বাড়িভাড়া আইন

0
96

বাংলাদেশ গ্রাম ভিত্তিক দেশ । কিন্তু অফিস, আদালত, হাসপাতাল, কল- কারখানা, গার্মেন্টস, কলেজ, শিক্ষা প্র্রতিষ্ঠান সব কিছু শহর কেন্দ্রিক হওয়ার কারণে প্রতিদিন শত শত মানুষ প্রয়োজনে শহরে আসছে । উচ্চ শিক্ষার জন্য, চাকুরির জন্য, ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য বাসা ভাড়া করে থাকতে হচ্ছে ।
আবার অনেককে বাড়ি ঘর হারিয়ে ভাগ্যদোষে থাকতে হচ্ছে ভাড়া বাসায় । আবার অনেকে ভালো জায়গায় থাকার জন্য নিজের বাড়ি রেখে অন্য জায়গায় বাসা ভাড়া নেন । তবে যাই হোক বেশীর ভাগ ভাড়াটিয়া বাড়ি ভাড়া সংক্রান্ত আইন জানেনা বলে তারা তাদের অনেক অধিকার থেকে প্রতারিত হচ্ছে ।
বাড়িভাড়া সংক্রান্ত আইন – ১৯৯১
মূলত বাড়ি ভাড়া-সংক্রান্ত আইন আমাদের দেশে কখনোই ভালো করে তৈরি হয়নি। দেশ বিভাগের আগে থেকেই বাড়িভাড়া আদেশ যেটা জারি করা হয়েছিল সেটাই চলেছে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত। ১৯৬৩ সালে বাড়িভাড়া আইন প্রণীত হয় এবং তা চলতে থাকে স্বাধীনতার পরেও । ১৯৯১ সালে চলে আসা এই বাড়িভাড়া অধ্যাদেশের সব বিধান অপরিবর্তিত রেখে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ নতুনভাবে জারি করা হয় এবং সেই বছরে অধ্যাদেশটি জাতীয় সংসদে গৃহীত হওয়ার পর মহামান্য রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভে পূর্ণাঙ্গ আইনের মর্যাদা লাভ করে, যা বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন – ১৯৯১ নামে পরিচিত।
বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন – ১৯৯১ এর টুকিটাকি
•    এ আইন অনুযায়ী বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রক সিটি কর্পোরেশনের রেন্ট কন্ট্রোলার গন । মালিক ও ভাড়াটিয়ারা মিলে মান সম্মত ভাড়া নির্ধারণের কথা এ আইনে বলা হলেও এর জন্য কতগুলো মান ঠিক করে দেয়া আছে যা বাস্তবতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় ।
•    বাড়িওয়ালা কর্তৃক প্রতি মাসে ভাড়াটিয়াকে বাড়িভাড়ার রশিদ দেয়ার বিধান এ আইনে বলা আছে ।
•    বাড়িভাড়ার পূর্বে বাড়িওয়ালা এবং ভাড়াটিয়া লিখিত চুক্তি করবেন । চুক্তিতে কখন কিভাবে ভাড়া বাড়ানো হবে তা বিস্তারিত উল্লেখ থাকবে । এ আইন অনুযায়ী যখন তখন ভাড়াটিয়া কে বাসা খালি করার নোটিশ দেয়ার এখতিয়ার বাড়িওয়ালার নেই।
•    এ আইনে দুই মাসের বেশী ভাড়া অগ্রিম নেয়া যাবেনা উল্লেখ রয়েছে ।
•    ভাড়াটিয়ার  জন্য  বিদ্যুতের আলাদা মিটার বসানো এবং প্রতি মাসে গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং পানির বিলের কপি ভাড়াটিয়া কে সরবরাহ করার কথা এ আইনে বলা হয়েছে ।
বাড়ি ভাড়া সংক্রান্ত এ নাগরিক সমস্যা সমাধানে সরকার, বাড়িওয়ালা এবং ভাড়াটিয়া সবাইকে আন্তরিক হতে হবে । আর এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন জনগণের সচেতনতা । দু’পক্ষ আইন মেনে চললে অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব ।