথ, ওয়াইফাই-সব মিলিয়ে সে সময়ের ডিভাইসের রাজা বলে আখ্যায়িত করা হত।

সনি এরিকসনের শক্তিশালী ক্যামেরা ও অডিওপ মোবাইল ফোন ছিল এটি।

১২. সনি এরিকসন কে৭৫০: সনি এরিকসনের একটি শক্তিশালী মোবাইল ফোন ছিল এটি। ক্যামেরা এবং ভাল মানের মোবাইল ফোনটি ২০০৫ সালে বাজারে আসলে অনেকেই পছন্দ করা শুরু করে।

আইফোনের আগে অন্য কোনও মোবাইল প্রতিষ্ঠান নতুন যুগে প্রবেশ করেনি।

১৩. অ্যাপল আইফোন: স্টিভ জবসের আইফোনের আগে অন্য কোনও প্রতিষ্ঠান মোবাইলের নতুন যুগে প্রবেশ করেনি। ২০০৭ সালে অ্যাপল আইফোন বাজারে আসে। কীবোর্ড, চতুর্ভুজ-ব্যান্ড জিএসএম সাপোর্ট এবং অ্যাক্সেলারোমিটার, প্রক্সিমিটি সেন্সর এবং আভ্যন্তরীণ হালকা সেন্সরগুলির বৈশিষ্ট্যগুলি নিয়ে বিশ্বকে বেশ উৎসাহ দেয় ফোনটি।

এইচটিসি ড্রিমের একটি অনুভূমিক স্লাইড-আউট টাচস্ক্রীনের নিচে একটি পূর্ণ কিবোর্ড ছিল।

১৪. এইচটিসি ড্রিম: এইচটিসির এখন হতাশাজনক সময়গুলোর মধ্য দিয়ে গেলেও অ্যান্ড্রয়েডের জন্য প্রথম বাণিজ্যিক স্মার্টফোন আনার বিশেষত্ব রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। এইচটিসি ড্রিমের একটি আনুভূমিক স্লাইড-আউট টাচস্ক্রীনের নিচে একটি পূর্ণ কীবোর্ড ছিল, ১৯২ এমবি র‍্যাম, এবং ২৫৬ এমবি ইন্টারনাল মেমোরি, ১.৬ ওএসের অ্যানড্রয়েড স্মার্টফোনটি ১১৫০ অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি সম্পন্ন ছিল।

তবে ফ্যাবলেটের দুনিয়ায় এই ডিভাইসটির জনপ্রিয়তার মূল কারণ বড় পর্দা।

১৫. স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট: স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ডিভাইসটির জনপ্রিয়তার পেছনে অনেকগুলো কারণ কাজ করে থাকে। তবে ‘ফ্যাবলেটের দুনিয়ায় প্রথম ডিভাইস’, এই কারণটিই সম্ভবত এই ডিভাইসটির জনপ্রিয়তার মূল কারণ। বিভিন্ন রকম কাজ খুব সহজেই করা যায় বলে বর্তমানে বড় স্ক্রিনের ডিভাইসগুলো বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। আর স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ডিভাইসটিতেও ছিল বড় এবং চমৎকার ডিসপ্লে ইউনিট। এছাড়াও স্মার্টফোনটির ব্যাটারি ব্যাক আপ বেশ ভালো ছিল। তাই ব্যবহারকারীদের মাঝে খুব সহজেই জনপ্রিয়তা পেয়েছিল এই স্মার্টফোনটি।

অর্থসূচক/মুন্নাফ/কে এম