বিদ্যুতের দাম বেড়েছে, কার্যকর চলতি মাসেই

0
40
ছবি: ফাইল ছবি

বিদ্যুতের দাRural-electricityম ৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সর্বনিম্ন ধাপ ও সেচের বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়নি।

তবে ১ থেকে ৫০ ইউনিট ব্যবহারকারী ও কৃষি কাজে ব্যবহৃত সেচ পাম্পের জন্য আগের মূল্যই বহল থাকবে। বৃহস্পতিবার বিকেলে কমিশন কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চেয়ারম্যান
এ আর খান এই তথ্য জানান।

এ সময় জানো হয়, খুচরা বিদ্যুৎ মূল্যাহার গড়ে লাইফ লাইন ৯১-৫০) ইউনিট ব্যবহার কারীর জন্য ৩ টাকা ৩৩ পয়সা আপরিবর্তিত থাকবে। বিশেষকরে কৃষি কাজে ব্যবহৃত সেচ পাম্পের জন্য তা করা হয়েছে (ফ্লাট রেট) ২ দশমিক ৫১ পয়সা অপরিবর্তিত থাকবে।

এর ফলে এখন থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম পড়বে ৬ টাকা ১৫ পয়সা। খুচরা পর্যায়ে এ দাম চলতি মাস থেকেই কার্যকর হবে।

এর আগে গত ৩ মার্চ থেকে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে গণশুনানি শুরু হয়।

সেসময় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কোম্পানিগুলো দাম বাড়ানোর প্রস্তাব রাখে। তিন দিনের ওই শুনানির প্রথম দিনে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৫ দশমিক ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তা করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। তবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) পক্ষ থেকে ৬ দশমিক ৬৬ বাড়ানোর কথা বলা হয়।

পরের দনি বিদ্যুতের দাম ২৩ দশমিক ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করার প্রস্তাব করে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি)। তবে বিইআরসি ৬ দশমিক ০৩  শতাংশ বৃদ্ধির কথা জানায় তাদের।

এর পর বিদ্যুতের দাম ১৫ দশমিক ৯০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করে ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো)। জবাবে কমিশন ২ দশমিক ০১  শতাংশ বাড়ানো যেতে পারে বলে জানায়।আর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (পবিস) বিদ্যুতের দাম ১২ দশমিক ৫৭ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করে।আর কমিশন বলে ৩ দশমিক ৪৮  শতাংশ বাড়ানোর কথা।

উল্লেখ্য বর্তমানে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় দাম ৫ টাকা ৭৫ পয়সা। গ্রাহকের কাছে এই দামে বিদ্যুৎ বিক্রি করে আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে বলে দাবি করে আসছে ৫টি বিতরণ কোম্পানি। তার প্রেক্ষিতে পিডিবিসহ কোম্পানিগুলো বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠায়।

বিতরণকারী কোম্পানিগুলো থেকে এর আগে জানানো হয়, তারা পাইকারিপর্যায়ে যে হারে বিদ্যুৎ কিনছে গ্রাহকপর্যায়ে বিক্রি করা হচ্ছে তার চেয়েও কম দামে। এতে পিডিবির মতো এসব বিতরণকারী কোম্পানির লোকসান বেড়ে চলেছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য হয় বিদ্যুতের গ্রাহকপর্যায়ে মূল্য বাড়াতে হবে, অথবা পাইকারিপর্যায়ে বিদ্যুতের দাম কমাতে হবে।

তবে পাইকারিপর্যায়ে বিদ্যুতের দাম কমালে পিডিবির লোকসান আরও বেড়ে যাবে। এ কারণে বিদ্যুতের খুচরা মূল্য বাড়িয়ে লোকসান সমন্বয় করতে হবে বলে কোম্পানিগুলোর তরফ থেকে বলা হয়।

প্রসঙ্গত সর্বশেষ ২০১২ সালের ১ সেপ্টেম্বর দেশে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছিলো। সেসময়  সময় দাম বাড়ানো হয় খুচরা ১৫ শতাংশ এবং পাইকারিতে প্রায় ১৭ শতাংশ।

এর আগে ২০১১ সালে ১ ফেব্রুয়ারি পাইকারিপর্যায়ে ১১ শতাংশ এবং খুচরাপর্যায়ে ৫ শতাংশ দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। ওই বছরের ১ আগস্ট পাইকারিপর্যায়ে কার্যকর হয় ৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ। মাত্র তিন মাসের মাথায় ১ ডিসেম্বর খুচরাপর্যায়ে ১৩ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং পাইকারিপর্যায়ে ১৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়।

আর এর কাছাকাছি সময়ে ২০১০ সালের ১ মার্চ ৬ দশমিক ৭ শতাংশ দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়।