‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পুনর্বহাল হয়নি’

অর্থসূচক ডেস্ক

0
66
mahbub a alam
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। ফাইল ছবি

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার রায় আপিল বিভাগ বহাল রাখায় হতাশা প্রকাশ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি বলেন, এই বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে রিভিউয়ের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পুনর্বহাল হয়নি; শূন্যতা বিরাজ করছে।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখে আজ সোমবার আপিল বিভাগের রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

High court
হাইকোর্ট।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পক্ষে রায় দিয়েছে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র সুমার (এস.কে.) সিনহার নেতৃত্বাধীন ৭ বিচারকের আপিল বিভাগ বেঞ্চ। ফলে বিচারক অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে থাকছে না।

বেঞ্চের অপর ৬ সদস্য হলেন বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।

এই মামলার শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। রিট আবদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন মনজিল মোরশেদ।

রায় ঘোষণার পর মনজিল মোরশেদ বলেন, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল খারিজ করে দিয়েছে আপিল বিভাগ। ফলে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে থাকবে না। আগের মতোই বিষয়টি দেখবে জুডিশিয়াল কাউন্সিল।

প্রসঙ্গত, সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী আনা হয়। বিলটি পাসের পর ওই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর তা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। পরে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী আইন-২০১৪-এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই বছরের ৫ নভেম্বর হাইকোর্টে রিট আবেদনটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের ৯ আইনজীবী।

রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের ৫ মে তারিখে বিচারকদের অপসারণ ক্ষমতা সংসদের হাতে অর্পণ সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীকে অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে হাইকোর্টের ৩ সদস্যের বেঞ্চ। বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত ওই বেঞ্চের অপর দুই সদস্য ছিলেন- বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল। ৫ মে সংক্ষিপ্ত রায়ের পর একই বছরের ১১ আগস্ট ১৬৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে হাইকোর্ট।

রায়টি লিখেছেন, বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী। বেঞ্চের অপর বিচারপতি কাজী রেজাউল হক এই রায়ের পক্ষে মত দিলেও দ্বিমত পোষণ করে আরেকটি রায় দিয়েছেন বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল। উচ্চ আদালতের নিয়ম অনুযায়ী, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে যে রায় দেওয়া হয়- সেটাই চূড়ান্ত।

এরপর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। এই আপিলের ওপর ১১তম দিনে গত ১ জুন শুনানি শেষে সর্বোচ্চ আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। এরপর আজ সোমবার এই রায় দেওয়া হলো।

বিচারক অপসারণ ক্ষমতা সংসদের হাতে নেওয়ার বিষয়ে এমিকাস কিউরি হিসেবে মত দেন ১০ বিশিষ্ট আইনজীবী। তারা হলেন- টি.এইচ. খান (পক্ষে তার পূত্র আফজাল এইচ খান), সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার এম. আমীর-উল ইসলাম, এ.এফ. হাসান আরিফ, আজমালুল হোসেন কিউসি, আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ, এম.আই. ফারুকী, এ.জে. মোহাম্মদ আলী ও ব্যারিস্টার ফিদা এম. কামাল।

অর্থসূচক/এমই/