স্বপ্ন সত্যি হল যাদের

0
48

BB_Women_Fair_2স্বামীর একা উপার্জনে সংসারের টানাপোড়ন কাটছিল না নাসরিন আক্তারের। এজন্য স্বামীর উপার্জনের পাশাপাশি নিজেও সংসারে কিছু অবদান রাখার কথা ভাবছিলেন। কম টাকায় কীভাবে ভাল কিছু করা যায় সেটাই লক্ষ্য ছিল তার। একসময় সুযোগটি পেয়েও যান তিনি। এক শুভাকাঙ্খীর পরামর্শে বুটিকের কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তারই অংশ হিসেবে মাত্র ১০ হাজার টাকা পুজিঁ করে একাই বুটিকের কাজ শুরু করেন।

নাসরিন আক্তারের শুরুর এ গল্প ছিল ২০০০ সালের। এরপর ১৩ বছরে পরিবর্তন হয়েছে অনেক কিছু। তিনি এখন ‘স্বীকৃতি বুটিকস অ্যান্ড হেন্ডিক্রাফ্ট’ প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী। উদ্যোক্তা হিসেবে বুটিকের কাজ দিয়ে শুরু করলেও তিনি এখন পাটজাত পণ্য থেকে শুরু করে বুটিকসের বিভিন্ন শাড়ি, কামিজ এবং শো-পিছ তৈরি ও বিক্রি করে থাকেন।

নাসরিন আক্তার অর্থসূচককে জানান, কাজের প্রতি প্রবল আগ্রহ তাকে সাফল্য এনে দিয়েছে। আগ্রহ এবং সাফল্য দেখে স্বামীও তার সঞ্চিত ৫০ হাজার টাকা তার এ ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন। শুরু হয় যৌথভাবে ব্যবসা শুরু করার পালা। এরপর তাকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। বর্তমানে তাদের মুলধানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ টাকার বেশি। ব্যবসাটিকে আরও বেশি সম্প্রসারিত করার জন্য সম্প্রতি সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক থেকে ৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন। এ ঋণ নিয়ে ব্যবসাটিকে বড় করার পাশাপশি নতুন ভাবে বাজারজাত করার কথাও ভাবছেন তিনি।

একই ধরণের গল্পগাথা চট্টগ্রামের মেয়ে শামীমা কবিরের। ১৭ বছর আগে মাত্র ৫ হাজার টাকা দিয়ে বুটিকের ব্যবসা শুরু করেন তিনি। এখন শুধু ঢাকাতেই তার রয়েছে চারটি শোরুম। আর মূলধনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ লাখ টাকা। তার এ চারটি প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে কর্মরত আছে ২৭ জন লোক। এ চারটি প্রতিষ্ঠানের জন্য তিনি ইউনাটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের কাছ থেকে ৫ লাখ ও আইএফআইসি ব্যাংকের কাছ থেকে ২ লাখ টাকার ঋণ নিয়েছেন। প্রতি মাসে তিনি এসব প্রতিষ্ঠান থেকে ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকা মুনাফা করছেন বলে তিনি জানান।

আরও একজন সফল নারী উদ্যোক্তার নাম অফসানা আহমেদ। ১৯৯৫-৯৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন তিনি। তখন থেকেই চাকরির চেয়ে ব্যবসার দিকে ঝোঁক বেশি ছিল বলে জানান তিনি। তাই ছাত্র অবস্থায় বাবা-মায়ের কাছ থেকে মাত্র দুই হাজার টাকা দিয়ে হাতের কাজ শুরু করেন। একই সঙ্গে নিজেই সেসব পণ্য ক্যাম্পাসে বিক্রি শুরু করেন। তারপর সব পণ্য বিক্রি হয়ে গেলে উৎসাহ বেড়ে যায়। এসময় পড়ালেখার পাশাপাশি হাতের কাজ আর নিজের তৈরি জিনিস নিয়ে নিজে নিজেই বাজারজাত করতে থাকেন তিনি। পড়া-লেখা শেষ করার আগেই নিজেকে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে আবিস্কার করেন তিনি।

এরপর তাকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। পড়ালেখা শেষ করার পর ব্যবসাকে বড় করার জন্য দ্বারস্থ হন ব্যাংকের। অনেক কষ্টে কয়েকটি ব্যাংক থেকে ৪ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে নতুন করে কার্যক্রম শুরু করেন। ২০০১ সালে নর্থ এভিনিউ গুলশানে একটি শোরুম নিয়ে পুরোদমে ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে তার মুলধনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৬ লাখা টাকা। তার সাথে কাজ ৫০ জন লোক কাজ করছে বলেও তিনি জানান।

এ ধরণের স্বপ্নকে গল্পে পরিণত করা প্রায় ৮০ জন নারী উদ্যোক্তাকে নিয়ে নারী উদ্যোক্তা সম্মেলন ও পণ্য প্রদশনীর আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রূপসী বাংলা হোটেলে দিনব্যাপি এ আয়োজনে উদ্যোক্তারা প্রদর্শন করেছে তাদের নিজেদের তৈরি পণ্য। তাদের এ উৎপাদিত পণ্য দেখে গর্বিত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান নিজেই।

এ প্রসঙ্গে তিনি সম্মেলনে বলেন, দেশকে চালিয়ে নিতে আমাদের নতুন নতুন নারী উদ্যোক্তারা কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের একটু সহায়তা করলেই তারাই হয়ে উঠতে পারবেন স্বয়ংসম্পূর্ণ। এজন্য তিনি সমাজের সকল স্তরের মানুষকে নারীদের উন্নয়নে কাজ করে যাওয়ার আহবান জানান। নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে বাংলাদেশ ব্যাংক নারীদের সব ধরণের সহযোগিতায় এগিয়ে আসবে বলেও তিনি সম্মেলনে ঘোষণা দেন।

এছাড়া সম্মেলনে উপস্থিত থাকা অধিকাংশ ব্যাংকের কর্মকর্তার স্বীকার করেন এসএমই নারী উদ্যোক্তরা কম ঋণ খেলাপি তাই যেসব ব্যাংক এসব নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ দিতে অনীহা প্রকাশ করে তাদের ঋণ দেওয়ার আহবান জানান তারা।

এসএই/