শীত উপেক্ষা করে খেজুর রস সংগ্রহে ব্যস্ত দুর্গাপুরের গাছিরা

রসের জন্য গাছে হাঁড়ি বাঁধছেন একজন গাছি। ফাইল ছবি

Khajur-Rosher-Sondhane,রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার খেজুর রস সংগ্রহকারী গাছিরা ভোরের কনকনে শীতকে উপেক্ষা করে খুড়ি পাটালি তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। বিকেল হলেই গাছিরা খেজুর গাছের মাথার নালা (রস সংগ্রহের স্থান) পরিষ্কার ও চাঁছার জন্য ধারালো বাটাল, চুন, রস সংগ্রহের জন্য মাটির কোর (পাতিল) নিয়ে ছুটে চলে গাছে গাছে। গাছের মাথা চেঁছে মাটির কোর পেতে চলে যান অন্য গাছে। এভাবে বিকেল থেকে সন্ধা গড়ে যায় গাছে গাছে রস গ্রহণের জন্য।

ভোর হতে না হতেই কনকনে শীতকে উপেক্ষা করে গাছিরা একটি বাউক ও দুইটি টিন দিয়ে ভার তৈরি করে ছুটে চলেন প্রতিটি গাছের গোড়ায়। তারপর সংগ্রহ করেন রস। প্রতিটি গাছের কোর থেকে সংগৃহিত রস ঢালেন ভারের টিনে। রস সংগ্রহের পর তা বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এরপর একটি লম্বা মাটির তৈরি বড় চুলায় একটি বড় কড়াইয়ে করে রস জাল দেওয়া হয়। তারপর রসগুলো পাটালি বা খুড়ির বাটিতে ঢালা হয়। বাটিতে বা পাটালি বক্সে ঢালা গরম গুড় একটু ঠাণ্ডা হলেই তৈরি হয়ে যায় সুস্বাদু মিষ্টি খেজুর গুড়।

গুড় তৈরিতে বাড়ির গৃহিনীসহ ছোট বড় সকলেই অংশ নেয়। এ অঞ্চলের খেজুর গুড়ের সুনাম রয়েছে দেশ জুড়ে। নবান্নের এ মাসে উপজেলার অধিকাংশ বাড়িতে বর্তমানে চলছে খেজুর গুড় বা খেজুরের রস দিয়ে তৈরি  করা পিঠা পায়েস খাওয়ার ধুম।

উপজেলার বহরমপুর গ্রামের খেজুর রস সংগ্রহকারী গাছি ইউসুব আলী খান (৪৫) বলেন, ১০ বছর বয়স থেকে কনকনে শীতের মধ্যে প্রতিবছর খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে থাকি। সেই রস বাড়িতে নিয়ে এসে কড়াইয়ে জাল করে সুস্বাদু পাটালি ও খুরি গুড় তৈরি করে থাকি। এ গুড় বাজারে নিয়ে গিয়ে যখন ভালো দামে বিক্রি করি তখন রস সংগ্রহের সব দুঃখ-কষ্ট ভুলে যাই। এ খেজুর গুড়ের খ্যাতি রয়েছে দেশ জুড়ে। একেকটি খেজুর গাছ থেকে গড়ে প্রতিদিন ১ কেজি করে গুড় তৈরি হয়। বর্তমানে বাজারে খেজুর গুড় বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে।

উপজেলার হাট-বাজারগুলো জমে উঠেছে গুড়ের হাট। গাছিরা ভালো দাম পাওয়ায় খুশি। দুর্গাপুরের সিংগাহাটে গুড় বিক্রি করতে আসা বাঁশাইল গ্রামের বেলাল হোসেন বলেন, তার ২৮টি খেজুর গাছ আছে। এসব গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে ১২ দিন থেকে গুড় তৈরি করছেন। প্রতিদিন গড়ে ২৫ কেজি করে গুড় তৈরি হচ্ছে। দুর্গাপুরে সপ্তায় দুইদিন হাট বসে। প্রতি হাটে গড়ে দেড় মণ করে গুড় বাজারে বিক্রি করছেন। তিনি আরো বলেন , আবহাওয়া ভালো থাকলে এভাবে আরো তিন মাস গুড় তৈরি করে বিক্রি করা যাবে। এর পরে আবার খেজুর রস থেকে লালি গুড় তৈরি করা যাবে। এসব লালি গুড়েরও ভালো দাম পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করে।

এআর