২২ মার্চ সাংবাদিকদের কর্মবিরতি

0
72
journalist

journalistসাংবাদিকদের ৮ম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন ও অসঙ্গতি দূর করার লক্ষ্যে আগামি ২২ মার্চ সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সকল গণমাধ্যমকর্মীরা তিন ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করবে।

একই দিন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মহাসমাবেশ করবে তারা। এরপরও দাবি আদায় না হলে ২২ মার্চের পর কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচির ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারী প্রদান করেন তারা।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাব কনফারেন্স লাউঞ্জে ‘সাংবাদিক শ্রমিক কর্মচারি ঐক্য পরিষদ’ ব্যানারে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক নেতারা এই ঘোষণা দেন।

এ সময় সাংবাদিক নেতারা অভিযোগ করে বলেন, ২০১৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সরকার ৮ম ওয়েজ বোর্ড গেজেট আকারে প্রকাশ করেন। ৮ম ওয়েজ বোর্ড গঠনে নীতি অনুসরণ করা হয়নি। অতীতে ওয়েজ বোর্ড ড্রাফট কপি গেজেটে সংশোধন করা হলেও এবার তা করা হয়নি।

সংবাদপত্রের শ্রেণিবন্যিাসের ক্ষেত্রে সদস্যদের মতামত নেওয়া হয়নি এমন অভিযোগ করে তারা বলেন, চেয়ারম্যান নিজ ইচ্ছামতো সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থা শ্রেণিবিন্যাস ক, খ ও গ শ্রেণি থেকে ঘ, ঙ আরও দুইটি শ্রেণি সংযুক্ত করেছে। ক শ্রেণির পত্রিকার বার্ষিক আয় ৪ কোটি থেকে ২৫ কোটিতে উন্নীত করেছেন। কিন্তু প্রথম শ্রেণির পত্রিকাগুলোর বার্ষিক আয় ৪ কোটি থেকে ২৫ কোটি পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়নি।

এর ফলে, যেসব পত্রিকা দীর্ঘদিন ধরে প্রথম শ্রেণির পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত ও সাংবাদিক কর্মচারিরা প্রথম শ্রেণির বেতন-ভাতা ও সুযোগ সুবিধা পেয়ে আসছেন তারা এখন এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। তেমনিভাবে সাংবাদিক কর্মচারিরাও আগের মতো বেতন ভাতা পাবেন না। ৮ম ওয়েজ বোর্ডের কারণে অধিকাংশ পত্রিকা আগের অবস্থান থেকে অনেক নিচে নেমে আসবে।

৮ম ওয়েজ বোর্ড সাংবাদিক কর্মচারিদের স্বার্থ বিরোধী উল্লেখ করে নেতারা বলেন, ওয়েজ বোর্ড গঠন করলে সাংবাদিক কর্মচারির বেনিফিসিয়ারি হয়ে থাকেন। কিন্তু এ ওয়েজবোর্ড কেবল সংবাদপত্র মালিকদের জন্য। যেখানে মালিকদের বিজ্ঞাপন প্রতি ইঞ্চি ৩০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে ও নিউজপ্রিন্ট ৫ শতাংশ ট্যাক্স কমানো হয়েছে। অতীতে বেতন ভাতার সাথে সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি পেলেও এবার তা হয়নি। ৮ম ওয়েজ বোর্ডের নামে গণমাধ্যম কর্মীদের ছাঁটাই, স্থায়ী কর্মচারিদের অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ, মাসের পর মাস বেতন-ভাতা পরিশোধ না করার অভিযোগ করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, সাংবাদিক-শ্রমিক-কর্মচারি ঐক্য পরিষদের কো-কনভেনার রুহুল আমিন গাজী। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ‍ছিলেন, সংগঠনের কো-কনভেনার মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, মো. আলমগীর হোসেন খান, সদস্য সচিব মো. মতিউর রহমান তালুকদার, যুগ্ম-সদস্য সচিব আবদুল জলিল ভূঁইয়া, সদস্য মো. খায়রুল ইসলাম, আবদুল হাই শিকদার, জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, আলতাফ মাহমুদ প্রমুখ।

জেইউ/এএস