নির্বাচন শুরুর দুই ঘণ্টায় ৩ প্রার্থীর ভোট বর্জন

0
59
Upazila_Election

Upazila_Electionকেন্দ্র দখল, জালভোট, এজন্টেদের মারধরের অভিযোগ এনে তৃতীয় দফা উপজেলা নির্বাচন শুরুর দুই ঘণ্টারমাথায় বিএনপি সমর্থিত ২ জন ও বিদ্রোহী একজন প্রার্থী ভোট বর্জন করেছে।  এরা হলেন- বাগেরহাটের শরণখোলার চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মতিয়ার রহমান খান, মুলাদি উপজেলার আব্দুস সাত্তার ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী বেলাল হোসেন।

আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে শরণ খোলা উপজেলার মঠেরপাড় সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মতিয়ার রহমান খান নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।  পোলিং এজেন্টদের কোনো ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে না দেওয়া এবং আওয়ামী লীগ-সমর্থিত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর সমর্থকদের জাল ভোট দেওয়ার প্রতিবাদে এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে তিনি এ ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, এই উপজেলায় ২৮টি কেন্দ্রে ভোট হচ্ছে। অথচ আওয়ামী লীগ-সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী কামাল উদ্দিন আকন্দের সমর্থকেরা বেশির ভাগ কেন্দ্রেই তাঁর পোলিং এজেন্টদের ঢুকতে দেননি। কামাল উদ্দিন আকন্দের সমর্থকেরা নিজেরাই ভোটকেন্দ্রে ঢুকে একের পর এক জাল ভোট দিচ্ছেন এবং তাঁদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে সব কটি ভোটকেন্দ্রে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে রেখেছে।

মতিয়ার রহমান খান আরও বলেন, মঠেরপাড় সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র তাঁর একদম বাড়ির পাশেই। এই কেন্দ্রেও আওয়ামী লীগ-সমর্থিত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর সমর্থকদের নৈরাজ্যের কারণে তিনি নিরাপত্তাহীনতা বোধ করছেন। এ কারণে তিনি ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।

বেলা পৌনে ১১টার দিকে উপজেলার দলীয় কার্যালয়ে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী মো. আবদুস সাত্তার ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। প্রায় একই সময় বিএনপির বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী বেলাল হোসেনও পৃথকভাবে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।

ভোট বর্জনকারী উভয় প্রার্থী আওয়ামী লীগ-সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. তারিকুল হাসান খানের বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখল ও কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. দুলাল তালুকদার বলেন, ‘দুই প্রার্থী ভোট বর্জন করেছেন বলে আমরা সংবাদ পেয়েছি। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা অবগত নই।’

এদিকে, ভোলা সদর উপজেলা নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যেই ৩০টি কেন্দ্র আওয়ামী লীগ দখল করে নিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সকালে ভোটগ্রহণ শুরু হলে ওই সব কেন্দ্রগুলো থেকে বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থীদের অ্যাজেন্ট বের করে দেওয়া হয়।

ফেনীর দাগনভুঁঞা  উপজেলায় ৬২ কেন্দ্রের মধ্যে  আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী দিদারুল কবীর বেশ কয়েকটি কেন্দ্র দখল করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আকবার হোসেন ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল হাই মিলন এ অভিযোগ করেছেন।

কেন্দ্র দখলের সময় দিদারের সমর্থকরা বোমা নিক্ষেপ করেছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। এ উপজেলায় নির্বাচন স্থগিত করে পুন:নির্বচনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে সকালে রাজাপুর স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রের পাশে সাংবাদিক বহনকারী দুটি গাড়ীতে হামলা করে আওয়ামীলীগ কর্মীরা। এ সময় গাড়িতে বোমা নিক্ষেপ ও ভাংচুর করা হয়। তবে এতে কেউ হতাহত হননি।

এসএসআর/ এআর