সোনালী ব্যাংকের ৬৫০ কোটি টাকা গায়েব

0
78
sonali bank all officer suspend

sonali bank all officer suspendশনির দশা যেন কাটছেই না রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের। হলমার্ক কেলেঙ্কারি, সুড়ঙ্গ কেটে পরপর দুটি শাখায় টাকা লুটসহ নানা অনিয়মের পর এবার মূল হিসাবে যুক্ত হয়েছে ৬৫০ কোটি টাকার ঘাটতি।

সম্প্রতি সোনালী ব্যাংকের প্রধান শাখা পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া হিসাবের সাথে এ ঘাটতি ধরা পড়েছে।

এর মধ্যে ২০১৩ সালের হিসাবে ২৫০ কোটি এবং ২০১১ সালের হিসাবে ৪০০ কোটি টাকা রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে এ টাকাকে খেলাপি ঋণ হিসেবে দেখিয়ে তার বিপরীতে প্রভিশনিং রাখতে নির্দেশ দিয়েছে। তাছাড়া দ্রুত এ হিসাব সমন্বয় করতেও নির্দেশ দিয়েছে ব্যাংকিং সেক্টরের নিয়ন্ত্রক এ সংস্থাটি।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি সোনালী ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানিয়েছে, তফসিলভুক্ত সব ব্যাংকেরই বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে একটা হিসাব খোলা থাকে। সেই হিসাবে প্রতিটি ব্যাংক তার আয় ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়। বছর শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিদল এটা পর্যবেক্ষণ করে। কিন্তু ২০১৩ সাল শেষে রাষ্ট্রীয় খাতের সোনালী ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকে যে হিসাব জমা দিয়েছে তার সাথে মূল হিসাবের ২৫০ কোটি টাকার ঘাটতি আছে। তাছাড়া ২০১১ সালের হিসাবেও এ ধরনের ৪০০ কোটি টাকার গড়মিল খুঁজে পায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সে সময়ও এ টাকা দ্রুত সমন্বয় করার কথা বলা হয়। ২০১৩ সালের হিসাবে এ টাকা সমন্বয় করলেও কোন খাতে এবং কীভাবে সমন্বয় করা হয়েছে তার কোনো প্রমাণ দেখাতে পারছে না রাষ্ট্রীয় এ ব্যাংকটি। তাই যতদিন এ ৬৫০ কোটি টাকার প্রকৃত হিসাবায়ন না দেখানো যাবে ততদিন এ টাকাকে খেলাপি হিসেবে দেখিয়ে প্রভিশন রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অর্থসূচককে জানিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই কর্মকর্তা অর্থসূচককে বলেন, সোনালী ব্যাংক বাংলাদেশের বৃহৎ ব্যাংক। এ ব্যাংকটি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি হিসেবেও কাজ করে। সুতরাং তাদের দায়িত্ব অনেক। কিন্তু তারা দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে প্রতিবছরই তাদের হিসাবে গড়মিল ধরা পড়ে।

ওই কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সব কিছুই রাজনৈতিকভাবে পরিচালিত হয়। এ কারণে আমরা ব্যাংকের রেগুলেটরি সংস্থা হয়েও এসব ব্যাংকের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারি না। এ সুযোগে তারা বিভিন্ন অনিয়মের আশ্রয় নেয়। তারপরও তাদের যতটুকু পারা যায় নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয় বলে তিনি জানান।

এ ব্যাপারে বক্তব্য নেওয়ার জন্য সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রদীপ কুমার দত্তের সাথে বারবার মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায় নি। তবে ব্যাংকটির অন্য এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অর্থসূচককে বলেন, এটা টাকার গড়মিল নয়, মূলত হিসাব তুলতে ভুল করায় এমনটি হয়েছে। আমাদের শাখার সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় সব শাখার হিসাব সমন্বয় করতে গিয়ে এমনটি হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার আলোকে এ টাকা সমন্বয় করতে এবং সব ধরনের হিসাব আবার যাচাই করে দেখা হচ্ছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

এসএই/ এআর