নার্স নিয়োগে আগের পদ্ধতি বহাল রাখার দাবি

0
75
DRU

DRUসরকারি পর্যায়ে নার্স নিয়োগে আগের পদ্ধতি চালু রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ডিপ্লোমা বেকার নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার সফল বাস্তবায়ন ও নিয়োগ দানে ব্যাচ, মেধা ও জ্যেষ্ঠতাকে প্রাধান্য দিতে দাবি জানায় সংগঠনটি।

শনিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি সোহানা খানম ইতি  জানান, দেশে নার্সিং প্রশাসনকে যুগোপযোগী করতে ২০০৯ সালের ১৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শুন্যপদসহ ৫ হাজার নতুন পদ সৃষ্টি ও নিয়োগ  দানের ঘোষণা দেন। তার ধারাবাহিকতায় গত বছরের সেপ্টেম্বরে ৪ হাজার ১০০ জন নার্স নিয়োগ করা হয় বলে জানান তিনি। তিনি জানান সেখানে চাকরির বয়সসীমা ৩৬ বছর ছিল। আর এই পদ্ধতির মেয়াদও ডিসেম্বর পর্যন্ত ছিল।

তবে তিনি বাকি শুন্য পদের জন্য ওই নিয়োগ পদ্ধতিকে চালু রাখার দাবি জানান। তিনি বলেন, ৪ হাজার ১০০ জন নিয়োগ হওয়ার পরও এখনো বহু পদ শুন্য রয়েছে। সেখানে ওই পদ্ধতিতে ব্যাচ, মেধা ও জ্যেষ্ঠতাকে প্রধান্য দিয়ে নিয়োগ দানের দাবি জানান তিনি।

তিনি বলেন, দেশে ৫৫৬টি সরকারি হাসপাতালে বরাদ্দ করা শয্যার সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। আর বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে এর সংখ্যা প্রায় ৩৬ হাজার ৬৭৯টি। তবে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে দুই থেকে তিন গুণ রোগী চিকিৎসা নেন বলে জানান তিনি।

তিনি জানান, বাংলাদেশে চিকিৎসকের সংখ্যা ৭০ হাজার। তাতে ডিপ্লোমা নার্সের সংখ্যা ৩০ হাজার। আর সরকারি পর্যায়ে কর্মরত ৩৪ হাজার চিকিৎসকের বিপরীতে ২১ হাজার নার্স রয়েছে। এছাড়া সারা দেশে নার্সিং সুপারভাইজারের পদ ৯০৮টির মধ্যে শুন্য রয়েছে ৩১৪টি।

তিনি বলেন, সরকারি ৪৩টি নার্সিং ইউনিট, ৭টি বেসিক নার্স কলেজ ও ৪টি পোস্ট বেসিক নার্স কলেজের জন্য নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর পদ আছে ৩০৪টি। তাতে ২৩০টিপদ শুন্য রয়েছে। তাই এই অবস্থার উন্নতি না হলে স্বাস্থ্য সেবার কাঠামো ভেঙে পড়বে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, ন্যূনতম স্বাস্থ্য সেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে সবার। তবে হাসপাতালগুলোর নার্স সংকটে সেবার মান কমে যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। সারাদেশে ১০ হাজার ডিপ্লোমা প্রাপ্ত নার্স রয়েছে। যাদেরকে বেকার রাখা হয়েছে। তাই শিগগিরই ব্যাচ, মেধাও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে আগের পদ্ধতির মাধ্যমে নিয়োগদানের দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনটির মহাসচিব ফারুক হোসেন, সভানেত্রী রোকসানা ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক লক্ষণ চন্দ্র পাল প্রমুখ।