বিরল উপজেলায় বড় দুদলের অস্তিত্বের লড়াই

0
45
দিনাজপুর

দিনাজপুরদিনাজপুরের বিরল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রচারনা ক্রমেই জমজমাট হতে শুরু করেছে। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এ নির্বাচনকে অস্তিত্বের লড়াই হিসেবে নিয়েছেন।

বিগত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নির্বাচন বর্জন করায় নিবার্চন জমে না উঠলেও উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বেশ জমে উঠতে শুরু করেছে। প্রার্থীদের বিরামহীন পদচারনায় সরগরম হয়ে উঠেছে উপজেলার শহরসহ প্রত্যান্ত অঞ্চলগুলো। প্রার্থীরা প্রতীক পাওয়ার সাথে সাথেই আগের চেয়ে প্রচারনায় আরো বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। বিগত নির্বাচনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত চেয়ারম্যান মোকারম হোসেন এবারও চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। মাত্র ৪ মাসের মধ্যে উপজেলা পরিষদের আবহাওয়া বুঝে উঠার আগেই তাকে কৌশলে সরকারের আমলা ও ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় নেতাকর্মী কর্তৃক সৃষ্টি অনাকাঙ্খিত ঘটনায় জটিল মামলায় ফাঁসানো হয়। বিষয়টি এই নির্বাচনে আ.লীগ সমর্থিত প্রার্থীর জয়-পরাজয়ে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা। সেই অনাকাঙ্খিত ঘটনার বিবরন সাধারণ ভোটারদের মাঝে তুলে ধরছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী মোকারম হোসেন। এদিকে প্রার্থীরা খাওয়া-দাওয়া ভুলে ভোটারদের মন জয় করতে রাত-দিন মাঠে ব্যাস্ত সময় পার করছেন।

১১ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভা নিয়ে বিরল উপজেলা পরিষদ। এ উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৬৯ হাজার ৫২২ জনের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৮৫ হাজার ৫৩১ এবং মহিলা ভোটার সংখ্যা ৮৩ হাজার ৯৯১ জন। ৬৮ টি ভোট কেন্দ্রে ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। চেয়ারম্যান প্রার্থী আ.লীগের ডা. মানবেন্দ্র রায় (ঘোড়া), বিএনপির আ.ন.ম বজলুর রশিদ (মটর সাইকেল), বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ভিপি হামিদুর রহমান (আনারস), স্বতন্ত্র প্রার্থী মোকারম হোসেন (দোয়াত কলম), আবু তালেব (টেলিফোন), জাপার প্রার্থী আনোয়ার চৌধুরী জীবন (কাপপ্রিচ)G

ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী আ.লীগের সাংবাদিক আব্দুল কুদ্দুস সরকার (চশমা), জামায়াতের উপজেলা আমীর এ.কে.এম আফজালুল আনাম (মাইক) ও কৃষক ফেডারেশনের নেতা আব্দুল খালেক বকুল (টিউবওয়েল), বিএনপির রুস্তম আলী (তালা)।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী আ.লীগের লায়লা আরজুমান্দ বানু (হাঁস), বিএনপি.র ফিরোজা বেগম (সোনা মেম্বার) (পদ্ম ফুল), স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহানাজ বেগম (প্রজাপতি) ও আফরোজা বেগম (কলস)। প্রার্থীরা কর্মী-সর্মথকদের নিয়ে শহর-বন্দর, হাট-বাজার,  গ্রাম-গঞ্জ, পাড়া-মহল্লা চষে বেড়াচ্ছেন।  মটর সাইকেল শোডাউন, মাইকিং, পোষ্টারিং, মিছিল-মিটিং, পথসভা ও কর্মী সভার পাশাপাশি ভোটারদের দ্বারেদ্বারে ছুটে বেড়াচ্ছেন।

এবারের নির্বাচনে বিএনপির আ.ন.ম বজলুর রশিদ ও আ.লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী ডা. মাবেন্দ্র রায়ের সাথে লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সবার ধারণা। তবে আ.লীগের একক প্রার্থী হলেও বাস্তবে তাতে খুব একটা ফল হবে বলেমনে করছেন না সাধারণ ভোটাররা। এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, গত উপজেলা নির্বাচনে আ.লীগ সমর্থিত প্রার্থী মোকারম হোসেন বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় নেতাকর্মীরা সুবিধা ভোগ করতে না পারায় কৌশলে তাকে সরকারের আমলার সহায়তায় তাকে মামলায় জড়িয়ে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করেন। তাই তার সর্মথকরা ভোট দেওয়া নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করছেন।

এদিকে বিএনপি, জামায়াত ও ছাত্র শিবিরের মজবুত সাংগঠনিক অবস্থান একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ভিপি হামিদুর রহমান কত দিন মাঠে থাকতে পারবে এটাই দেখার বিষয়।  কিন্তু বিএনপি-জামায়াত বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হামিদুর রহমানকে ফেক্টর মনে করছেন না। যতই নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসছে ততই প্রার্থীদের গুনাবলীসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সাধারণ ভোটাররা চুল ছেড়া বিশ্লেষন করছেন।

 

টিআই/সাকি