এবার আইএমএফ জুজু ভয়!

0
84
আইএমএফ টিম, imf team visit dhaka

আইএমএফ টিম, imf team visit dhakaবাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারের প্রভাব কাটতে না কাটতেই বাজারে নতুন ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে। এ ভীতি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিনিধি দলের ঢাকা সফরকে কেন্দ্র করে। আগামি ১৯ মার্চ বুধবার প্রতিনিধি দলটি ঢাকা আসবে। থাকবে ২৬ মার্চ পর্যন্ত।

ঢাকা সফরে এসে প্রতিনিধি দলটি পুঁজিবাজার সংক্রান্ত নতুন কোনো শর্ত দিতে পারে এমন আশংকা বিনিয়োগকারীদের। তাছাড়া আইএমএফ প্রতিনিধি দলের ঢাকা অবস্থাকালে বাংলাদেশ ব্যাংকও পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের ব্যাপারে নজরদারি বাড়িয়ে দেয়-অতীত অভিজ্ঞতা থেকে এমনটাই মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা। শুধু ব্যাক্তি বিনিয়োগকারী নয়, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও আইএমএফ নিয়ে কিছুটা উদ্বিগ্ন।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আইএমএফ নিয়ে এত বেশি উদ্বেগের কিছু নেই। কারণ পুঁজিবাজার সংক্রান্ত যেসব শর্ত ছিল সংস্থাটির তার প্রায় সবই ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকার। তাই নতুন করে কোনে শর্ত আসার সুযোগ নেই।

উল্লেখ, বর্ধিত ঋণ সুবিধার (ইসিএফ) আওতায় বাংলাদেশকে ১০০ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার কথা। ইতোমধ্যে চার কিস্তিতে ৮০ কোটি ডলার ছাড় করেছে সংস্থাটি। কিন্তু এই ৮০ কোটি ডলার পাওয়ার জন্য নাক-কান কাটতে হয় বাংলাদেশকে। মেনে নিতে হয় অনেক শর্ত। কিন্তু তা সত্ত্বেও শর্ত ফুরায়নি ঋণ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানটির।পঞ্চম কিস্তি ছাড়ের আগে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানোসহ আরও একডজন শর্ত জুড়ে দিয়েছে সংস্থাটি। প্রতিনিধি দলটি আসার আগে আগে সরকারও তাড়াহুড়া করে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। আর সে কারণেই বিনিয়োগকারীদের আশংকা আরও বেড়েছে।

উল্লেখ, আইএমএফের চাপে সরকার ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন করে পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা কমিয়ে এনেছে। আগে ব্যাংকগুলো তার আমানত ও দায়ের ১০ শতাংশ পর্যন্ত পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারত। আইন সংশোধনের ফলে এখন ব্যাংক তার রেগুলেটরি মূলধনের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসারে রেগুলেটরি মূলধনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে-পরিশোধিত মূলধন, প্রিমিয়াম, বিধিবদ্ধ সঞ্চিতি ও অবন্টিত মুনাফা। এছাড়া স্টক এক্সচেঞ্জে মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনা আলাদা করার (ডিমিউচুয়ালাইজেশন) চাপও ছিল আইএমএফের।

আইএমএফের চাপে গত দু’মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক পুঁজিবাজারের সাথে সাংঘর্ষিক দুটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংক পুঁজিবাজারে যুক্ত সব ব্যাংকের সাবসিডিয়ারিকে (ব্রোকারহাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংক) নির্দেশ দেয় দৈনিকভিত্তিতে তাদের বিনিয়োগের তথ্য তাদেরকে জানাতে। প্রতিদিন এসব সাবসিডিয়ারি কি পরিমাণ টাকার শেয়ার কিনছে, কোন কোম্পানির শেয়ার কিনছে, কি দরে কিনছে, কতগুলো কিনেছে-সব তথ্য জানাতে হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে।

গত মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন এক নির্দেশনার মাধ্যমে ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি কোম্পানিগুলোরও বিনিয়োগসীমা বেঁধে দেয়। তাদের বিনিয়োগকেও মূল ব্যাংকের মূলধনের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সঙ্গে কোনো পরামর্শ করা হয়নি।এ সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাংকভিত্তিক মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারহাউজগুলোর মধ্যে হতাশা ছড়িয়ে পড়ে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া ওই দুই সিদ্ধান্তের প্রভাবে বেশ কিছুদিন ধরে নিম্নমুখী দেশের পুঁজিবাজার। এর মধ্যেই এসেছে আইএমএফ জুজুর ভয়। পুঁজিবাজারে ২০১০ সালের ধসে যে রক্তক্ষরণ হয়েছে বিনিয়োগকারীদের তা এখনো বন্ধ হয় নি। তাই আইএমএফ নামেই তাদের আতঙ্ক পেয়ে বসেছে।