মিল গোডাউনেই পড়ে আছে চিনি, বেতন নেই হাজার কর্মকর্তা-শ্রমিকের

0
67

Jhenidah Sugar Mil Photo 01দেশের চিনি খাতের শনি যেন যাচ্ছেই না। চিনি বিক্রি না হওয়ায় আটকে যাচ্ছে শ্রমিক কর্মচারিদের বেতন ভাতা। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের মোবারকগঞ্জ চিনিকলের গোডাউনে ৬৫ কোটি টাকার চিনি অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে থাকায় বেতন ভাতা দেওয়া যাচ্ছে না প্রায় সাড়ে ১১শ শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারির।

সাপ্লাই, ঠিকাদার বিলও আটকে আছে অনকে টাকার। বিলের টাকা না পাওয়ায় প্রতিদিন শতশত আখচাষী ভীড় করছেন মিলের সামনে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, চলতি ২০১৩-১৪ আখ মাড়াই মৌসুমে গত রোববার পর্যন্ত ৭ হাজার ৫৪৬ মেঃ টন চিনি উৎপাদন হয়েছে। যার মূল্য ৩০ কোটি ১৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এছাড়া ২০১২-১৩ মৌমুসের ৮ হাজার ১৬৮ মেঃ টন চিনি মজুদ রয়েছে। যার মূল্য প্রায় ৩২ কোটি ৬৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এছাড়া ২০১১-১২ মৌসুমের ১ কোটি ৫২ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যে আরো ৩৮১ মেঃ টন চিনি মিলের গোডাউনে পড়ে রয়েছে। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত মিলের গোডাউনে প্রায় ৬৫ কোটি টাকার চিনি অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে আছে।

মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (কৃষি) মোশাররফ হোসেন জানান, খোলা বাজারের চিনির চেয়ে মিলের চিনির মূল্য বেশি থাকায় মিলের চিনি বিক্রি হচ্ছে না। সরকার যখন মিলের চিনির মূল্য কমিয়ে ৪০ টাকা করেছে, সে সময় বাজারে ৩৮ টাকা কেজি দরে দোকানদারদের চিনি দোকানে পৌছিয়ে দেয়া হচ্ছে। যার কারনে মিলের চিনি বাজারে বিক্রি হচ্ছে না। চিনি বিক্রি না হওয়ার কারনে ১০ কোটি টাকার উর্ধ্বে আখচাষীদের পাওনা বিল মিল দিতে পারছে না। প্রতিদিন আখ বিক্রির টাকার জন্য চাষীরা মিল কর্তৃপক্ষকে চাপ প্রয়োগ করছে।

এছাড়া মিলে কর্মরত ৫৩ জন কর্মকর্তাসহ প্রায় সাড়ে ১১শ শ্রমিক-কর্মচারি গত ২ মাস যাবৎ বেতনভাতা, অভার টাইম, ইনসেনটিভ (পরিবহন খরচ), ঠিকাদার ও সাপ্লাইয়ের বিল বকেয়া থাকার কথা স্বীকার করেছেন তিনি।

এ ব্যাপারে মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেন জানান, কর্মকর্তা কর্মচারিদের বেতন-ভাতা সব দিতে পারেনি। খুবই সমস্যায় আছি। এছাড়া আখচাষীদের আখ বিক্রিরও অনেক টাকা বকেয়া রয়েছে। তা দিতেও পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। গাড়ীর মধ্যে থাকার কারনে কি পরিমান চিনি অবিক্রিত রয়েছে এবং শ্রমিক কর্মকর্তা-কর্মচারি ও আখচাষীরা বিল বলে তা তিনি জানাতে পারেননি।

এদিকে বাংলাদেশ আখ চাষী সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আনসার আলী দুলাল এভাবে চিনি অবিক্রিত পরে থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তিনি খাতটিতে কর্তৃপক্ষের যথাযথ দৃষ্টি কামনা করেন এবং চাষীদের বকেয়া বিল পরিশোধের ব্যপারে উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া যথাসময়ে পাওনা পরিশোধ না করা হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ারও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি।