১৫ দিনের মধ্যেই ভল্টের নিরাপত্তা

0
62

Sonali-prodipআগামি ১৫ দিনের মধ্যেই সোনালী ব্যাংকের সকল শাখার ভল্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রদীপ কুমার দত্ত। বিশেষ করে ভাড়া বাসার নিচের তলায় অবস্থিত শাখাগুলোতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বুধবার সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া বিষয়গুলো নিয়ে অর্থসূচকের সাথে একান্ত আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রদীপ কুমার দত্ত বলেন, কিশোরগঞ্জ ও আদমদীঘি শাখার বিচ্ছিন্ন দুটি ঘটনার পর অন্য যেকোন চুরি বা অর্থ লুটের ঘটনা প্রতিরোধে সব গুলো শাখার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশেই এটি করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা আধুনিকায়নের মধ্যে রয়েছে ভল্টের অভ্যন্তরে এবং ব্যাংক ভবনের ভেতরে ও বাইরে নাইট ভিশন সিসি ক্যামেরা স্থাপন, ভল্টে সার্বক্ষণিক সিকিউরিটি অ্যালার্ম সিস্টেম চালু করা, ১৫ দিনের মধ্যেই সব ভল্টে কংক্রিটের দে্ওয়াল নির্মাণ ও মেঝে ঢালাই করে স্টিল প্লেট সংযুক্ত করা।

প্রদীপ কুমার জানান, ইতোমধ্যে শাখার নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য কয়েকটি বেসরকারী সিকিউরিটি কোম্পানির সাথেও আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি শাখার সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকির জন্য চিফ সিকিউরিটি অফিসার হিসেবে একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা নিয়োগের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

ভল্টের বিমা

গত ২৫-৩০ বছর থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত কোনো ব্যাংকের ভল্টের বিমা করা নেই। ব্যাংকগুলোতে এর আগে বড় কোনো চুরির ঘটনাও ঘটেনি। তাছাড়া এসব বিমার প্রিমিয়ামও তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। আর কোনো প্রতিষ্ঠান বিমার টাকা পরিশোধ করবে তা নিয়েও রয়েছে অনেক ঝামেলা। এসব কারণে সরকারি আদেশের প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে কোনো বিমা করা হয় না বলে জানা গেছে।

কিশোরগঞ্জে সোনালী ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা চুরির ঘটনায় সোনালী ব্যাংকের ভল্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখতে পর্যবেক্ষণে নামে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত কয়েকদিন আগে সোনালী ব্যাংকের ভল্টের বিমা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদন দাখিল করে ব্যাংকগুলো নিয়ন্ত্রক এ সংস্থা। প্রতিবেদনে ভল্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে করনীয় সম্পর্কেও বলা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে প্রদীপ কুমার দত্ত বলেন, সোনালী ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের ট্রেজারার হিসেবে কাজ করে। এ জন্য আশপাশের সব ব্যাংকের টাকা সোনালী ব্যাংকে জমা থাকে। ট্রেজারি কাজ করার সুবাদে প্রতিবছরই তিনটি সংস্থা (ফায়ার বিগ্রেড, পুলিশ ও সিভিল ডিফেন্স) ভল্টের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে প্রতিবেদন দেয়। আর এসব সংস্থার প্রতিবেদন সাপেক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদন দেয়। তাই বিমা করার ক্ষেত্রে তাদেরও কিছু দায়িত্ব আছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাথে এ ব্যাপারে আলোচনার প্রয়োজন আছে।বিমার একটা অংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকেই বহন করতে হবে বলে তিনি জানান।

এসএই/